ভোটের মুখে প্রশাসনিক পদের আগাপাশতলা বদলে দিয়েছে কমিশন। ইচ্ছেমতো পুরনো অফিসারদের বদলি, ভিনরাজ্য থেকে আধিকারিকদের নিয়ে এসে বসানো হয়েছে বাংলার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে। 'নিরপেক্ষতার দোহাই' দিয়ে ভোটের মুখে বাংলার প্রশাসনিক রদবদলকে বিজেপির 'ব্যাকডোর পলিটিক্স' বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। আবারও সেই অভিযোগ সিলমোহর দিল খোদ শাসকদল। উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক বিবেক কুমারের বাবার পরিচয় সামনে এনে 'বিজেপির লোক' বলে ব্যাখ্যা তৃণমূলের।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ জানান, "বিবেক কুমারের বাবা বীরেন্দ্রকুমার সিং বিজেপির জোটসঙ্গী জেডিইউ দলের বিধায়ক এবং ঔরঙ্গাবাদের প্রাক্তন সাংসদ। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, "বাংলার মতো সংবেদনশীল রাজ্যে বিজেপির লোক বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে যাঁদের বসানো হচ্ছে, তাঁরা কেউ নিরপেক্ষ নন।"
ভোটের সময় ডিএম-রাই কার্যত সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। প্রার্থীদের মনোনয়ন তদারকি, ভোটারের যোগ্যতা সংক্রান্ত বিতর্কের মীমাংসা, ভোটকেন্দ্রের প্রশাসন পরিচালনা করা সহ শেষপর্ষন্ত জেলাশাসকরাই বিচার করেন প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধতা। অর্থাৎ গোটা ভোটপ্রক্রিয়ায় বিরাট ভূমিকা পালন করেন জেলাশাসকরাই।
প্রসঙ্গত, জেলাশাসক হলেন একটি জেলার প্রধান প্রশাসনিক, রাজস্ব ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী কর্মকর্তা। ভোটের সময় যাঁর কাঁধে থাকে গুরু দায়িত্ব। ভোটের সময় ডিএম-রাই কার্যত সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। প্রার্থীদের মনোনয়ন তদারকি, ভোটারের যোগ্যতা সংক্রান্ত বিতর্কের মীমাংসা, ভোটকেন্দ্রের প্রশাসন পরিচালনা করা-সহ শেষপর্ষন্ত জেলাশাসকরাই বিচার করেন প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধতা। অর্থাৎ গোটা ভোটপ্রক্রিয়ায় বিরাট ভূমিকা পালন করেন জেলাশাসকরাই। এখানেই বিজেপির সঙ্গে কমিশনের 'আঁতাঁতের' অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করে শাসকশিবির।
উল্লেখ্য, এর আগে তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে মালদহের পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্তকে সরাতে বাধ্য হয়েছে কমিশন। দু'দিন আগেও বালিগঞ্জ, মধ্যমগ্রাম, গাজোল, বনগাঁ দক্ষিণ, এই চার কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বলে, সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলে ঘাসফুল শিবির। ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই আরও এক প্রশাসনিক কর্তার 'রাজনৈতিক যোগ' সামনে। ষড়ষন্ত্রের অভিযোগ তুলে কমিশনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি রাজ্যের শাসকদলের।
