Advertisement
চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়বে অতিকায় গ্রহাণু! পৃথিবী থেকেই দেখা যাবে আলোর ঝলকানি
আমাদের নীল রঙের গ্রহটার ভয় নেই তো? এই প্রশ্ন মনে আসা স্বাভাবিক।
চাঁদের মাটিতে গ্রহাণু আছড়ে পড়েছে। আর সেই দৃশ্য আলোর ঝলকানি হয়ে ধরা দিচ্ছে পৃথিবীর বাসিন্দাদের চোখে! এমনই এক ঘটনা ঘটতে পারে! অন্তত তেমনটাই দাবি বিজ্ঞানীদের। কিন্তু সত্যিই কি এমনটা ঘটবে? অ্যাস্টরয়েড ২০২৪ ওয়াইআর৪ নামের গ্রহাণুটিকে নিয়ে চর্চা ক্রমেই বাড়ছে। সেই সঙ্গে এই আশঙ্কাও অনেকের মনে জন্ম নিচ্ছে, মহাজাগতিক এই বিস্ফোরণের প্রভাব কি আমাদের গ্রহের উপরে পড়তে পারে?
২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রথমবার এর দেখা পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মনে করা হয়েছিল ১৫ তলা বাড়ির সমান উচ্চতার গ্রহাণুটি আছড়ে পড়বে পৃথিবীতেই! তবে সম্ভাবনা ৩.১ শতাংশ। কিন্তু পরে আরও নিখুঁত গণনায় দেখা যায় পৃথিবীর সঙ্গে সেটির সংঘর্ষের সম্ভাবনা নেই।
প্রায় ২০০ ফুট অর্থাৎ ৬০ মিটার চওড়া ওই গ্রহাণুটি নিয়ে সেই থেকে চর্চা অব্যাহত রয়েছে। বিজ্ঞানীরা নজরদারিতে রেখেছেন ওয়াইআর৪-কে। বিজ্ঞানীদের দাবি, চাঁদের মাটিতে গ্রহাণুটি আছড়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে সম্ভাবনা ৪.৩ শতাংশ। নাসার হিসেব তেমনটাই।
সংঘর্ষ হলে কতটা ব্যাপক হবে তা? ২০২৫ সালের এক গবেষণা বলছে, এর ফলে ৬.৫ মিলিয়ন টন টিএনটি উৎপন্ন হবে। আধুনিক সময়ে চাঁদের উপরে এত বড় মাপের গ্রহাণু আছড়ে পড়েনি। এমন প্রবল বিস্ফোরণে চাঁদের নাকের ডগায় থাকা আমাদের নীল রঙের গ্রহটার ভয় নেই তো? এই প্রশ্ন মনে আসা স্বাভাবিক।
বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে এখন থেকেই আস্বস্ত করছেন। তাঁদের মতে, সত্যিই যদি চাঁদের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়, তাহলেও পৃথিবীবাসীর ঘাবড়ানোর কিচ্ছু নেই। কেননা তার কোনও প্রভাব পৃথিবীর উপরে পড়বে না। তবে কোনও গ্রহাণু আছড়ে পড়লে কী ধরনের প্রভাব পড়ে সেটা একেবারে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন বিজ্ঞানীরা।
গ্রহাণুর সঙ্গে চাঁদের সংঘর্ষ হলে কী হবে তা বুঝতে বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের একটি কম্পিউটার মডেল তৈরি করেন। এর মধ্যে সূর্য, সমস্ত গ্রহ, পৃথিবীর চাঁদ ছাড়াও রাখা হয় গ্রহাণুটিকে। সৌরজগতের মধ্য দিয়ে দ্রুতগতিতে এগনোর সময় গ্রহাণুটির গতিপথ অনুকরণ করেন তাঁরা।
আর সেটার সাহায্যে চাঁদের মাটিতে সম্ভাব্য সংঘর্ষের এলাকাগুলো চিহ্নিত করেছেন তাঁরা। খতিয়ে দেখেছেন পুরো বিষয়টি। তবে মনে করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের মধ্যে আরও তথ্য হাতে আসবে। তখন হয়তো আরও অনেক কিছু জানা যাবে।
প্রসঙ্গত, এই ধরনের আগন্তুক গ্রহাণু অতীতে বহুবার পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছে এবং পৃথিবীর বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রাগৈতিহাসিক কালে পৃথিবীর বুকে রাজত্ব করা ডাইনোসরদের অবলুপ্তির পিছনেও এই ধরনের মহাজাগতিক বস্তুর আছড়ে পড়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দাবি করেন বিজ্ঞানীরা।
Published By: Biswadip DeyPosted: 02:19 PM Feb 09, 2026Updated: 02:19 PM Feb 09, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
