বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর! তাই স্বয়ং দেবাদিদেবের দর্শন পেতে আগ্রার এক সাধারণ গৃহস্থ বাড়িতে নেমেছে ভক্তের ঢল। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে কেবল ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি। ভিড় সামলাতে নাকানিচোবানি খাচ্ছেন গৃহস্থ নিজেই। কীভাবে হল এমনটা? গোড়ার থেকে বলা যাক তবে।
ঘটনা কয়েকদিন আগের। ফ্রিজ পরিষ্কার করতে গিয়ে ডিপ ফ্রিজার অংশটি খুলতে পরিবারের কোনও এক সদস্যের চোখে পড়ে, ভিতরে এক অস্বাভাবিক বরফের আকৃতি। ডিপ ফ্রিজারের মেঝে থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বরফখণ্ডটি, খানিক যেন শিবলিঙ্গের ঢঙে। এই ঘটনা বিস্মিত করেছে পরিবারটিকে। বিস্ময়ের কথা তাঁরা জানিয়েছেন প্রতিবেশীদের। আর এতেই দ্রুত মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে এমন কথা যে আগ্রাবাসী পরিবারটির ফ্রিজের মধ্যে অবস্থান করছেন স্বয়ং মহাদেব (Ice Shivling)!
ফ্রিজের ভিতরে থাকা বরফখণ্ডটির তুলনা সরাসরি বাবা বরফানির সঙ্গে করা হচ্ছে।
অল্প সময়ের মধ্যে সেখানে ভিড় করতে থাকেন কৌতূহলী জনতা। দেখতে দেখতে সাধারণ গৃহস্থ বাড়িটি হয়ে ওঠে জনসাধারণের উপসনাস্থল। কেউ প্রণাম করেন, কেউ জলাভিষেক করেন, কেউ আবার ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি তুলে পুজো নিবেদন করে বসেন সেখানেই।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন অমরনাথ যাত্রা চলছে। সেই কারণে অনেকেই ফ্রিজে জমে ওঠা বরফের আকৃতির সঙ্গে অমরনাথ গুহার প্রাকৃতিক বরফের শিবলিঙ্গ, বাবা বরফানির তুলনা টানছেন। বাবা বরফানির গলনের সঙ্গে সঙ্গেই ফ্রিজের ভিতর পুনরুজ্জীবিত হয়েছেন তিনি, এ কথা ফিরছে লোকমুখে। এমনকী সোশাল মিডিয়াতেও তুমুল ভাইরাল হয়েছে এ খবর।
তবে তারই সঙ্গে জন্ম নিয়েছে হাজারও বিতর্ক। অনেকেই দাবি করছেন, বিজ্ঞান ব্যতীত অন্য কোনও ধর্মীয় ব্যখ্যা হতেই পারে না। তাঁদের মতে, বরফখণ্ডটি নেহাতই এক ‘স্ট্যালাগমাইট’, ডিপ ফ্রিজারের ভিতরে হওয়া কোনও গোলযোগের কারণে বিন্দু বিন্দু জল পড়েছে ছাত থেকে। যা জমে এমন বরফখণ্ড তৈরি হয়েছে। মিস্ত্রী ডেকে ফ্রিজ সারালেই সমস্যাটির সমাধান সম্ভব। এর সঙ্গে ধর্মীয় অলৌকিকতার কোনও সম্পর্ক নেই।
