পরের মাসেই এশিয়ান গেমস। জাপানের আইচি শহরের স্কাই হল টয়োটায় আগামী ২০ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই প্রতিযোগিতা। তার আগে বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় টেবিল টেনিস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (Table Tennis Federation of India)। তাদের স্বীকৃতিকে আপাতত 'সাসপেন্ড' করেছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক। আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে অসংখ্য টেবিল টেনিস খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে। প্রশ্ন হল, কেন এশিয়াডের মতো প্রতিযোগিতার আগে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
ক্রীড়ামন্ত্রকের নির্দেশে বলা হয়েছে, টিটিএফআই-কে দেওয়া শোকজ নোটিসের জবাবও সন্তোষজনক হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, 'আন্তর্জাতিক সংস্থা আইটিটিএফের সঙ্গে পরামর্শের পর আইওএ উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে। টিটিএফআই-তে যথাযথ প্রশাসনিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা-সহ অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।'
টিটিএফআইয়ের প্রশাসনিক সমস্যা নিয়ে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ সালে ভারতের অন্যতম সেরা টেবিল টেনিস খেলোয়াড় মনিকা বাত্রা অভিযোগ করেছিলেন, জাতীয় কোচ সৌম্যদীপ রায় তাঁকে তাঁর ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণরত এক খেলোয়াড়কে সুবিধা পাইয়ে দিতে ম্যাচ ছেড়ে দিতে চাপ দিয়েছিলেন। এখানে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালে দিল্লি হাই কোর্ট টিটিএফআইয়ের কার্যকরী কমিটি স্থগিত করে প্রশাসনিক পরিস্থিতিকে 'দুঃখজনক' বলে মন্তব্য করেছিল।
২০২৬-এর গোড়াতেও ফের টিটিএফআইয়ে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর্থিক অনিয়ম এবং অনুমোদনহীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে সেক্রেটারি জেনারেল কমলেশ মেহতাকে সাসপেন্ড করেছিল ফেডারেশন। পরে দিল্লি হাই কোর্ট সেই সাসপেনশন খারিজ করলেও টিটিএফআইয়ের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি স্বীকার করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। সমস্যা আরও গুরুতর হয় এশিয়ান গেমসের দল নির্বাচনের সময়। জুনে মনিকা বাত্রাকে মূল দলে না রেখে রিজার্ভে রাখা হয়। ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় তাঁর অনুপস্থিতিকে কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছিল।
পালটা অভিযোগে মনিকা বলেন, টিটিএফআই নিজেদের নিয়ম ভেঙে সাত সদস্যের নির্ধারিত সীমার বদলে ন'সদস্যের নির্বাচন কমিটি ব্যবহার করেছে। আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য 'মানসিক শান্তির প্রয়োজনে'ই সেই বিরোধ থেকে সরে আসেন। এবার কেন্দ্রের কড়া পদক্ষেপে টিটিএফআইয়ের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল। দেশের টেবিল টেনিসের নিয়ন্ত্রণ আপাতত অ্যাডহক কমিটির হাতে চলে যাওয়ায়, স্থায়ী ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো ফেরানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
