কোচবিহারে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই চাপা ক্ষোভ সামনে আসছিল। এবার সেটাই প্রকাশ্যে এল। কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে সিপিএম প্রার্থী প্রণয় কার্জির নাম আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার সেই কেন্দ্রে ফরওয়ার্ড ব্লকের পক্ষ থেকে পঞ্চানন রায় মনোনয়নপত্র জমা দিলেন। স্বাভাবিকভাবে ওই বিধানসভা কেন্দ্রে এখন বামেদের দুই প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন। তবে শুধু বামফ্রন্টের প্রার্থীই নয়, এদিন দিনহাটায় মহকুমা শাসক কার্যালয় সিতাই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী আশুতোষ বর্মা নিজের মনোনয়নপত্র জমা করেন।
আশুতোষ গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের বংশীবদন বর্মন গোষ্ঠীর নেতৃত্ব হিসেবেই পরিচিত। তবে যেহেতু ওই আসন এবার বংশীবদন বর্মনের জন্য ছেড়ে দিয়েছে বিজেপি, তাই সেখানে এবার পদ্মপ্রতীকে বংশীঘনিষ্ঠ আশুতোষকে প্রার্থী করা হয়েছে। অপরদিকে কোচবিহার জেলার আটটি বিধানসভা কেন্দ্রে এদিনই মনোনয়নপত্র জমা করেছেন কংগ্রেসের প্রার্থীরা। কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী খোকন মিয়া এবং কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের দলের প্রার্থী পার্থপ্রতিম ঈশোর জেলা কংগ্রেস
কার্যালয়ে থেকে মিছিল করে দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মহকুমা শাসক কার্যালয় পৌঁছান এবং সেখানেই নিজের মনোনয়নপত্র জমা করেন। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ সরকার তুফানগঞ্জ মহকুমা শাসক কার্যালয়ের নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা করেছেন।
তবে কোচবিহার উত্তর বিধানসভা নজার মনোনয়ন প্রার্থী দিয়ে আসছে। হঠাৎ কেন্দ্রে বাম জোট ভেস্তে যাওয়া প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা ফরওয়ার্ড ব্লকের সভাপতি দীপক সরকার বলেন, ওই কেন্দ্রে গত সাত ধরে ফরওয়ার্ড ব্লক করে সেখানে সিপিএম নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সেটা দলের কর্মী সমর্থকরা মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই সেখানে পঞ্চানন রায়কে দাঁড় করানো হয়েছে। যদি দলের পক্ষ থেকে প্রতীক দেওয়া হয়, তাহলে তিনি প্রতীক চিহ্নে দাঁড়াবেন। নাহলে নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদিও বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি সিপিএম। জেলা সিপিএমের সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, বামফ্রন্ট গতভাবে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবার সেখানে ফরওয়ার্ড ব্লক যেহেতু আলাদাভাবে প্রার্থী ঘোষণা করল। তাই জেলার অন্যান্য কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী দেবে কিনা সেই বিষয়ে বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে।
