shono
Advertisement
tyrian purple

১৭০০ বছর পুরনো সমাধিস্থ দেহের পোশাকে বেগুনি রং সোনার চেয়েও মূল্যবান! কেন এত দামি?

‘টিরিয়ান পারপেল’ নামের রঞ্জক নাকি প্রাচীন রোম-সহ সংশ্লিষ্ট সাম্রাজ্যগুলিতে মহামূল্যবান বলে গণ্য করা হত। অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তির প্রাচুর্যের পরিচায়কই ছিল তাঁর আয়ত্তে থাকা এই বিশেষ বেগুনি রঙে রঞ্জিত কাপড়।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 08:36 PM May 25, 2026Updated: 08:36 PM May 25, 2026

কাপড়ের রঞ্জকের দাম সোনার চাইতে বেশি— এমনটাও কি হতে পারে? আজ দাঁড়িয়ে অসম্ভব মনে হলেও প্রাচীন রোমে তেমনটা ছিল না। সত্যিই সোনার দ্বিগুণ দাম দিয়ে ধনী পরিবার কিনে নেওয়া যেত সামান্য পরিমাণ রঞ্জক!

Advertisement

দীর্ঘকাল ধরেই প্রাচীন রোম সামাজ্যের সমাধি নিয়ে গভীর চর্চায় ব্রতী হয়েছিলেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। বলা বাহুল্য, ধনী পরিবারের সদস্যদের সমাধিস্থ করার সময় ব্যবহার হত দামী পোশাক। শরীরের সঙ্গেই সমাধিস্থ করা হত বহু মহামূল্যবাণ সামগ্রীও। যদিও যে কোনও কাপড়েরই নির্দিষ্ট মেয়াদকাল রয়েছে। একটা সময়ের পর তা শতচ্ছিন্ন হয়ে মিশে যায় ধুলো-ছাইয়ের সঙ্গে। ফলে বহু যুগ আগের সমাধি খোলা গেলেও তার পরনের পোশাকটি সম্পর্কে ধারণা করা দুরূহ হয় গবেষকদের পক্ষে।

তবে এই বিশেষ রোমান সমাধিগুলি খতিয়ে দেখতে গিয়ে রীতিমত হতবাক হয়ে যান তাঁরা। দেহের সঙ্গে খুঁজে পান অদ্ভুত বেগুনি-রঙা কাপড়ের টুকরো! কী সেই কাপড়? জানা যাক বিশদে। মূলত রোমান ইয়র্কে শিশুদেহের সমাধি নিয়ে চলছিল এই গবেষণা। এই সময় দুটি প্রাপ্তবয়স্ক সমাধির মাঝে শায়িত এক শিশুর সমাধি খুঁজে পান তাঁরা। গণনা করে জানান, কফিনগুলির বয়স প্রায় ১৭০০ বছর। দীর্ঘকাল পাথরের কফিনে শায়িত ছিল সবক’টি দেহই। অনুমান করা হয়, দুই বছর বয়স নাগাদ মৃত্যু ঘটেছে শিশুটির। তাঁরা খুঁজে পান সীসার তৈরি অন্য একটি কফিনও, যার ভিতর একটিমাত্র শিশুদেহ, বয়স আনুমানিক কয়েক মাস।

দেহে লেগে থাকা পোশাকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করে চমকিত হন গবেষকরা। তাঁরা দেখেন, সোনার সুতোতে সেলাই করা হয়েছে পোশাকে, রঙ ধরানো হয়েছে বিশেষ ‘টিরিয়ান পারপেল’ (tyrian purple) ডাই দিয়ে। সূত্র মতে, এই ডাই ব্যবহার করতেন কেবলমাত্র সমাজের অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা। এই ‘টিরিয়ান পারপেল’ নামের রঞ্জক নাকি প্রাচীন রোম-সহ সংশ্লিষ্ট সাম্রাজ্যগুলিতে মহামূল্যবান বলে গণ্য করা হত। অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তির প্রাচুর্যের পরিচায়কই ছিল তাঁর আয়ত্তে থাকা এই বিশেষ বেগুনি রঙে রঞ্জিত কাপড়।

এক চিমটে রঙের জন্য সংগ্রহ করতে হত বহু সংখ্যক মিউরেক্স প্রজাতির শামুক। তাদের খোলা গুঁড়ো করে উজ্জ্বল বেগুনি রং তৈরি হত। স্বাভাবিকভাবেই, চাহিদা অনুযায়ী যোগান সম্ভব ছিল না। ফলে উত্তরোত্তর বেড়ে যেতে থাকে টিরিয়ান পারপেলের দাম। এক সময় তা এতটাই মূল্যবান হয়ে দাঁড়ায় যে তার তুলনায় কয়েকগুণ সস্তা হয়ে যায় সোনাও!

কী করে তা এতকাল অক্ষত রয়ে গেল, তার পিছনেও রয়েছে এক কাহিনি। সে সময়ে রোমদেশে মৃতদেহ সমাধির সময় লিকুইড জিপসাম ছড়িয়ে দেওয়ায় হত সর্বত্র। সময়ের সঙ্গে তা শক্ত পাথরের মতো অবস্থায় পৌঁছাত। খোলসের মতো আবৃত করে ফেলত মরদেহটিকে। ফলে ভিতরে থাকা যাবতীয় উপাদান টিকে থাকত দীর্ঘকাল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement