shono
Advertisement
Health Insurance

জীবনে সংকটময় মুহূর্তের 'সাথী', স্বাস্থ্য বিমা করার আগে জেনে নিন খুঁটিনাটি

একজনের বিল হল ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। অন্যজনের বিল হল ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। দুজনেই একই বিমা সংস্থার গ্রাহক। একজনের বিলের টাকা ভালভাবে মিটে গেল। অন্যজনের ক্ষেত্রে বিমা সংস্থা অনেক কিছু খোঁজখবর নিল, তাতে দেরি হল এবং বিল মেটানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হল।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 09:03 PM Jun 29, 2026Updated: 09:32 PM Jun 29, 2026

যখন একই চিকিৎসার বিল আলাদা হয়, চিকিৎসার স্বীকৃত মানদণ্ড কীভাবে রোগীদের কাছে স্বাস্থ্যবিমাকে সহজ করে তুলতে পারে? লিখছেন সিইও, হেলথ ইনসিওরেন্স ইকোসিস্টেম অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ, জেনারেল ইনসিওরেন্স কাউন্সিল ডা. এস প্রকাশ

Advertisement

অনেক রোগী ও তাদের পরিবার জীবনের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। মনে করুন, দু'জন ব্যক্তি আছেন। দু'জনেরই একই রোগ ধরা পড়েছে। তাদের আইসিডি কোডও এক। একই ক্যাটেগরির দুটি হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা হয়েছে মোটের ওপর প্রায় একই পদ্ধতিতে। একজনের বিল হল ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। অন্যজনের বিল হল ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। দুজনেই একই বিমা সংস্থার গ্রাহক। একজনের বিলের টাকা ভালভাবে মিটে গেল। অন্যজনের ক্ষেত্রে বিমা সংস্থা অনেক কিছু খোঁজখবর নিল, তাতে দেরি হল এবং বিল মেটানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হল। ইতিমধ্যেই চাপে থাকা ওই রোগী এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য তৈরি ছিলেন না। এমন ঘটনা কোনও অসঙ্গতি নয়। বরং, এটা বাস্তব জীবনের একটা সমস্যা যা নিয়মিত দেখা যায় ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে।

একই ব্যবস্থায় নানান বৈপরীত্য

ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা আয়তনে বিশাল, বহু বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এবং অনেক দিক থেকেই সেরা। এখানে রয়েছে বিশ্বমানের প্রতিভা ও পরিষেবা। আবার এই ব্যবস্থারই অপর দিকে রয়েছে বিশৃঙ্খল ও জবাবদিহিহীন পরিষেবা ব্যবস্থা যার জন্য জবাবদিহি চাওয়ার কোনও উপায় নেই। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ঐতিহ্যসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহ, ভিন্ন ধরনের ক্লিনিক্যাল দর্শন, নানা ধরনের সরঞ্জামের বিন্যাস এবং খরচের ভিন্ন কাঠামো-এ সবের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা মূলত প্রসারিত হয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। এর ফলে বিভিন্ন হাসপাতালে, বিভিন্ন অঞ্চলে, এমনকী একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্পেশালিটি বিভাগের মধ্যে একই রোগের চিকিৎসা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তফাৎ দেখা যায়। এই পার্থক্য নিছক তাত্ত্বিক নয়। এই পার্থক্যের ফলে বিলের পরিমাণ আলাদা হয়, বিমার দাবি আলাদা হয় এবং সবশেষে বিমা সংস্থা যে অর্থ মেটায়, তাতেও ফারাক ঘটে।

যে কোনও রোগীর পক্ষেই এই পার্থক্য বিরাট বিভ্রান্তির উৎস হয়ে দাঁড়ায়, কখনও কখনও দুর্ভোগেরও কারণ হয়। লোকে স্বাস্থ্যবিমা কেনে এটা ভেবে যে চিকিৎসার খরচের টাকা বিমা সংস্থা মেটাবে কোনও উদ্বেগ ছাড়াই। যখন বিমার কোনও দাবি আংশিকভাবে মেটানো হয়, যখন কোনও কোনও আইটেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, কিংবা কোনও একটা রোগের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতির চিকিৎসার জন্য একটা বিলের সঙ্গে অন্য বিলের সাদৃশ্য প্রায় থাকেই না, তখন গোটা ব্যবস্থাটার ওপর আস্থা নষ্ট হয়।

