২০২৪ সালের ৯ আগস্ট, আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয় তরুণী চিকিৎসকের দেহ। তার প্রতিবাদে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে আছড়ে পড়ে আন্দোলনের ঝড়। দ্রোহের আবহে রাজনৈতিক গুরুত্ব পায় 'শিরদাঁড়া'। তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের হাতে একটি প্রতীকী শিরদাঁড়াও দিয়ে আসেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা।
ধর্মতলায় জুনিয়র চিকিৎসকদের অনশন মঞ্চ থেকে পুলিশকে আক্রমণ করে শিরদাঁড়া নিয়ে স্লোগানও ওঠে। সেই 'শিরদাঁড়া'কেই এবার প্রচারের হাতিয়ার করলেন অভয়ার মা। আবার পুলিশের হাতে তুলে রবিবাসরীয় প্রচারে শাড়ির পাড়ে 'মেরুদণ্ড বিক্রি নেই' লিখে প্রচার সারেন তিনি। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন। তবে তাঁর এই প্রচার কৌশল নিয়ে নানা মহলে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
পানিহাটিতে প্রচারে বেরিয়ে ভোটারদের পা ছুঁয়ে প্রমাণ করেন অভয়ার মা। বলেন, তিনি বলেন, "মানুষের প্রচুর সমর্থন আছে। কিন্তু মানুষের অনেক অভিযোগও রয়েছে। এই যে নিকাশি ব্যবস্থা ভালো নেই। সবসময় জল জমে থাকে, এসব নিয়ে মানুষের অনেক অভিযোগও রয়েছে। মানুষ আমার মেয়েকে ভোলেননি। আমি ওঁদের অভয় দিয়ে বলছি, আপনারাও বেরবেন। আমি জিতব মানে পানিহাটির বাসিন্দারা জিতবেন। বিচার তো আমি আদালতেই পাব। বিচারের জন্য মানুষকে পাশে থাকতে হবে।" এদিন তাঁর প্রচারে ছিলেন প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও।
গত কয়েকটি নির্বাচনে মোটেও আশানুরূপ ফল করতে পারেনি বিজেপি। ছাব্বিশের নির্বাচন তাদের কাছে 'ডু অর ডাই' ম্যাচের মতো। তবে তা সত্ত্বেও সাংগঠনিক দিক থেকে তারা তেমন প্রস্তুত নয় বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। আবার এসআইআর নিয়েও তারা বেশ চাপে। সে কারণে প্রার্থী বাছাইয়ে কিছু চমক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। পানিহাটিতে জয় পাওয়ার ক্ষেত্রে আর জি কর আবেগকেই হাতিয়ার করতে চাইছে বিজেপি। মনে করা হচ্ছে, সে কারণেই অভয়ার মায়ের প্রচারে একটাই অস্ত্র নারী নির্যাতন। আর সেই কৌশলের অংশ হিসাবেই শাড়ির পাড়ে 'মেরুদণ্ড বিক্রি নেই' স্লোগান বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।
