Advertisement
এক বাংলাদেশিতেই ঘেঁটে ঘ বিশ্বকাপ! মুস্তাফিজুর ইস্যুতে আরও সাবধানী হতে পারত বিসিসিআই?
৩ জানুয়ারি বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার ঘোষণার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।
বসন্ত আসার আগেই বিশ্বকাপ 'জাগ্রত দ্বারে'! কিন্তু খেলা নিয়ে আলোচনার চেয়ে যেন বেশি করে রাজনৈতিক বিষবৃক্ষের কটু চেহারাটাই দৃশ্যমান হচ্ছে। যার সূচনা হয় মুস্তাফিজুর রহমান নামের এক বাংলাদেশি পেসারকে আইপিএল থেকে নিষিদ্ধ করার পর থেকেই। ক্রমে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়া ও পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত- যা এবারের টি২০ বিশ্বকাপকে এক অন্য বিতর্কের চেহারা দিয়েছে।
এবছরের শুরুতেই বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া একটি ঘোষণা করেন। জানিয়ে দেন, কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আইপিএলের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে হবে। আজকের সময়ে এই উপমহাদেশে খেলার সঙ্গে রাজনীতির যে প্রবল যোগ, তা স্পষ্ট হয়ে যায় এমন ঘোষণায়।
এর আগে হাসিনা সরকার উৎখাত হয়ে যাওয়ার পরও প্রবল হয়ে ওঠে ভারতবিরোধী হাওয়া। যা ক্রমশ উত্তপ্ত থেকে উত্তপ্ততর হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের মতো ভারতবিরোধী সংগঠনের লাগাতার প্রচার, সম্প্রতি পরপর সংখ্যালঘু হত্যা ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হয়েছে। মুস্তাফিজুর রহমানকে নিষিদ্ধ করতেই বাংলাদেশও বেমালুম ভুলে গেল ২০০১ সালে তাদের টেস্ট খেলাই হত না জগমোহন ডালমিয়া না থাকলে!
এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না আসার দাবি তুলে আইসিসিকে ইমেল করে দেয়। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পড়েছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। কিন্তু তারা জানিয়ে দেয় তারা ভারতে খেলতে আসতে চায় না। কারণ দেখানো হয় নিরাপত্তাজনিত।
নানা আলোচনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেয় আইসিসি। তবে নিজেদের ‘গোঁয়ার্তুমি’ বজায় রাখে বিসিবি। শেষ পর্যন্ত সরকারিভাবে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার কারণ জানিয়ে কড়া বিবৃতি দেয় আইসিসি।
এই পরিস্থিতিতে ফের প্রকাশ্যে এসে পড়ে ভারত-পাকিস্তানের ‘শত্রুতা’র ছায়া। বাংলাদেশের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ দেখিয়ে ভারতের সঙ্গে ম্যাচ বয়কট করেছে পাকিস্তান। অন্য ম্যাচ ঠিক আছে, কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে খেলতেই যত আপত্তি ইসলামাবাদের! আইসিসি’র শাস্তির খাঁড়া নেমে আসতে পারে পাক বোর্ডের উপর। তবু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অনড়।
আর এই পরিস্থিতিতে উঠছে প্রশ্ন। বিষয়টা এতদূর যাওয়া কি আটকাতে পারত না বিসিসিআই? কংগ্রেস শশী থারুর জানিয়েছেন, ''সত্যি বলতে, উভয় পক্ষেরই খেলাধুলার এমন রাজনীতিকরণ বেশ লজ্জাজনক। আমি মনে করি না যে মুস্তাফিজুরকে কলকাতায় খেলার চুক্তি থেকে বঞ্চিত করা উচিত ছিল।'' পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের নিন্দা করেও শশী জানিয়েছেন এমনটাই।
কাছাকাছি মত পোষণ করছেন প্রাক্তন আইসিসি কর্তা সামি-উল-হাসান বার্নে। একসময় পাকিস্তানের ক্রিকেট মিডিয়া কর্তারও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই সামি বলছেন, ভারত চাইলে অনায়াসেই মুস্তাফিজুরকে না খেলানোর সিদ্ধান্তটা নিয়ে ঘোষণা করা থেকে বিরত থাকতে পারত।
সামির কথায়, ''আমি বলতে চাইছি বিসিসিআইয়ের এটা সরাসরি ঘোষণা করার কোনও দরকার ছিল না। অনায়াসেই ব্যক্তিগত স্তরে কেকেআরকে বিষয়টা জানিয়ে দেওয়া যেত। কেউ কিচ্ছু জানতে পারত না। জীবন চলত জীবনের মতো।'' তাঁর মতে 'কৌশলী' না হয়ে ৩ জানুয়ারি মুস্তাফিজুরের খেলাকে রীতিমতো ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করাতেই 'ভুল' হয়ে যায় বোর্ডের।
Published By: Biswadip DeyPosted: 11:45 PM Feb 05, 2026Updated: 11:58 PM Feb 05, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
