‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর খবরের জের। শেষ জাতীয় গেমসে বাংলার হয়ে পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের পুরস্কৃত করা নিয়ে উদ্যোগী হল রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তর। শনিবার সন্ধ্যায় নব মহাকরণে বিভিন্ন রাজ্য ক্রীড়া সংস্থার পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠকে সেই বার্তাই দিয়েছেন দপ্তরের আধিকারিকরা।
গত বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে শেষ জাতীয় গেমস। সেখানে সবমিলিয়ে ৪৭ পদক পেয়েছে বাংলা। গেমস শুরুর আগে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, সোনা-রুপো-ব্রোঞ্জের জন্য যথাক্রমে ৩ লক্ষ, ২ লক্ষ এবং ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। গেমস সমাপ্তির পরবর্তী এক বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা সেই সরকার এক টাকাও দেয়নি পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের। সূত্রের খবর, রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের প্রাপ্য অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল ‘যুবসাথী’র মতো জনমোহিনী প্রকল্পের জন্য। যার ফলে বঞ্চিত হতে হয় তাঁদের। গত শুক্রবার সেই খবর প্রকাশিত হয় ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এ। তারপরই নড়েচড়ে বসে রাজ্য সরকার। এদিন নতুন ক্রীড়া আইন কার্যকর করা প্রসঙ্গে রাজ্যের ক্রীড়া কর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয় ক্রীড়া দপ্তরে। সেখানেই চলতি মাসের মধ্যে বকেয়া পুরস্কারের অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস মিলেছে বলে খবর।
এ প্রসঙ্গে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চন্দন রায়চৌধুরি বলেন, “আগের সরকারের আমলে বহুবার বিওএ থেকে বকেয়া অর্থের বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও বলেছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। আজ বৈঠকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, দ্রুত ক্রীড়াবিদদের প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়া হবে।” সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান করে ওই ক্রীড়াবিদদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। চলতি মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠানটি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সময় দিলেই সবকিছু চূড়ান্ত করা হবে।
অন্যদিকে, নতুন ক্রীড়া আইন মেনে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার বিষয়েও রাজ্যের সব ক্রীড়া সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য বলা হয়েছে। ৪ আগস্ট এক চিঠিতে এই সংক্রান্ত কাজ ২৫ আগস্টের মধ্যে মিটিয়ে ফেলার কথা বলেছিল ক্রীড়া দপ্তর। কিন্তু এদিন বৈঠকে ক্রীড়া কর্তারা দু’টি বিষয় উল্লেখ করেন। প্রথমত, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থার জাতীয় ফেডারেশনের উপর অনেকটা নির্ভর করে। ফেডারেশনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয় রয়েছে এক্ষেত্রে। দ্বিতীয়ত, সোসাইটি অ্যাক্টে রাজ্য সংস্থার পরিবর্তিত সংবিধান নথিভুক্ত করাটা সময়সাপেক্ষ বিষয়। এই দুই বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ আগস্টের ‘ডেডলাইন’ নিয়ে অবস্থান বদলেছে ক্রীড়া দপ্তর। সংশ্লিষ্ট জাতীয় ফেডারেশনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সংবিধান সংশোধনের জন্য বলা হয়েছে সকলকে। পাশাপাশি সোসাইটি অ্যাক্টে নতুন সংবিধান রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও সরকারের তরফে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে চন্দনের বার্তা, “আইন যখন হয়েছে, সকলকে মানতেই হবে। ফলে তা দ্রুত মেনে নেওয়াই ভালো।”
