বিহারের ভোটার তালিকায় নাম থাকা চার বিজেপি ভোটারের তথ্য তুলে ধরে গেরুয়া চক্রান্ত ফের ফাঁস করল তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা থেকে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে এসে অবৈধভাবে মোদি-শাহরা রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম ঢুকিয়ে বাংলা দখল করতে চাইছে বলেও তোপ দাগলেন ব্রাত্য বসু ও ডেরেক ও’ব্রায়েন।
তৃণমূলের অভিযোগ, ফের বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে ভুয়ো ভোটার। নেতাজি ইন্ডোর থেকে ২০২৫ সালে নির্বাচন কমিশনের যে কারচুপির অভিযোগ স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখনও সেই চেষ্টা বিজেপি চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। একই সঙ্গে দলের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্রাত্য বলেন, প্রতিটি ভুয়ো ভোটারকে ধরতে তৃণমূলের হাজার হাজার কর্মী বুথে বুথে কাজ করছেন।
বিজেপির নির্দেশে মহারাষ্ট্র, দিল্লির নির্বাচনে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়ে নির্বাচন করেছিল নির্বাচন কমিশন, সেই তথ্য আগেই তুলে ধরেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট (Bengal Election 2026) মুখী বাংলায় বিজেপির আনা ফর্ম ৬-এর বিরোধিতায় এদিন সুপ্রিম কোর্টে সওয়ালের সময় ভুয়ো ভোটারের তথ্য পেশ করেছে তৃণমূল। এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক থেকে একাধিক বিহারের ভোটারের তথ্য তুলে ধরেন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ব্রাত্য দাবি করেন, যে ভুলগুলি নির্বাচন কমিশনের ধরার কথা সেগুলি তৃণমূলকে ধরতে হচ্ছে। তারা টুইট করতে ব্যস্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার সতর্ক করেছেন। তারপরেও গাদা গাদা ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়ে বাংলাকে দখল করার চেষ্টা করছে। তবে এই চক্রান্ত রুখতে প্রস্তুত তৃণমূল কংগ্রেস।
তথ্য তুলে ধরে ব্রাত্য দাবি করেন, ভাববেন না যে মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে আমরা কোথাও চলে যাব। আমরা মাটি কামড়েই পড়ে থাকব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে নির্বাচনী সভা করছেন, প্রার্থীদের নির্বাচনী রুটিন ঠিক করছেন। অন্যদিকে, বিজেপির চক্রান্তের বিরুদ্ধে মরিয়া হয়ে লড়তে হচ্ছে। আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজ্যজুড়ে সভা করছেন। বিজেপি ভাবছে ওঁরা দুজন সভা করছে, আমরা এই ফাঁকে নামগুলো মসৃণভাবে ঢুকিয়ে দেব। শুনুন ভাই, আমরা সবাই সজাগ, সতর্ক আছি। দেশের একাধিক রাজ্যে নির্বাচন কমিশন যেভাবে বিজেপিকে জেতাতে ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়েছে, সেই পথেই বাংলাতেও চেষ্টা হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে কমিশনকেও কড়া বার্তা দেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
ব্রাত্যর সতর্কবার্তা, "জেনে রাখবেন নির্বাচন কমিশনার, আমরা এরকম প্রত্যেক মুহূর্তে জেগে রয়েছি। তৃণমূল কংগ্রেসের হাজার হাজার কর্মী এটা ধরার জন্য বসে রয়েছে। এটা বিহার, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা নয়। কতগুলো জালিয়াত ভোটার আপনারা ঢোকাচ্ছেন তা ভারতের জাতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরব আমরা। গোটা বিশ্বকে আমরা জানিয়ে দেব, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে বিজেপি।
