Advertisement
হাতছাড়া করবেন নাকি টানা পাঁচ দিনের ছুটি? দোলে ঘুরে আসুন এই ৮ জায়গা থেকে
৩ মার্চ, মঙ্গলবার দোল পূর্ণিমা। পরের দিন হোলির ছুটি। ক্যালেন্ডারের ফেরে এবার শনি থেকে বুধ—টানা লম্বা ছুটির হাতছানি। শহরের কোলাহল ছেড়ে দু-দণ্ড শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়ার এটাই সেরা সুযোগ। কিন্তু যাবেন কোথায়? রইল সেরা ৮ হদিস।
৩ মার্চ, মঙ্গলবার দোল পূর্ণিমা। পরের দিন হোলির ছুটি। ক্যালেন্ডারের ফেরে এবার শনি থেকে বুধ—টানা লম্বা ছুটির হাতছানি। শহরের কোলাহল ছেড়ে দু-দণ্ড শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়ার এটাই সেরা সুযোগ। বসন্তের আমেজ গায়ে মেখে এবারের দোলযাত্রাকে স্মরণীয় করতে এই ৮টি স্থান ভুলেও মিস করবেন না।
ধুতুরদহ: সবুজের কোলে নিভৃতবাস। কলকাতা থেকে মাত্র ৫১ কিমি দূরে উত্তর ২৪ পরগনার এই গ্রাম। চারদিকে মাছের ভেড়ি আর সবজি বাগান। মিনাখান ভিলেজ রিসর্টে বোটিংয়ের সুযোগ রয়েছে। নিরিবিলিতে দু-তিন দিন কাটিয়ে সতেজ হয়ে ফেরার জন্য ধুতুরদহ আদর্শ জায়গা।
গুড়গুড়িপাল: মেদিনীপুর শহর থেকে মাত্র ১২ কিমি দূরে এই জনপদ। শাল-পিয়ালের জঙ্গলে ঘেরা আদিবাসী গ্রামের সারল্য মন কাড়বে। কাছেই ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভিটে মহবনী ও লালগড়ের জঙ্গল। মেদিনীপুরগামী ট্রেনে চেপে সহজেই এখানে পৌঁছে যাওয়া যায়।
নবদ্বীপ: আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে দোলকে মেলাতে চাইলে নদিয়ার নবদ্বীপ এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হয় না। এটি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান, তাই এখানে দোল পূর্ণিমা পালিত হয় 'গৌর পূর্ণিমা' হিসেবে। সারা শহর জুড়ে অসংখ্য মঠ আর মন্দিরে নাম-সংকীর্তন চলে। দোলের দিন আবির নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়, যেখানে ভক্তদের ভক্তি আর রঙের মিলন ঘটে। গঙ্গার ঘাটে বসে বিকেলের হাওয়া আর মন্দিরের ঘণ্টার শব্দে এক অদ্ভুত শান্তি খুঁজে পাওয়া যায়।
মুকুটমণিপুর: বাঁকুড়ার এই পর্যটন কেন্দ্রটি মাটির তৈরি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁধের জন্য বিখ্যাত। নীল জলরাশি আর বনপুকুরিয়া গ্রামের শান্ত পরিবেশ মন ভালো করে দেবে। পরেশনাথ মন্দির ও মুসাফিরানা ভিউ পয়েন্ট থেকে সূর্যাস্ত দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
মুরুগুমা: পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের পাদদেশে এই জলাধার যেন এক নীল দর্পণ। বসন্তের হাওয়ায় এখানে শিমুল আর মহুয়ার নেশা ধরে। সন্ধ্যায় ধামসা-মাদলের তালে আদিবাসী নাচ আর টাটকা রুই-কাতলার স্বাদ দোলের আনন্দকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
মায়াপুর: নদিয়ার ইসকন মন্দিরে দোল পূর্ণিমা পালিত হয় মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি হিসেবে। দেশি-বিদেশি ভক্তদের ভিড়ে মায়াপুর তখন এক খুদে পৃথিবী। কীর্তন, পুষ্পবৃষ্টি আর বিশেষ ভোগ প্রসাদে দোলের দিনটি আধ্যাত্মিক ও বর্ণিল হয়ে ওঠে।
ঝাড়গ্রাম: অরণ্যশহর ঝাড়গ্রামে রাজবাড়ির দোল দেখার মতো। প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে এখানে রাধাবিনোদ জিউর পুজো হয়। জঙ্গলের নিস্তব্ধতা আর রাজকীয় আভিজাত্যের মিশেলে এই দোল আপনার স্মৃতিতে গেঁথে থাকবে। বেলপাহাড়ি বা চিল্কিগড়ও এখান থেকে ঘুরে নেওয়া সম্ভব।
নিমডিহি: শান্তিনিকেতনের ভিড় এড়িয়ে যারা একটু মাটির কাছাকাছি দোল কাটাতে চান, তাদের জন্য পুরুলিয়ার নিমডিহি ইদানীং খুব জনপ্রিয়। এখানে পলাশ ফুলের আবির দিয়ে দোল খেলা হয়, যা সম্পূর্ণ ভেষজ। এখানকার 'বসন্ত উৎসব' মূলত লোকসংস্কৃতি নির্ভর। সাঁওতালি নাচ, ঝুমুর গান আর ছৌ নাচের তালে দোলের দিনটি অন্য মাত্রা পায়। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে পলাশের বনে লাল আবির খেলার অভিজ্ঞতা সত্যিই অতুলনীয়।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 08:29 PM Feb 23, 2026Updated: 08:29 PM Feb 23, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
