পাকিস্তানের হকির অবস্থা তথৈবচ। বিদেশে গিয়ে চরম হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছিল তিনবারের অলিম্পিক সোনাজয়ীদের। সেই বেহাল দশা নিয়ে মুখ খুলে 'শাস্তি' পর্যন্ত পেতে হয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক আম্মাদ বাটকে। তাঁকে দু'বছরের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে হারের পর চরম চাপে থাকা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি পাক হকি দলের পাশে দাঁড়ালেন।
জানা গিয়েছে, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য ভারতীয় মুদ্রায় ৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান তথা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রী নকভি। তাছাড়াও অধিনায়ক বাটের শাস্তি প্রত্যাহারেরও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, সামনে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পর্বের ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। তার আগে 'নির্বাসন' কাঙ্ক্ষিত নয়। তার জায়গায় দলের ভুলচুক শুধরে নেওয়া দরকার। উল্লেখ্য, হকি দলের অধিনায়ককে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে নির্বাসিত করার পর বিতর্ক চরমে ওঠে। এই আবহে ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন পাকিস্তানের হকি ফেডারেশনের কর্তা তারিক বুগতি।
হকি দলের অধিনায়ককে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে নির্বাসিত করার পর বিতর্ক চরমে ওঠে। এই আবহে ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন পাকিস্তানের হকি ফেডারেশনের কর্তা তারিক বুগতি।
পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি পিএইচএফের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে অন্তবর্তীকালীন সভাপতি নিয়োগ করেন মহিউদ্দিন আহমেদ ওয়ানিকে। বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয় নকভিকেও। জানা গিয়েছে, তিনি ইতিমধ্যেই প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এমন অব্যবস্থার জন্য পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশও করেছেন নকভি। তিনি বলেন, "পাকিস্তানের সম্মানহানি যাতে না হয়, তা দেখতে হবে। সবার আগে এটা। কোনওভাবেই দেশের সম্মান নষ্ট হতে দিতে পারি না আমরা। এর সঙ্গে সমঝোতা সম্ভব নয়।"
জানা গিয়েছে, তিনি দ্রুত সমস্যা মেটানোর কথা বলেছেন। শনিবার থেকে মিশরে হকি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের জন্য নামবে পাকিস্তান। তার জন্য পিএইচএফকে শুক্রবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন নকভি। প্রয়োজনে ক্রিকেটের পরিকাঠামো ব্যবহার করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পিসিবি কর্তাদের। খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সকলের হাতে ১০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকার চেক তুলে দিয়েছেন তিনি। সোশাল মিডিয়ায় নকভি লিখেছেন, 'আমি পিএইচএফের সভাপতি হতে চাই না। তবে যত দিন না অচলাবস্থা মিটছে, তত দিন হকি খেলোয়াড়দের পাশে থাকব।' নেটিজেনদের কথায়, পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির, এমনকী প্রধানমন্ত্রীও পর্যন্ত পিসিবি চেয়ারম্যানের উপর ক্ষুণ্ণ। তাঁদের চোখে ভালো হওয়ার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নকভি। অনেকেই আবার কটাক্ষ করে বলছেন, টাকা দিয়ে খেলোয়াড়দের মুখ বন্ধ করার কৌশল নিয়েছেন তিনি।
