সোশাল মিডিয়ায় চ্যাট করতে করতে প্রেম। সেখান থেকে বিয়ে এবং সুখে-শান্তিতে সংসার। এমন ঘটনা আকছারই ঘটে। কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় পছন্দ করা পাত্রটি যদি বিয়ের আসরে বদলে যায়? শুভদৃষ্টির সময়ে লাজুক হেসে তাকাতেই যদি কনে দেখেন, তাঁর জীবনসঙ্গী পালটে গিয়েছে? এমনটাই ঘটল উত্তরপ্রদেশে এক বিয়ের আসরে। সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে নাকচ করে দিলেন পাত্রী। তারপর দুপক্ষে হাতাহাতি। শেষ পর্যন্ত ভুয়ো পাত্রকে ভর্তি করতে হল হাসপাতালে।
ব্যাপারটা ঠিক কী? জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশে হরদোই জেলায় ঘটেছে পাত্রবদলের ঘটনাটি। গত ১২ মে চারহাত এক হওয়ার কথা ছিল। পাত্রী জানান, ইনস্টাগ্রামে তাঁর আলাপ হয়েছিল এক ব্যক্তির সঙ্গে। সেই ব্যক্তি নিজের পরিচয় দেন রাহুল মিশ্র হিসাবে। দু'জনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং তারপর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। জানা গিয়েছে, পাত্রী পেশায় আইনজীবী। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। বিয়ের কিছুদিন আগে ভোপাল থেকে উত্তরপ্রদেশে গিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে দেখাও করেন রাহুল।
তারপর মঙ্গলবার বিয়ের আসরে আচমকাই পাত্রবদল। বিয়ের আসরে এসে ওই তরুণী যখন আচার অনুষ্ঠান শুরু করেছেন, তখন বরের মুখ দেখে তাঁর চক্ষু চড়কগাছ। তাঁর পছন্দের রাহুল নন, বরের আসনে বসে রয়েছেন অন্য এক ব্যক্তি। সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে থামিয়ে ওই তরুণী জানিয়ে দেন, ভুয়ো পাত্রর সঙ্গে তিনি বিয়ে করবেন না। জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, পাত্রের নাম দেবেন্দ্র সিং পরিমর। দেবেন্দ্র জানান, তাঁর সঙ্গেই সোশাল মিডিয়ায় ওই তরুণীর কথা হত এবং তিনি ভুয়ো পাত্র নন।
৯ জনকে নিয়ে বিয়ে করতে এসেছিলেন দেবেন্দ্র। তাঁদের থাকার জন্য হোটেল বুক করেছিল কনেপক্ষ। সেখান থেকে বিয়ের আসরে পৌঁছয় বরযাত্রী। কিন্তু ভুয়ো পাত্রের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে যায় বিয়েবাড়িতে। অভিযোগ, তরুণীর বাড়ির লোকজন মারধর করেন দেবেন্দ্র এবং তাঁর সঙ্গীদের। গুরুতর আহত অবস্থায় দেবেন্দ্রকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। আপাতত গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
