কথায় বলে বয়সের গাছ-পাথর নেই। বনস্পতির দীর্ঘজীবীতার কারণেই এই প্রবাদের উৎপত্তি। যাকে প্রমাণ করল মুঙ্গেরের আইটিসি ক্যাম্পাসে প্রায় একশো বর্গমিটার জমি জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বটবৃক্ষ। ৬০ ফুট উঁচু বটগাছটির আনুমানিক বয়স অন্তত ৭০০ বছর। লখনৌয়ের বীরবল সাহানি ইনস্টিটিউট অফ প্যালিওসায়েন্স (বিএসআইপি)–র বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। জটাধারী সন্ন্যাসীর মতো দেখতে অসংখ্য ঝুরি নামানো গাছটিকে 'হেরিটেজ ট্রি'-র তকমা দিতে তোরজোর শুরু হয়েছে।
ভূভারতে বট এবং অশ্বত্থ গাছ বরাবর আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। নদী তীরবর্তী অসংখ্য মন্দির গড়ে উঠেছে এই দুই মহাবৃক্ষের ছায়াতলে। পুরান থেকে মহাকাব্য, সবখানে দেখা মিলেছে বনস্পতির। রামচন্দ্র দণ্ডকারণ্যে আশ্রয় নেন পাঁচটি বটগাছের সমন্বয়ে তৈরি 'পঞ্চবটী বনে', গৌতম বুদ্ধ বোধিলাভ করেন একটি অশ্বত্থ গাছের নিচে বসে তপস্যা করে। আইটিসি ক্যাম্পাসের বটগাছটি সেই পরম্পরার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে বিহার বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড রাজ্যের প্রাচীন গাছগুলি চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করে। প্রাথমিক ভাবে ৩২টি গাছকে নির্বাচিত করা হয়। সমীক্ষায় স্পষ্ট হয়--- আইটিসি ক্যাম্পাসের বিশাল বট গাছটি সবচেয়ে প্রাচীন। স্থানীয় প্রবীণরা দাবি করেন, ১৯৩৪–এ বিহারে যে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতে বহু গাছ নষ্ট হলেও এই গাছটির কোনও ক্ষতি হয়নি।
গাছের বয়সের বিষয়টি নিশ্চিত করতে গাছটির নমুনা সংগ্রহ করে তার রেডিও–কার্বন ডেটিং করা হয়। সেই কাজ করতে গিয়ে চমকে ওঠেন বিজ্ঞানীরা। বার বার পরীক্ষার পরে তাঁরা নিশ্চিত হন যে গাছটি অন্তত সাতটি শতাব্দী পার করেছে। হিসাব করলে এই গাছটি যখন জন্মেছিল তখন দিল্লিতে সবেমাত্র তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠা হয়েছে। গাছটি সুলতানি যুগের অবসান থেকে শুরু করে পাঠানদের কর্তৃত্ব, মুঘলদের উত্থান ও পতন, সিপাহি বিদ্রোহ, ইংরেজ শাসন— সবই দেখেছে।
এর পরেও পৃথিবীর প্রাচীনতম গাছের কাছে মুঙ্গেরের গাছটি নেহাত শিশু। বিজ্ঞানীদের মতে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার হোয়াইট মাউন্টেনস–এর একটি গ্রেট বেসিন ব্রিসলকোন পাইন হল চিহ্নিত আদিমতম বৃক্ষ। 'মেথুশিলা' নামে পরিচিত ওই গাছটির আনুমানিক বয়স প্রায় চার হাজার ৮০০ বছর। এই গাছটি আমেরিকান প্রশাসনের বিশেষ নিরাপত্তা পায়।
