Advertisement
সাহারায় শিহরণ! মরুভূমির বুকে ডাইনোসরের নতুন প্রজাতির সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা
একশো বছরের মধ্যে এই প্রথম মাংসাশী ডাইনোসরের নতুন প্রজাতির সন্ধান মিলল।
সাহারার তপ্ত বালুরাশির গভীরে ছিল এক জীবাশ্ম। যে এই পৃথিবীতে হেঁটেচলে বেড়াত আজ থেকে ১০ কোটি বছর আগে! অবশেষে তার কথা জানতে পারল মানুষ! বিজ্ঞানীরা যার নাম দিয়েছেন স্পিনোসরাস মিরাবিলিস। বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘বিস্ময়কর মেরুদণ্ডী সরীসৃপ’। সত্যিই এই ডাইনোসরের প্রজাতি বিস্ময়ের উদ্রেক করেছে ইতিমধ্যেই।
প্রাগৈতিহাসিক যুগের পৃথিবী নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহল বরাবরই প্রবল। তাঁরা মনে করেন, যত সেই যুগের নতুন নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের সন্ধান মিলবে, ততই আরও বেশি করে জানা যাবে সেই হারানো সময় নিয়ে। আর তাই স্পিনোসরাস মিরাবিলিসের সন্ধান পেয়ে উচ্ছ্বসিত বিজ্ঞানীমহল। মনে করা হচ্ছে, ডাইনোসর সম্পর্কে আরও বেশি অজানা তথ্য হাতে আসবে এই জীবাশ্মকে নিরীক্ষণ করলে।
পশ্চিম আফ্রিকার দুর্গম অঞ্চল নাইজারে সন্ধান মিলেছে ওই জীবাশ্মের। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই ডাইনোসরগুলির আয়তন ছিল মোটামুটি টিরানোসরাস রেক্সের (সবচেয়ে ভয়ংকর ডাইনোসর) সমান! তাদের মতোই সেও খেত মাংস! পিঠের উপরে ছিল বড় ব্লেড আকৃতির রঙিন ঝুঁটি বা হাড়ের স্তূপ। চোয়াল ছিল কুমিরের মতোই লম্বাটে। গত একশো বছরের মধ্যে এই প্রথম মাংসাশী ডাইনোসরের নতুন প্রজাতির সন্ধান মিলল।
২০১৮ সালে শুরু হয়েছিল প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযান। কিন্তু তা ধাক্কা খায় করোনা আমলে। পরে ২০২২ সালে ২০ জন গবেষকদের এক দল সেখানে নতুন করে অভিযান চালায়। সঙ্গে ছিল ৬৪ জন সশস্ত্র সেনা। ছিল গ্রেনেড লঞ্চারও।
২০২২ সালে নাইজারের ওই অভিযানে সংগ্রহ করা হয় মোট ৫৫ টন নমুনা। আর এর মধ্যেই ছিল স্পিনোসরাস মিরাবিলিসের জীবাশ্ম। তবে এই আবিষ্কার সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণায় পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় চার বছর লেগে গেল। সদ্যপ্রকাশিত 'সায়েন্স' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই সংক্রান্ত এক গবেষণাপত্র।
গবেষকদের দাবি, নতুন প্রজাতির এই ডাইনোসররা শিকার ধরত পাখির কায়দায়। অনেকটা সারসের ভঙ্গিতে অগভীর জলে ওঁত পেতে বসে থাকত তারা। তারপর শিকার করত মাছ! মাছই ছিল তাদের প্রধান খাদ্য। বলে রাখা ভালো, ১৯১৫ সালে মিশরে সন্ধান মেলা স্পিনোসরাস ইজিপ্টিয়াকাসের সঙ্গে এদের অনেকটাই তফাত রয়েছে। বিশেষ করে করোটির গঠনে।
বলাই বাহুল্য, সেই যুগের সাহারা অঞ্চল আজকের থেকে একেবারেই আলাদা ছিল। বরং সেই সময় সেখানে ছিল স্রোতস্বিনী নদী। ছিল জলাভূমিও। সেটা ছিল অতিকায়দের দাপাদাপির সময়। ফলে মাছেরাও ছিল বিরাট বিরাট। ৯ ফুট বা তার চেয়েও বেশি লম্বা মাছ ভেসে বেড়াত নদীতে। আর তারাই হয়ে উঠেছিল স্পিনোসরাসদের পেট ভরানোর সামগ্রী।
এই শিকার ধরা কিন্তু সহজ কাজ ছিল না। ক্ষিপ্রতার সঙ্গে শিকারকে বন্দি করতে না পারলে তারা পালিয়ে যাবে নিমেষের মধ্যে। আর এথেকেই অনুমান করা যায়, অতিকায় শরীর বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি স্পিনোসরাসের দ্রুত চলাফেরায়। অন্তত জলের মধ্যে তারা ছিল দারুণ ক্ষিপ্র।
তবে মাছ শিকার করলেও স্পিনোসরাস কোনওভাবেই জলজ প্রাণী নয় বলেই জানাচ্ছেন গবেষকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, ডুবুরি কিংবা সমুদ্রে দক্ষতার সঙ্গে ভ্রমণকারী কোনও প্রাণী ছিল না তারা। বরং তাদের কঙ্কালের গঠনের সঙ্গে পাখির প্রবল মিল। হাড়ের ভিতরে ছিল বাতাস! লেজটিও উপর-নিচে নড়াচড়ার মতো নয়। কেবল পাশাপাশিই নাড়ানো যেত সেটি।
Published By: Biswadip DeyPosted: 10:03 PM Mar 05, 2026Updated: 10:04 PM Mar 05, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
