Advertisement
'আয়ারাম-গয়ারামে'ই ভরাডুবি, দলের মালিকানা বাঁচাতে মমতার শেষ সম্বল রাজীব গান্ধীর 'অস্ত্র'
জানেন ভারতীয় রাজনীতিতে 'আয়ারাম-গয়ারাম' এই শব্ধবন্ধের শুরুটা কোথায় থেকে?
বঙ্গ রাজনীতিতে এখন দলবদলের মরশুম। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সংসদীয় দলে বিরাট ভাঙন ধরেছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো সিনিয়র সাংসদরা তৃণমূল ছেড়ে এখন এনসিপিআই নামের অজ্ঞাতকূলশীল দলে। যা পরিস্থিতি তাতে আগামী দিনে একই দশা হতে পারে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরাও সেই একই পথে হাঁটতে পারেন।
এই দলবদলের প্রেক্ষিতে নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে 'আয়ারাম-গয়ারাম' শব্দবন্ধ। একটা সময় ভারতীয় রাজনীতিতে হর্স ট্রেডিং, ঘোড়া কেনাবেচা শব্দগুলি খুব প্রাসঙ্গিক ছিল। এই শব্দগুলি আজও ব্যবহৃত হয়। তবে একই সঙ্গে 'আয়ারাম-গয়ারাম' শব্দবন্ধও বেশ জনপ্রিয়। প্রশ্ন হল, এই আয়ারাম-গয়ারাম শব্দটি এল কোথা থেকে?
ঠিক ৫৯ বছর আগে হরিয়ানায় গয়া লাল নামের এক নেতার দলবদলের গল্প ভারতীয় রাজনীতিতে মিথ হয়ে রয়েছে। ১৫ দিনে তিন বার দল বদল করেছিলেন তিনি। কংগ্রেস থেকে জনতা পার্টি, ফের কংগ্রেস, আবার ৯ ঘণ্টার মধ্যে জনতা পার্টিতে। মাঝে কংগ্রেসে ফিরে আসার সময়ে দলের নেতা রাও বীরেন্দ্র সিংহ সাংবাদিক বৈঠকে গয়া লালকে স্বাগত জানাতে গিয়ে বলেন, “গয়া রাম এখন আয়া রাম।”
১৯৬৭ সাল। হরিয়ানার প্রথম বিধানসভা নির্বাচন। ৮১ আসন বিশিষ্ট হরিয়ানা বিধানসভা ভোটে হাসানপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন গয়া লাল নামের ওই নেতা। কোনও দলের প্রতীক তিনি পাননি। তাই দাঁড়িয়েছিলেন নির্দল হিসেবেই। চমকপ্রদভাবে জিতেও যান গয়ালাল। তারপরই 'খেল' দেখাতে শুরু করেন তিনি।
জেতার মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যে যোগ দেন জাতীয় কংগ্রেসে। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেন কংগ্রেস। এবার নাম লেখান, সংযুক্ত মোর্চায়। এখানেই শেষ নয়, সংযুক্ত মোর্চাও ত্যাগ করেন তিনি। ফিরে আসেন কংগ্রেসে। অর্থাৎ মাত্র ৯ ঘণ্টার মধ্যে ৩ বার দলবদল করেন গয়া লাল। এরপর গয়া লালকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেস। দলের নেতা রাও বিজেন্দর সিং রসিকতা করে বলেন, 'গয়া রাম আব আয়া রাম হ্যায়।'
এই আয়ারাম-গয়ারাম রাজনীতি রুখতেই ১৯৮৫ সালে দলত্যাগ বিরোধী আইন আনেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। তাতে স্পষ্ট বলা হয়, কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি দলত্যাগ করেন, তা স্বেচ্ছায় কোনও রাজনৈতিক দলের পদ ত্যাগ করেন, তাহলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হবে। যদি তিনি তাঁর রাজনৈতিক দলের জারি করা হুইপের বিপরীতে সদনে ভোট দেন বা ভোটদান থেকে বিরত থাকেন, তাহলেও সদস্যপদ বাতিল হতে পারে।
মূলত বিভিন্ন সদস্যের দলত্যাগ রুখতেই ওই আইন আনেন রাজীব। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেসময় কংগ্রেসের একার হাতেই লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য ছিল। রাজীব গান্ধী চাইলে সেসময় অন্য দল ভাঙানোটা অনেক সহজ হত। তবে তিনি সে পথে না হেঁটে গণতন্ত্রকে শক্ত করার লক্ষ্যে দলত্যাগ বিরোধী আইন চালু করেন।
রাজীব গান্ধীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রাজনৈতিক অভিভাবক হিসাবে দেখেন। সেই রাজীবের আনা দলত্যাগ বিরোধী আইনই আজ মমতার দল বাঁচিয়ে দিতে পারে। অন্তত এখন যা পরিস্থিতি তাতে দলের নাম ও প্রতীক মমতার হাতে থেকে যেতে পারে। সেটা শুধু ওই রাজীবের দলত্যাগ বিরোধী আইনের সুবাদেই। কারণ ওই আইনেই বলা আছে, কোনও দলের জনপ্রতিনিধিরা দলত্যাগ করতেই পারেন। কিন্তু দলের মালিকানা ঠিক করবে দলের সংগঠনই।
Published By: Subhajit MandalPosted: 04:31 PM Jun 17, 2026Updated: 04:31 PM Jun 17, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
