দলীয় প্রার্থীর মদতে গ্রামে ঢুকে মহিলাদের উপর হামলা ও এক শিশুর মাথা ফাটানোর অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে ইন্দাসের মঙ্গলপুর অঞ্চলের বেহার গ্রাম। জখম শিশুকে সামনে রেখে ইন্দাস থানার সামনে বিক্ষোভে শামিল হয় তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মঙ্গলবার বিষ্ণুপুর আদালতে তোলা হবে।
তৃণমূলের অভিযোগ, ইন্দাসের বিজেপি প্রার্থী নির্মল কুমার ধারা সোমবার বিকেলে দলীয় কর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে গ্রামে ঢুকে সন্ত্রাস চালায়। গ্রামের মহিলাদের বেধড়ক মারধর করার পাশাপাশি ৭ বছরের বয়সি এক শিশু কন্যার মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ভোটের (West Bengal Assembly Election) মুখে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে জখম শিশুকে নিয়ে গিয়ে ইন্দাস থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা। মারধরের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, "দুপুরে আমরা খেতে বসেছিলাম। হঠাৎ বিজেপির লোকেরা মদ খেয়ে লাঠি, ইট-পাথর, বোতল নিয়ে হামলা চালায়। তৃণমূল নেতা বল্টু মাঝিকে বাড়ি থেকে বার করতে বলে হুমকি দেয়। আমাদের বাড়িতে ভাঙচুর করে। তখনই আমাদের ৭ বছরের মেয়ের মাথা ফাটিয়ে দেয়। পুলিশ সামনে থাকলেও আমাদের সাহায্য করেনি, উল্টে বাড়ির ভিতরে ঠেলে দেয়।”
ইন্দাস ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শেখ হামিদ বলেন, "কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঢাল করে বিজেপি সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে চাইছে। মহিলাদের উপর হামলা, শ্লীলতাহানি এবং শিশুর রক্ত ঝরানো—এটাই ওদের রাজনীতি। আমরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনেও বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছয়-আটজন মহিলাকে মারধর ও অপমান করা হয়েছে। ঘটনার জেরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে ইন্দাসে ‘ভোট সন্ত্রাস’ ইস্যুতে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি প্রার্থী নির্মল কুমার ধারা। তিনি জানান, গোটা ঘটনাই তৃণমূলের পরিকল্পিত চক্রান্ত। বিজেপির প্রচারের গাড়ি আটকানো হয়েছিল। পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়। বিশৃঙ্খলার মধ্যে কেউ জখম হয়ে থাকতে পারে। বিজেপির কেউ হামলা চালায়নি বলে দাবি করেছেন নির্মল। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান।
