Advertisement
শ্রীলঙ্কার বুকে হনুমান মন্দির, জুড়ে আছে কোন লোককাহিনি? নির্মাণই বা করেন কে!
স্থানীয়দের বিশ্বাস, সীতা মায়ের খোঁজে যখন শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করেন হনুমান, তখন প্রথম পদক্ষেপটি করেন এই উপত্যকায়। ক্লান্ত হয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রামও নেন এখানেই। সেখানেই পরবর্তীকালে মন্দিরের নির্মাণ হয়।
কেবল ভারত নয়, শ্রীরামের পরিচিতি সমগ্র বিশ্ব জুড়ে। পৃথিবীর নানা স্থান নিয়ে প্রচলিত রয়েছে লোককাহিনী। যে কাহিনীর কেন্দ্রে রামায়ণের চরিত্রেরা। সময়ের সঙ্গে তা আরও ফুলেফেঁপে উঠেছে। কোথাও তৈরি হয়েছে মন্দির, কোথাও বা দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে অন্যতম শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত ভক্ত হনুমান মন্দির।
উৎকৃষ্ট মানের চা উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত শ্রীলঙ্কা। চা বাগান সমৃদ্ধ হিল স্টেশনের মুখ্য দ্বার মনে করা হয় নুওয়ারা এলিয়াকে। সেখানে থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার উত্তরে গেলেই রামবোড়া উপত্যকা। আর সেই উপত্যকায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ভক্ত হনুমান মন্দির। এখানকার সবচাইতে নিকটবর্তী ট্রেন স্টেশনের নাম নানু ওয়া। মন্দিরে পৌঁছানোর জন্য নানু ওয়া স্টেশনে নেমে ক্যাব ভাড়া করে নেওয়া যেতে পারে।
অসামান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই রামবোড়া উপত্যকার। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে যেদিকেই তাকানো যায়, কেবল সবুজ আর সবুজ চোখে পড়ে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সীতা মায়ের খোঁজে যখন শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করেন হনুমান, তখন প্রথম পদক্ষেপটি করেন এই উপত্যকায়। ক্লান্ত হয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রামও নেন এখানেই। তারপর আবার শুরু করেন খোঁজ। সীতা মাতা সেই সময়ে লঙ্কার রাজা রাবণের কাছে বন্দিনী। অশোককাননে বসে শ্রীরামের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
আরও একটি কাহিনী প্রচলিত রয়েছে এই উপত্যকার নামকরণ নিয়ে। তামিল ভাষায় রামবোড়া বা রামপড়াই শব্দের অর্থ শ্রীরামের বাহিনী। তাই লোক বিশ্বাস, রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার সময় এই উপত্যকায় দাঁড়িয়েই তাঁর বানর সেনাকে একত্রিত করেন শ্রীরাম। যুদ্ধের হুঙ্কার দিয়ে ওঠেন। তারপর দলবল সমেত ঝাঁপিয়ে পড়েন রণক্ষেত্রে।
একেবারেই অনাড়ম্বর ভক্ত হনুমান মন্দিরের বাইরের সজ্জা। মন্দিরের চূড়া আর ফটকে যদিও নিখুঁত কারুকাজ চোখে পড়ে। মন্দিরের সৌন্দর্য বহু গুণ বাড়িয়ে তোলে চারপাশের প্রকৃতি। একপাশে ঘন জঙ্গল, চায়ের বাগান, অন্যপাশে গিরিখাত— রামবোড়া উপত্যকায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা যেন স্বপ্নের শামিল, বিশ্বাস পর্যটকদের। এই মন্দিরের বয়স বেশি নয়। শ্রীলঙ্কার চিন্ময় মিশনের উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে এর নির্মাণ হয়।
মন্দিরের ভিতর রয়েছে ১৮ ফুট উঁচু হনুমান মূর্তি। সারা বছর জুড়েই এখানে নিয়মিত পুজো পান হনুমান। পোশাক ও মন্দিরের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা বদলানো হয়। প্রসাদ তৈরি হয় বিপুল সংখ্যক ভক্তের জন্য। সারা বছর জুড়েই লেগে থাকে ভক্তের ভিড়।
এই মন্দিরের কাছেই অবস্থিত সীতা আম্মান মন্দির। মনে করা হয়, এই মন্দির লাগোয়া সরু নদীর কাছে বসে প্রার্থনা করতেন সীতা মাতা। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন হনুমান। শ্রীরামের স্মৃতিস্বরূপ আংটিখানা তুলে দিয়েছিলেন সীতার হাতে। হনুমানই যে শ্রীরামের দূত, বিশ্বাস করেছিলেন সীতা। নদীর পাশে নাকি আজও চোখে পড়ে হনুমানের পদচিহ্ন।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 08:10 PM Mar 05, 2026Updated: 08:10 PM Mar 05, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
