ঘুমও যে প্রতিবাদ হতে পারে কে জানত! চিনে ঘটেছে এই আজব কাণ্ড। বেতন নিয়ে অসন্তুষ্ট এক মহিলা কর্মী বসকে ‘শিক্ষা দিতে’ কর্মস্থলেই পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটালেন। বাংলা প্রবাদ যেমনটা বলে--- যেমন গুড় দেবে, তেমন মিষ্টি, একথাই প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিলেন ওই তরুণী। তিনি স্পষ্ট করে দেন, যেমন বেতন পান, তেমন কাজ করবেন। অতিরিক্ত পরিশ্রম করবেন না। চিনের তরুণীর এই কাণ্ড সমাজমাধ্যমে হইচই ফেলে দিয়েছে। হয়তো বা অনেকের চাপা ইচ্ছেই তিনি পূরণ করেছেন। কিন্তু প্রতিবাদের ফল কী হল?
একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্য চিনের বাসিন্দা ওই তরুণী। হেনান প্রদেশের শাংকিউয়ের একটি সংস্থায় কাজ করেন। কম বেতনের কারণে মালিকের পক্ষের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে সংস্থার কর্তারা খারাপ ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ তাঁর। এর প্রতিবাদেরই সম্প্রতি কর্মস্থলে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটান। যদিও এমন কাণ্ড করায় ফল পাননি তরুণী। উলটে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হুমকি দিয়েছে, ভবিষ্যতে কর্মস্থলে ঘুমোনোর মতো কাজ করলে তাঁকে বরখাস্ত করা হবে।
একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্য চিনের বাসিন্দা ওই তরুণী। হেনান প্রদেশের শাংকিউয়ের একটি সংস্থায় কাজ করেন।
বসের হুমকি পেয়েই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন চিনা তরুণী। সেখানে তিনি জানান, “আমাকে চোখের জল ফেলতে হয়েছে। তবে আমি চাকরি ছাড়ব না। আমি বসকে বুঝিয়ে দেব, আমাকে যে পরিমাণ বেতন দেওয়া হয়, সে পরিমাণ কাজ করলে কেমন লাগে।” তরুণী আরও বলেন, ‘‘যাঁরা আমার সমালোচনা করছেন, তাঁরা আমার মতো এত কম বেতন পাওয়া মানুষদের কষ্ট বোঝেন না।’’
তরুণীর কাণ্ডে সোশাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই তাঁকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘আপনাকে কম বেতন দিলে আপনিও কম কাজ করতেই পারেন। প্রতিটি সংস্থার উচিত কাজ অনুযায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়া।’’ অন্যরা বলছেন, “একজন কর্মী দিনে আট ঘণ্টা কাজ করেন। অতএব, ঘুমের জন্য পাঁচ ঘণ্টা, দুপুরের খাবারের সময় এবং শৌচাগারে যাওয়ার সময় বাদ দিলে, তরুণী দু’ঘণ্টারও কম সময় কাজ করবেন। আপনার বেতন নিশ্চয় এতটাও কম নয়।’’
