shono
Advertisement
Investment

জহুরির চোখে মাল্টি অ্যাসেট ফান্ড কেন উপযোগী? জেনে নিন খুঁটিনাটি

আমার মতে কয়েকটি বিশেষ কারণের জ‌ন‌্য এই জাতীয় ফান্ড নিতে পারেন আপনি। বেশি কিছু বলার আগে মনে করিয়ে দিই ইনভেস্টমেন্টের জগতে অনেক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পছন্দে যে ট্রেন্ড স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে তা মাল্টি অ্যাসেট সংক্রান্ত।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 02:32 PM Feb 06, 2026Updated: 02:32 PM Feb 06, 2026

শৈলী গাঙ্গ, হেড-প্রোডাক্টস, টাটা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, আজ সঞ্চয়-এর পাঠকদের সামনে। তাঁর বিষয়, মাল্টি অ্যাসেট অ্যালোকেশন ফান্ড। কেন আর কীসের জন্য ইনভেস্টররা বেছে নেবেন এই বিশেষ শ্রেণীর প্রকল্প? সহজভাবে কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ করলেন তিনি। বক্তব্যের সারাংশ।

Advertisement

আমার মতে কয়েকটি বিশেষ কারণের জ‌ন‌্য এই জাতীয় ফান্ড নিতে পারেন আপনি। বেশি কিছু বলার আগে মনে করিয়ে দিই ইনভেস্টমেন্টের জগতে অনেক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পছন্দে যে ট্রেন্ড স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে তা মাল্টি অ্যাসেট সংক্রান্ত। এই গোত্রের ফান্ডে ধারাবাহিক বৃদ্ধি চলছেই। এপ্রিল ২০২৪-এ প্রায় ৭৪,০২০ কোটি টাকার ইনফ্লো ছিল। সেখান থেকে ডিসেম্বর ২০২৫-এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৪,৭৩০ কোটি টাকায়। এর থেকে স্পষ্ট যে বিনিয়োগকারীরা এই সব ফান্ডগুলিকে ‘অল-সিজনস’ (সংক্ষেপে, সব ধরনের ‘আবহাওয়া’ সহ্য করতে সক্ষম) হিসাবে দেখে। এঁদের একাংশ স্থিতিশীলতাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। হাইব্রিড ক্যাটাগরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আজ মাল্টি অ্যাসেট অ্যালোকেশন ফান্ড নিজের জায়গা করে নিতে পেরেছে।

এখানে কী আছে, কী পেতে পারেন ইনভেস্টর? ইকু‌্যইটি, ডেট ও কমোডিটিতে লগ্নি করা হয়। তার মানে পোর্টফোলিওতে থাকে বৈচিত্র্য। উদ্দেশ্য, একটি কার্যকরী সমাধান এনে দেওয়া। তাতে বাজার যে দিকেই যাক না কেন, পোর্টফোলিও স্থিতিশীল থাকে। এই প্রসঙ্গে আমি তিনটি কারণকে তুলে ধরতে চাই। এগুলির জন্য আধুনিক পোর্টফোলিওতে এমন হাইব্রিড কৌশল অপরিহার্য হয়ে উঠছে।

ভারসাম্য বজায় রাখা
জানেনই তো, হাইব্রিড ফান্ড বিভিন্ন অ্যাসেট ক্লাসে বিনিয়োগ করে। ইকু‌্যইটি, ফিক্সড ইনকাম, REITs ও INVITs থাকে। এর সঙ্গে যোগ হয় কমোডিটি এবং হেজড ডেরিভেটিভস। এত কিছু একত্রিত করা হয়। ডায়নামিক বা স্ট্যাটিক অ্যালোকেশনের মাধ্যমে এই ফান্ডগুলি খাঁটি ইকু‌্যইটি ফান্ডের তুলনায় ভোলাটিলিটি কমায়। আমার বিশ্বাস, মাঝারি ঝুঁকির বিনিয়োগকারীদের কাছে লক্ষ্য শুধু পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট রিটার্ন নয়। বরং এমন একটি “ভারসাম্যপূর্ণ যাত্রা” নিশ্চিত করা যাতে বাজার অস্থির হলে বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার তাগিদ না আসে। এই ফান্ড দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে বিনিয়োগের পথে চলতে সাহায্য করে।

