রাতে দিব্যি বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন তরুণী, সকালে বেমালুম হাওয়া। পরিবর্তে শয্যায় পড়ে রয়েছে তরুণীর দৈর্ঘ্যের এক বিশাল সাপের খোলস। এ কোনো অদ্ভুতুড়ে কল্পকাহিনী নয়, চমকে দেওয়ার মতো এমন ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়া জেলার সিনগানপুর গ্রামে। বিষয়টি সামনে আসতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, 'মেয়েটি কোন সাধারণ মেয়ে নয়, ও আসলে ইচ্ছাধারী নাগিন।'
জানা গিয়েছে, এই ঘটনা ঘটেছে গত রবিবার রাতে। বছর কুড়ির ওই তরুণী সেদিন রাতে খাওয়া দাওয়ার পর নিজের ঘরে ঘুমোতে যান। পরদিন সকালে তাঁর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না মেলায় সন্দেহ হয় পরিবারের। ঘরে ঢুকে আশ্চর্য হয়ে যান মেয়েটির মা। দেখা যায়, বিছানার উপর মেয়ের পরনের পোশাক ও গয়না পড়ে রয়েছে। অথচ মেয়ের দেখা নেই। পরিবর্তে সেখানে আছে ৫ ফুট দীর্ঘ এক সাপের খোলস। এই ঘটনা সামনে আসতেই গ্রামে আতঙ্ক ছড়ায় রহস্যময় এই ঘটনায় অনেকেই দাবি করেন, মেয়েটি ইচ্ছাধারী নাগিনে রুপান্তরিত হয়েছে। এদিকে মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুলিশে খবর দেয় পরিবার। শুরু হয় তদন্ত।
পুলিশি তদন্তে অবশ্য নাগিন রহস্যের যাবতীয় জট ধীরে ধীরে খুলে যায়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তরুণীর। প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছাড়তেই যাবতীয় ষড়যন্ত্র রচনা করেন তরুণী। বাড়ির লোকজন যাতে নাগিন তত্ত্ব বিশ্বাস করে তার জন্য বেশ কিছুদিন আগে থেকেই তরুণী দাবি করেছিলেন তিনি প্রতিরাতে সাপের স্বপ্ন দেখছেন। ঘটনার দিন রাতে বাড়িতে সাপের খোলস এনে বিছানায় ফেলে রাখেন ও প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যান।
বাড়ির লোকজন যাতে নাগিন তত্ত্ব বিশ্বাস করে তার জন্য বেশ কিছুদিন আগে থেকেই তরুণী দাবি করেছিলেন তিনি প্রতিরাতে সাপের স্বপ্ন দেখছেন।
পুলিশ আধিকারিক অজয় কুমার জানিয়েছেন, "পুরো ঘটনা একেবারে সিনেমার মতো। বাড়ির লোককে বিভ্রান্ত করতে এই ছক কষা হয়। তরুণী ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরে সাপের খোলস ফেলে রেখেছিল। যাতে পরিবার ভাবে অলৌকিক কিছু একটা ঘটেছে। আমরা মেয়েটির ফোন ট্র্যাক করছি, শীঘ্রই তাঁকে খুঁজে বের করা হবে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তরুণীর খোঁজ শুরু হয়েছে।" পাশাপাশি গ্রামে ইচ্ছাধারী নাগিন নিয়ে যে গুজব শুরু হয়েছিল পুলিশি তৎপরতায় তা অবশ্য বন্ধ হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, "মেয়েটিকে খুঁজে বের করার পর ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। আশা করছি এর ফলে গ্রামের মানুষের কুসংস্কার দূর হবে।"
