ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসে লেখা হল নতুন ইতিহাস। দুই সৈনিকের হাত ধরে দেশে এল স্বর্ণপদক। রোয়িং বিশ্বকাপে সোনা জিতলেন লক্ষ্য এবং উজ্জ্বল কুমার সিং। এই প্রথমবার কোনও ভারতীয় সোনার পদক পেলেন রোয়িং বিশ্বকাপে। এহেন অভাবনীয় সাফল্যে দেশে রোয়িংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সুইজারল্যান্ডের লুসার্নে বসেছিল এবারের রোয়িং বিশ্বকাপের আসর। পুরুষদের লাইটওয়েট ডাবল স্কালস ফাইনালে ওঠে ভারতের লক্ষ্য-উজ্জ্বল জুটি। শনিবার খেতাবি যুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্স। একেবারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর সেকেন্ডের ভগ্নাংশের ব্যবধানে হংকংকে হারিয়ে দেন তাঁরা। ভারতীয় জুটি ফাইনাল শেষ করে ৬ মিনিট ২৬.৯ সেকেন্ডে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা হংকং সময় নিয়েছে ৬ মিনিট ২৭.১৪ সেকেন্ড। তৃতীয় স্থানে থাকা নেদারল্যান্ডস ৬ মিনিট ২৭.৩৬ সেকেন্ড সময় নিয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে এত হাড্ডাহাড্ডি ফাইনাল হয়নি রোয়িং বিশ্বকাপে।
রোয়িং বিশ্বকাপে ভারতীয় স্কোয়াডের প্রত্যেকেই স্থলসেনা বা নৌসেনার কর্মী। ১৮ জনের স্কোয়াডে ১৭ জনই স্থলসেনা জওয়ান। তাঁদের এই অনবদ্য সাফল্যের খবর জানানো হয়েছে সেনার তরফ থেকে। ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার রোয়িং বিশ্বকাপ থেকে পুরুষদের সোনার পদক-গর্বে ফুলেছে সেনার ছাতি। এই সাফল্যের পর দেশে রোয়িংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়বে বলে মনে করছেন সেনার রোয়িং বিভাগের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল রামকৃষ্ণন। তাঁর মতে, ভারতে রোয়িংয়ে প্রতিভার অভাব নেই। এই সাফল্য দেখে আরও অনেকে এই খেলাটা বেছে নেবে বলেই আশাবাদী তিনি।
যদিও রোয়িংয়ের এশীয় পর্যায়ে সাম্প্রতিক অতীতে বেশ ভালো পারফরম্যান্স ভারতের। স্কালস, পেয়ারসের মতো বিভাগে একাধিক পদক এসেছে। রোয়িং বিশ্বকাপে এতদিন পর্যন্ত ভারতের সাফল্য বলতে তিনটি ব্রোঞ্জ। ২০০৯ সালে মহিলাদের কোয়াড্রপল, ২০১৯ এবং ২০২২ সালে পুরুষদের প্যারা পেয়ারসের এসেছিল ব্রোঞ্জ পদক। এই প্রথমবার সেরার সেরা হল ভারত। খেলার দুনিয়ায় শুরু হল এক নতুন অধ্যায়।
