সোশাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সরদের হিড়িক! কেউ রুপটানের রকমফের শেখাচ্ছেন, তো কেউ ঘুরে দেখাচ্ছেন তাঁর সাতমহলা বাড়ি! কেউ সহজ রান্নার টোটকা শেখাচ্ছেন, কেউ আবার সর্বক্ষণই ভিউয়ারদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন তাঁর সদ্যোজাতের দুষ্টুমি। নেটজনতা যে সকলকে একই রকম পছন্দ করছে, তা নয়। তবু ফলোয়ার লিস্ট উপচে পড়ছে বেশিরভাগেরই।
আচ্ছা কেমন হবে, যদি দীর্ঘ দিন ধরে কোনও এক ইনফ্লুয়েনসারকে ফলো করার পর জানতে পারেন যে সে আসলে মানুষই নয়? উঁহু, এ কোনও ভূতের গল্প নয়! বরং যাবতীয় অন্ধবিশ্বাসের বিপরীতে থাকা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির গল্প। সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটি নাম ‘ব্রুতিকা প্যাটেল’ (Vrutika Patel)। লাবণ্যময়ী তন্বী সেই নারী কখনও সমুদ্র সৈকতে ছুটির আমেজে বসে রয়েছেন। কখনও আবার অঙ্গে জড়িয়েছেন শাড়ি। ছোট করে ছাঁটা চুল, গয়না মেক-আপও মানানসই। ইতিমধ্যেই ইন্সটাগ্রামে তাঁকে ফলো করেছেন লক্ষাধিক মানুষ। ফোটো পোস্ট করেই শেষ হয় না, তিনি ফলোয়ারদের কমেন্টের পৃষ্ঠে উত্তর দেন। বোঝার তিলমাত্র উপায় নেই যে বাস্তবে কোনও অস্তিত্বই নেই এই সুন্দরীর!
আজ্ঞে হ্যাঁ, ব্রুতিকা প্যাটেল চরিত্রটি আসলে সম্পূর্ণরূপে এআই দ্বারা তৈরি। অথচ দীর্ঘক্ষণ তাঁর প্রোফাইলটিকে দেখলেও মনে এমন প্রশ্ন আসবে না! প্রতিষ্ঠিত ইনফ্লুয়েনসার হিসেবে নিয়মিত ফোটো-ভিডিওতে মুখ দেখান তিনি। ব্র্যান্ড প্রোমশনের কাজও করে থাকেন, যা থেকে মাসে আয় করেন প্রায় ১ লক্ষ টাকা!
কিন্তু জানেন কি, এই প্রথম নয়! ২০১০ সাল থেকেই এমন বহু এআই ইনফ্লুয়েনসার ছড়িয়ে রয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। তাঁদের মধ্যে অনেককেই হয়তো ‘মিথ্যে’ বলে এখনও চিহ্নিতই করা যায়নি। এই প্রোফাইলগুলি থেকে যা আর্থিক উপার্জন হয়, তা আসলে যায় প্রোফাইল যারা হ্যান্ডেল করেন, তেমন ব্যক্তিদের কাছে। অর্থাৎ লাস্যময়ী কোনও তরুণী ভেবে যার সঙ্গে আপনি কথা বলছেন সোশাল মিডিয়ায়, তিনি বাস্তবে হয়তো কোনও মধ্যবয়সী পুরুষ!
কেবল অস্তিত্বহীন চরিত্র নয়, ইনস্টাগ্রামে চোখ রাখলে এখন প্রায়শই দেখতে পাওয়া যায় পরিচিত সেলিব্রিটিদের মুখ। স্টিল ফোটোর পাশাপাশি ভিডিও-ও। যেখানে তারা মুখ ফেরাচ্ছেন, কথা বলছেন, হাসছেন ফ্যানেদের উদ্দেশে। অথচ বাস্তবে এমন কিছুই ঘটেনি! এআই-এর সাহায্য নিয়ে অন্য কোনও মানুষের চেহারাকে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে হুবোহু অন্য কারও মতো!
আপাতভাবে এই ঘটনা মজার বলে মনে হলেও, বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, বলে মনে করছেন গবেষকরা। এআই দ্বারা তৈরি মানুষের ছবি দেখলে এখনও পর্যন্ত যত সহজে ‘ফেক’ বলে বোঝা যাচ্ছে, ততটা সহজ হয়তো থাকবে না আগামিদিনে। সত্যি মানুষের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ছেয়ে যাবে মিথ্যে মানুষেরা!