সব বাজারচক্রে (মার্কেট সাইকেলে) রিটার্ন ধরার ক্ষমতা
টাটা মাল্টি অ্যাসেট অ্যালোকেশন ফান্ডের কথা বলি, উদাহরণ হিসাবে দেখুন। একটি বহু-মাত্রিক পোর্টফোলিও হিসেবে কাজ করে এই প্রকল্প। ঊর্ধ্বমুখী, নিম্নমুখী ও সাইডওয়েজ -- সব ধরনের বাজারেই রিটার্ন ধরার লক্ষ্য থাকে।

১. কারেকশন বা সংশোধনের সময় ফান্ডটি লং পজিশন বাড়িয়ে ও হেজ কমিয়ে নেট ইকু‌্যইটি এক্সপোজার বাড়ায়।

২. আর বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলে ইকু‌্যইটি অ্যালোকেশন কমিয়ে ও হেজ যোগ করে লাভ সুরক্ষিত করার চেষ্টা করে।

৩. সাইডওয়েজ বাজারে, যেখানে স্পষ্ট ট্রেন্ড থাকে না, সেখানে সেক্টরের ভেতরে জোড়া লং–শর্ট কৌশল ব্যবহার করে সুযোগ খোঁজা হয়।

আপনাকে মনে করিয়ে দিই যে, সংশোধনের সময় ইকু‌্যইটিতে অ্যালোকেট করার সাহস সকলের থাকে না। বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তির একটি বড় কারণ হল, প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতিতে তারা কোনও একটি অ্যাসেট ক্লাস থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে যান। এই ধরনের ব্যবহার বার বার দেখা গিয়েছে। শেয়ারবাজার পড়লে ইকু‌্যইটি বিক্রি করা বা বাজার ভাল চললে ডেট থেকে সরে যাওয়া, এমন আচরণ প্রায়ই দেখা যায়।

ট্যাক্স এফিসিয়েন্ট রিব্যালান্সিং
হাইব্রিড ফান্ডে পোর্টফোলিও রিব্যালেন্সিং বা পরিবর্তন করের বড় প্রভাব ছাড়া হতে পারে। কেবল মাল্টি অ্যাসেট ফান্ডের ইউনিট রিডিম করলে কর প্রযোজ্য হয় নিয়মমাফিক। ভারতে ডেরিভেটিভস সাধারণত ব্যবসায়িক আয় হিসেবে করযোগ্য, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে কম ট্যাক্স এফিসিয়েন্ট। এখানে বলে রাখি, SIF ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে ক্যাশ লং ইকু‌্যইটি বিনিয়োগ ও ডেরিভেটিভসকে ফান্ডের কর কাঠামোর আওতায় আনা হয়, যা ব্যবসায়িক আয়ের করের তুলনায় বেশি সুবিধার।

সব শেষে আর একটি কৌশলের কথাও বলি–ভিন্ন বাজার পরিস্থিতিতে বিপরীত দিকে চলা দুটি অ্যাসেট ক্লাসে বিনিয়োগ করলে তাদের সমন্বয় পোর্টফোলিওকে স্থিতিশীল করে। ডেট অ্যাসেট ক্লাস নিয়মিত আয় দেয়, তুলনামূলকভাবে কম ভোলাটাইল এবং ইকু‌্যইটির সঙ্গে এর পারস্পরিক সম্পর্ক কম। ইকু‌্যইটি দুর্বল হলে সোনা নিরাপত্তা দেয় এবং এরও ইকু‌্যইটির সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক কম। ইকু‌্যইটিতে ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে মূলধন বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি। অ্যাসেট অ্যালোকেশন এমন এক ধরনের ডাইভার্সিফিকেশন, যা রিটার্ন খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না করে পোর্টফোলিও ঝুঁকি কমিয়ে আনে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement