Advertisement
'যুবরাজ' থেকে 'চোর', ছাত্র রাজনীতি না করেই যুবনেতা! অভিষেকের মহাউত্থান থেকে নাটকীয় পতন
পুরনো সঙ্গীদের সঙ্গে যত দূরত্ব বেড়েছে মমতার, ততই ক্ষমতা বেড়েছে অভিষেকের।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। মাস খানেক আগে পর্যন্ত বঙ্গ রাজনীতিতে তাঁর নামই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু উত্থান যেমন হয়েছিল রকেটের গতিতে, তেমনই পতনও হয়েছে। একটা সময় 'যুবরাজ' বলে পরিচিত ছিলেন যিনি, আজ সমাজের চোখে চোর। পথেঘাটে বেরলেই শুনতে হচ্ছে চোর স্লোগান। উড়ে আসছে পচা ডিম! একাধিক দুর্নীতির মামলায় জর্জরিত তিনি। পড়াশোনা থেকে রাজনীতি ও পতন, রইল অভিষেকের ইতিবৃত্ত।
জন্ম ১৯৮৭ সালে। নবনালন্দার ছাত্র ছিলেন। এম পি বিড়লা ফাউন্ডেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো হওয়ায় ছোট থেকেই রাজনৈতিক ঘরানায় বেড়ে ওঠা। পিসির লড়াই সামনে থেকে দেখেছেন। উচ্চমাধ্যমিকের পর পড়াশোনার সুবাদে যান দিল্লি। ২০০৯ সালে IIPM থেকে এমবিএ করেন অভিষেক। রাজনীতির সঙ্গে কোনও যোগই ছিল না। কয়েকবার মমতার ধরনামঞ্চে দেখা গিয়েছিল।
২০১১ সালে বাম সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। মসনদে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই ভাইপো অভিষেককে কলকাতা ফিরিয়ে এনে সক্রিয় রাজনীতির অংশ করার সিদ্ধান্ত নেন মমতা। ফলে একবিন্দু লড়াইও করতে হয়নি তাঁকে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নাম দেখে, ছাত্র রাজনীতি না করেই যুব তৃণমূলের দায়িত্ব পেয়ে যান। ‘তৃণমূল যুবা’র সভাপতি করা হয় অভিষেককে। সেই থেকে তৃণমূলের কর্পোরেট হওয়ার শুরু। যদিও যুবা বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
তবে মমতার স্নেহের হাত মাথায় থাকায় কোনও ক্ষেত্রেই সে অর্থে ধাক্কা খেতে হয়নি অভিষেককে। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বে়ড়েছে ক্ষমতা, দাপট। ২০১৪ সালে সোমেন মিত্রর ছেড়ে যাওয়া ডায়মন্ড হারবার আসন থেকে লড়ে সাংসদ হন। এরপরই মমতার দীর্ঘদিনের সঙ্গীদের দূরে সরিয়ে নিজের কাছের মানুষের হাতে দায়িত্ব দিয়েছেন। নিজের মতো করে সাজাতে শুরু করেন দল।
প্রভাবের সঙ্গেই বাড়তে থাকে সম্পত্তি। দুর্নীতিতে জুড়ে যায় নাম। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস দেখাননি কেউ। তবে অভিষেকের উত্থান নিয়ে দলের অন্দরেই বাড়তে থাকে ক্ষোভ। এই পরিবারতন্ত্র মানতে পারছিলেন না পুরনো নেতারা। 'দিদি'র সামনে তা বলার জো ছিল না। পরবর্তীতে সেই ক্ষোভের জেরেই মুকুল, শুভেন্দুরা মমতার সঙ্গ ছাড়েন। পুরনো সঙ্গীরা সঙ্গ ত্যাগ করায় আরও বাড়ে অভিষেকের ক্ষমতা।
একুশে অভিষেকের হাত ধরে পুরোদস্তুর কর্পোরেট হয়ে যায় তৃণমূল। যুবরাজের অঙ্গুলিহেলনেই চলতে শুরু করে সবটা। একুশ ও চব্বিশে বিপুল জয় অভিষেকের কনফিডেন্স বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। সেখানেই তৃণমূলের শেষের শুরু। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অভিষেকের প্রতি 'অন্ধস্নেহ' মমতাকেও মাটির থেকে দূরে সরিয়ে দিতে থাকে। শুধু দলে নয়, আমজনতার মনেও রোষের জন্ম দেয়। যার পরিণাম দেখা গিয়েছে ছাব্বিশের ভোট বাক্সে।
ফল প্রকাশের আগের দিন পর্যন্ত সকলের কাছে যুবরাজ ছিলেন অভিষেক। ক্ষমতা যেতেই হয়ে গেলেন চোর! সোশাল মিডিয়া জুড়ে কটাক্ষের বন্যা। পথেঘাটে বেরলেই শুনতে হচ্ছে চোর অপবাদ। উড়ে আসছে ডিম! পিসির হাত ধরে যে উত্থান, পিসির ক্ষমতা যেতেই নিমেষেই সব জারিজুরি শেষ। অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের যে কোনও ক্যারিশ্মাই ছিল না, তার প্রমাণ ঝড়ের গতিতে পতন। তবে তিনি শুধু নিজে ডোবেননি, কোণঠাসা করে ফেলছেন মমতাকেও।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 05:14 PM Jun 16, 2026Updated: 05:46 PM Jun 16, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