বিশ্বাসের এই ক্ষয় সম্ভবত আজকের দিনে স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। একটা নির্দিষ্ট বিমা কতটা বাজার দখল করেছে, সেই বাজারের পরিসংখ্যানে বিষয়টি স্পষ্ট ধরা পড়ে না। তবে এই ত্রুটি থাকলে সারা দেশের গ্রাহকদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিমা সম্পর্কে ধীরে ধীরে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয় এবং তা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করে। এর ফলে যে প্রশ্নটা তৈরি হয় তা হল, এই বিমা আদৌ কেনা উচিত কিনা।

সকলের সুবিধার জন্য এআই-ভিত্তিক পরিকাঠামো

এই পরিপ্রেক্ষিতে কোনও হাসপাতালে খরচের বদলে চিকিৎসার গুণমানের একটা সর্বসম্মত মানদণ্ড তৈরি করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রেই হাসপাতালের নির্ধারিত পরিষেবা খরচের তুলনায় চিকিৎসার ধরন ও পদ্ধতির কারণেই খরচ বেড়ে যেতে পারে। যদি চিকিৎসার কর্মপদ্ধতি বিষয়টির একটা সর্বসম্মত মানদণ্ড থাকে তাহলে ওপরে উল্লেখিত সমস্যার একটা অর্থবহ সমাধানও হতে পারে। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার বিষয়গুলি সঠিকভাবে কাজে লাগানো না হলে, অডিট ও আন্তর্জাতিক সমীক্ষার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, সেখানেই খরচ ৫০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়।

যদি রোগ নির্ণয়ের অ্যালগরিদম ভাল হয়, এবং সর্বসম্মত মানদণ্ড দ্বারা স্বীকৃত কর্মপদ্ধতি থাকে, তাহলে একটা নীতিনিষ্ঠ, রোগীকেন্দ্রিক, এবং জবাবদিহি করা যায় এমন স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। চিকিৎসার এই স্বীকৃত কর্মপদ্ধতি সারা দেশের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রোটোকলে একটা সমতা আনতে পারে। এই সমতা থাকলে, ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে আমরা আরও উন্নত ধারাবাহিকতা যোগ করতে পারি। এতে সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে আরও বেশি আস্থা গড়ে তোলা যায়। এতে বিমা সংস্থার টাকা আরও দ্রুত পাওয়া যেতে পারে এবং রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সময় হাসপাতাল ও বিমাকারীর মধ্যে যে সংঘাত, তাকে অনেকটা কমিয়ে আনা যায়।

রোগীদের ক্ষেত্রে সর্বসম্মত মানদণ্ডের ভিত্তিতে চিকিৎসা পাওয়ার রাস্তা থাকার মানে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় রোগীদের আর্থিক ধাক্কা কম হবে এবং বিমার দাবি পাওয়ার অভিজ্ঞতাও আগাম আরও স্পষ্ট থাকবে। আবার হাসপাতালগুলোর কথা ধরলে, তারা চিকিৎসা পরিষেবার মূল্য নির্ধারণে আরও স্বচ্ছ কাঠামো তৈরি করতে পারবে এমন ভাবে যার ফলে বিমাকারী সংস্থাগুলি হাসপাতালগুলিকে চিহ্নিত করতে পারবে এবং সেগুলিকে পুরস্কৃত করতে পারবে। বিমাকারীদের কথা ধরলে, তারা এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে যেখানে পলিসির মালিকদের কম দুর্ভোগ পোহাতে হবে, তাদের অভিজ্ঞতা ভাল হবে এবং খরচ আরও যুক্তিসঙ্গত হবে। থাকবে কভারেজের আরও টেকসই মডেল।

যে স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা সেরা পরিষেবা দেবে, তাদেরই স্বেচ্ছায় বেছে নেবেন গ্রাহকেরা, ধারাবাহিক ভাবে তাদের বিমার পুনর্নবীকরণ করবেন, এবং নিজের বিমা সংস্থাকে অন্যদের জন্যও সুপারিশ করবেন। সর্বসম্মতভাবে গৃহীত মানদণ্ড অনুযায়ী চিকিৎসা ও সেবা দেওয়ার রাস্তা শুধু একটা ক্লিনিক্যাল হাতিয়ার নয়। এ হল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি যা ক্লিনিক্যাল ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমে পরিণত হয়ে উঠতে পারে এবং গড়ে তুলতে পারে সত্যিকারের রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যবিমার বাস্তুতন্ত্র।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement