Advertisement
কেকেআরের অধিনায়ক হয়েও কখনও খেলেননি আইপিএলে! সৌরভের পর নাইটদের নেতৃত্বে ছিলেন কে?
ইংরেজ তারকার নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ খেলেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক বলতে কার নাম মনে পড়ে? সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, গৌতম গম্ভীর, শ্রেয়স আইয়ার বা অজিঙ্ক রাহানের নাম। কিন্তু অ্যাডাম হোলিওক? নামটা অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর কাছেই অজানা। কিন্তু ইংল্যান্ডের এই ক্রিকেটারও কেকেআরের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
কী একটু বিভ্রান্ত লাগছে? ইংল্যান্ডের অইন মর্গান নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক হয়েছিলেন। নিঃসন্দেহে কেকেআরের নেতৃত্ব দেওয়া যে কোনও ক্রিকেটারের স্বপ্ন। সেখানে অ্যাডাম হোলিওকের নাম কোথা থেকে এল? মাত্র ৪টে টেস্ট খেলেছেন। ওয়ানডে খেলেছেন ৩৫টি। ইংল্যান্ডের হয়ে কোনও দিন টি-টোয়েন্টি খেলেননি।
সেই অ্যাডামই কি না নাইটদের অধিনায়ক? এমনকী তাঁর নেতৃত্ব সিরিজও খেলেছিল কেকেআর। সেটা আবার অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে। তার জন্য পিছিয়ে যেতে হবে ১৮ বছর। ২০০৮ সালেই অ্যাডামের নেতৃত্বে ছটি ম্যাচ খেলেছিল নাইট রাইডার্স। তার মধ্যে পাঁচটিই হেরেছিল কেকেআর।
আইপিএলের প্রথম মরশুমে কেকেআর শেষ করেছিল ষষ্ঠ স্থানে। ১৪ ম্যাচে সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৩ পয়েন্ট। জিতেছিল ৬টি ম্যাচ। তখন অধিনায়ক ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। কোচ জন বুকানন। পরের বছর অস্ট্রেলীয় কোচ এক নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসেন। যেখানে একই দলে চারজন অধিনায়ক থাকবেন।
তার আগে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়ায় একটি সিরিজ খেলতে যায় কেকেআর। প্রতিপক্ষ ছিল কুইন্সল্যান্ড। সেখানে নেতৃত্ব দেন অ্যাডাম। কিন্তু ছ'টির মধ্যে পাঁচটিতে হারে নাইটরা। অ্যাডাম করেছিলেন মাত্র ৭৭ রান। ব্রিসবেনে আয়োজিত ম্যাচগুলো ছিল প্রীতি ম্যাচ। সেখানে মূলত তরুণ ভারতীয়দের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
যার মধ্যে ইকবাল আবদুল্লা, সিদ্ধার্থ কউলরা পরে আইপিএলেও নামডাক করেন। এছাড়া খেলেছিলেন জন বুকাননের ছেলে মাইকেলও খেলেছিলেন। বিপক্ষে ছিলেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস বা বেন কাটিংয়ের মতো প্রথিতযশা ক্রিকেটাররা। আসলে সাইমন্ডস তখন শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য অস্ট্রেলিয়া দলের বাইরে ছিলেন।
মজার বিষয়, যে একটি ম্যাচে কেকেআর জিতেছিল সেটাতেও প্রচুর নাটক হয়। যদিও প্রতি বলের তথ্য নেই। শেষ বলে দরকার ছিল ১১ রান। বেন কাটিংয়ের একটি নো বলের সুযোগে সিদ্ধার্থ কউল ৪ ও ৬ মেরে ম্যাচ জিতিয়ে দেন। কউল ওই সিরিজে নাইট রাইডার্সের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী ছিলেন।
অনেকে মনে করেন, বুকানন পরের বছরের আইপিএলের জন্য হোলিওককে অন্যতম অধিনায়ক হিসেবে ধরেছিলেন। কিন্তু ওই সময়ই হোলিওকের বয়স ছিল ৩৭ বছর। চোট-আঘাতের সমস্যায় ভুগছিলেন। তাই ক্রিকেট কেরিয়ার আর এগোয়নি। তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও আইপিএলে কোনও ম্যাচ খেলতে পারেননি।
হোলিওক ক্রিকেট ছাড়ার পর বেশ আর্থিক সমস্যায় পড়েন। বাধ্য হয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টস করা শুরু করেন। প্রথমে সেভাবে আয় না হলেও পরে ভাগ্য ফেরে। হোলিওক বলেছিলেন, "আমি এমএমএ-তে ৫ মিনিটে যত অ্যাড্রিনালিন ঝরিয়েছি, তা ১৭ বছরে ক্রিকেটে ঝরাতে পারিনি।"
আসলে হোলিওকের একটি বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ধাক্কা খায়। পাওনাদারদের কাছে প্রায় ২ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার ঋণী হয়ে পড়েন এবং দেউলিয়া ঘোষণা করেন। তার পাওনাদারদের মধ্যে তার প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালেক স্টুয়ার্টও ছিলেন। কিন্তু অ্যাডাম শেষ পর্যন্ত সেই দুর্দিন থেকে বেরিয়ে আসেন।
হোলিওককে জীবনে আরও একবার যন্ত্রণার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ২০০২ সালে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর ভাই বেনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। মাত্র ১২ বছর বয়সে বেনকে বাঁচাতে লড়াই করেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার আর বাঁচাতে পারেননি। একসঙ্গে দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলেছেন। অনেকে মনে করেন, অ্যাডামের ক্রিকেট কেরিয়ারের পতনের জন্য ভাইয়ের মৃত্যু দায়ী।
Published By: Arpan DasPosted: 08:33 PM Apr 07, 2026Updated: 08:34 PM Apr 07, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
