Advertisement
শতাব্দী পেরিয়েও কমেনি জনপ্রিয়তা, ভারতের এই ৮ রেস্তরাঁয় সময় যেন থমকে থাকে
দেশ জুড়ে রয়েছে এমন কিছু রেস্তরাঁ ও ক্যাফে, যেগুলি এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মানুষের রসনাতৃপ্তি করে চলেছে।
খাবারের সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতির যোগ বড় প্রাচীন। ভারতের নানা প্রান্তে খুঁজলে পাওয়া যাবে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পুরনো রেসিপির সন্ধান। কিন্তু কেবল খাবার নয়, দেশ জুড়ে রয়েছে এমন কিছু রেস্তরাঁ ও ক্যাফে, যেগুলি এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মানুষের রসনাতৃপ্তি করে চলেছে। সেখানে পা রাখলে মনে হবে, থমকে রয়েছে সময়। এই ভোজনালয়গুলি আজও খাবারপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের।
লিওপোল্ড ক্যাফে, মুম্বই — মুম্বইয়ের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় ক্যাফে লিওপোল্ড ১৮৭১ সালে ইরানি অভিবাসীদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে। সময়ের সঙ্গে এটি পর্যটক, লেখক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আড্ডাখানা হয়ে ওঠে। এখানে ভারতীয় ও কন্টিনেন্টাল—দুই ধরনের খাবারই পাওয়া যায়। ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসী হামলার সময় এই ক্যাফেটিও আক্রান্ত হয়েছিল। আজও ভবনের কিছু অংশে সেই হামলার চিহ্ন রয়েছে।
দোরাবজি অ্যান্ড সন্স, পুণে — একটি সাধারণ চায়ের দোকান হিসেবে শুরু হয়ে ‘দোরাবজি অ্যান্ড সন্স’ ধীরে ধীরে পুণের অন্যতম পরিচিত পারসি রেস্তরাঁয় পরিণত হয়। এখানকার কাঠকয়লার আঁচে রান্না খাবার, বিশেষ করে মাটন ধানসাক ও ক্যারামেল কাস্টার্ড, ক্রেতাদের বিশেষ পছন্দের। খাঁটি পারসি খাবারের স্বাদ পেতে চাইলে এই রেস্তরাঁয় একবার ঢুঁ মেরে আসাই যায়।
শেখ ব্রাদার্স বেকারি, গুয়াহাটি — ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই ঐতিহ্যবাহী বেকারি। অসমে পাশ্চাত্য ধাঁচের কনফেকশনারি যেমন পেস্ট্রি, ব্রেড ও টি-কেক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই রেস্তরাঁর দৌলতেই। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুও এই বেকারির খাবার পছন্দ করতেন বলে কথিত রয়েছে। বহু বছর পেরিয়েও অক্ষুণ্ণ রয়ে গিয়েছে এই বেকারির জৌলুস। আজও এখানে একইরকম ভিড় জমান ক্রেতারা।
ইন্ডিয়ান কফি হাউস, কলকাতা — কলেজ স্ট্রিটের ইন্ডিয়ান কফি হাউস তো আর কেবলমাত্র একটি ক্যাফে নয়, কলকাতার সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশও বটে। একসময় নাম ছিল অ্যালবার্ট হল। উনিশ শতকের এই প্রতিষ্ঠান পরবর্তীকালে ছাত্র, কবি, লেখক, শিল্পী এবং বুদ্ধিজীবীদের অন্যতম জনপ্রিয় আড্ডাস্থল হয়ে ওঠে। আজও এখানে দেখতে পাওয়া যায় পুরনো দেওয়াল, কাঠের আসবাব ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ।
গ্লেনারিজ, দার্জিলিং — দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত মল রোডে অবস্থিত গ্লেনারিজ শহরের ঔপনিবেশিক অতীতের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে আজও। পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে সমান জনপ্রিয় এই ক্যাফে কাম বেকারি। পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে, গ্লেনারিজে বসে উপভোগ করা যায় অ্যাপেল পাই, ফ্রুট টার্ট, ব্লুবেরি চিজকেক, মাফিন, ক্রিম রোল অথবা মিট পাই, প্যাটিজের মতো ঝাল ঝাল মুখরোচক খাবার।
টুন্ডে কাবাবি, লখনউ — ১৯০৫ সালে হাজি মুরাদ আলি প্রতিষ্ঠা করেন এই নবাবি আমলের খাবারের রেস্তরাঁ। কথিত রয়েছে, মাত্র একটি হাতকে সম্বল করেই রান্না করতেন তিনি। তাঁর হাতে তৈরি হয়েছিল মুখে দিলেই গলা যাওয়া বিখ্যাত গলৌটি কাবাব, যা পরবর্তীকালে সমগ্র দেশে বিখ্যাত হয়ে যায়। শোনা যায়, কাবাবের মশলার মিশ্রণে শতাধিক ‘সিক্রেট’ উপকরণ ব্যবহার করা হয় এখানে!
ব্রিটানিয়া অ্যান্ড কো., মুম্বই — বিশ শতকের গোড়ায় ব্রিটিশ অফিসারদের জন্য খাবার পরিবেশন করতে শুরু করা ব্রিটানিয়া অ্যান্ড কো., আজও মুম্বইয়ের পারসি খাবারের ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত এই নামটি। রেস্তরাঁটির অন্যতম জনপ্রিয় পদ বেরি পোলাও, পত্রানি মছলি, সালি বোটি, পালোঞ্জি রাস্পবেরি সোডা প্রভৃতি। রেস্তরাঁয় দেওয়ালে শোভা পায় কুইন এলিজাবেথ টু, মহাত্মা গান্ধি প্রমুখের ফোটো।
করিমস, পুরনো দিল্লি — পুরনো দিল্লির অন্যতম পরিচিত মুঘলাই খাবারের ঠিকানা এই রেস্তরাঁ, ১৯১৩ সালে হাজি করিমুদ্দিন প্রতিষ্ঠা করেন এটি। মটন কোরমা, কোফতা ও বিরিয়ানির মতো মুঘলাই পদ এখানকার জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে। সাম্প্রতিককালে এখানকার ‘মটন বুররা’ দিল্লি ফুড অ্যাওয়ার্ডসে সেরার তকমা পেয়েছে। বর্তমানে ভারত ও আরব এমিরেটস জুড়ে ৫০টিরও বেশি আউটলেট রয়েছে এই রেস্তরাঁর।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 08:35 PM Aug 26, 2026Updated: 08:35 PM Aug 26, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
