নতুন করে অশান্ত ফলতা! দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (Assembly Elections 2026) শেষ হতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। ভোট-পরবর্তী অশান্তির জেরে শুক্রবার হাশিমনগর এলাকায় চরম উত্তেজনা। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল বিজেপি কর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের দিন থেকেই হাশিমনগর-সহ একাধিক এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। বিজেপির দাবি, তাদের বহু কর্মী ও সমর্থককে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি বুথে ঢুকতেও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদেই ভোট শেষের পর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত প্রধানের নেতৃত্বে কিছু দুষ্কৃতী বিজেপি কর্মীদের উপর চড়াও হয় ও তাঁদের ব্যাপক মারধর করা হয়। একাধিক কর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি বিজেপির। এই ঘটনার জেরে ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। প্রতিবাদে হাশিমনগর এলাকায় ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ বিজেপি সমর্থকরা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ফলতা থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতেই ঘটনাস্থলে হাজির হন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিশেষ পর্যবেক্ষক আইপিএস অজয়পাল শর্মা। সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। প্রশাসনের তরফে বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা। তিনি আহত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দেবাংশুর অভিযোগ, "পরিকল্পিতভাবে বিজেপি কর্মীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে।" পুনর্নির্বাচনের দাবিও তোলেন তিনি। অন্যদিকে, কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "এই অশান্তির সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।"
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতেই ঘটনাস্থলে হাজির হন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিশেষ পর্যবেক্ষক আইপিএস অজয়পাল শর্মা। সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। প্রশাসনের তরফে বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন। প্রসঙ্গত, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই রয়েছে ৩২টি বুথ। রাজনৈতিক চাপানউতোর এখনও জারি রয়েছে এলাকায়, আর পুনর্নির্বাচনের দাবি ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
