সোনার দামের দৌড় দেখে কপালে ভাঁজ মধ্যবিত্তের! আন্তর্জাতিক বাজারের উত্তাপ আর ঘরোয়া চাহিদার চাপে প্রতিদিনই রেকর্ড ভাঙার খেলায় মেতেছে হলুদ ধাতু। মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস বাড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে— তবে কি চলতি বছরেই ১০ গ্রাম সোনার দাম ২ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকবে?
ফাইল চিত্র
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পিছনে কাজ করছে বহুমুখী কারণ। প্রথমত, আমেরিকা ও ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দার মেঘ ঘনিয়ে আসায় লগ্নিকারীরা সোনাকে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মনে করছেন। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্ববাজারে সোনার জোগান ও চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট করছে। এছাড়া, ডলারের তুলনায় টাকার ক্রমাগত অবমূল্যায়ন দেশীয় বাজারে সোনার দামকে আকাশছোঁয়া করে তুলেছে।
|
চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাজার খুলতেই দেখা গেল নতুন চমক। এদিন প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১৫,০৭০ টাকা। অর্থাৎ ১০ গ্রামের দাম ১ লক্ষ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ১২,৩৭৫ টাকা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রুপোও। ১ কেজি রুপোর দাম বর্তমানে ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ২৯১ টাকা। মনে রাখবেন, এর সঙ্গে আরও ৩ শতাংশ জিএসটি (GST) এবং মেকিং চার্জ যুক্ত হলে দাম সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।
ফাইল চিত্র
বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, স্বল্প মেয়াদে অর্থাৎ এই কয়েক মাসেই ২ লক্ষ টাকা ছোঁয়া কঠিন। তবে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো যেভাবে সোনা মজুত করছে এবং ডলারের আধিপত্য কমছে, তাতে আগামী দিনে এই অঙ্ক অসম্ভব নয়।
ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
বিয়ের মরশুম চলায় ঘরোয়া বাজারে সোনার বিপুল চাহিদা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুজুগে পড়ে একবারে অনেক সোনা না কিনে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। গয়নার বদলে গোল্ড ইটিএফ (Gold ETF) বা ডিজিটাল গোল্ডে বিনিয়োগ এখন অনেক বেশি লাভজনক ও নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে।
