Advertisement
ফকল্যান্ড ব্যানার বিতর্কে তদন্তে ফিফা, ফাইনালের আগে কোন শাস্তির মুখে মেসির আর্জেন্টিনার?
মাঠে বিতর্কিত পোস্টার নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন লিওনেল মেসিরা। যার জেরে শাস্তির মুখেও পড়তে পারে আর্জেন্টিনা।
লড়াইটা ছিল ২২ জনের। কিন্তু সেই লড়াইয়ের নেপথ্যে কোথাও যে সাড়ে চার দশক পুরনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবচেতনে কাজ করছিল, সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের পরই। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলাররা মাঠে টেনে আনেন ফকল্যান্ড প্রসঙ্গ। মাঠে বিতর্কিত পোস্টার নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন লিওনেল মেসিরা। যার জেরে শাস্তির মুখেও পড়তে পারে আর্জেন্টিনা। সেই ঘটনাকে নিয়ে এবার তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন, অতীত ভুলে শুধুই ফুটবলে মন দিতে চান তাঁরা। কিন্তু ইংল্যান্ডকে হারানোর পর সেই অতীতই যেন ফিরে এল তাদের সেলিব্রেশনে। বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার পর গ্যালারি থেকে ছুড়ে দেওয়া একটি ব্যানার হাতে তুলে নেন আর্জেন্টিনা ফুটবলাররা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশাল মিডিয়ায়। যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
ব্যানারটিতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’। বাংলায় যার অর্থ, ‘মালভিনাস অর্থাৎ ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনায় ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে ডাকা হয়। দ্বীপটির উপর সার্বভৌমত্বের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে দেশটি। ফলে মাঠে এই বার্তা প্রদর্শনকে অনেকেই রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখছেন।
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে আর্জেন্টিনার উপকূল থেকে প্রায় ৫০০-৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ স্বশাসিত এলাকা হলেও ১৮৩৩ সাল থেকে সেটা ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে। তবে আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, দ্বীপগুলি তাদের ভূখণ্ডের অংশ। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সালে কড়া পদক্ষেপ করে বুয়েনস আইরেস।
আর্জেন্টিনার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিওপোল্ড গালতিয়েরির নির্দেশে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালায় আর্জেন্টাইন সেনা। এর জবাবে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার দক্ষিণ আটলান্টিকে যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সেনা পাঠান। টানা ৭৪ দিনের যুদ্ধের পর অবশেষে আত্মসমর্পণ করে আর্জেন্টিনা। ফকল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ থাকে ব্রিটেনের হাতেই। ভয়াবহ এই যুদ্ধে প্রায় ৬৫০ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনার মৃত্যু হয়।
এই যুদ্ধের আঁচ এসে পড়ে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে। দিয়াগো মারাদোনা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই হ্যান্ড অফ গড গোলটি করেন। দ্বিতীয় গোলটি করেন ৬ জনকে কাটিয়ে। যাকে বলা হয়, শতাব্দীর সেরা গোল। এবারের বিশ্বকাপেও সেই আঁচ পড়ে। এবার শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে মেসির আর্জেন্টিনাকে। ফিফা এবং ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি-র নিয়ম বলছে, মাঠে কোনওরকম রাজনৈতিক পোস্টার বা ব্যানার প্রদর্শন নিষিদ্ধ।
ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং ব্রিটিশ সরকার প্রকাশ্যে এর নিন্দা করেছে। ব্রিটিশ সরকারের তরফে ফিফার কাছে বিষয়টি তদন্তের আবেদনও জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
এর পরই ফিফার স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, “ফিফার স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি বর্তমানে ম্যাচের রিপোর্টগুলো খতিয়ে দেখছে এবং ফিফার নিয়ম অনুসারে পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।”
কীভাবে ওই ব্যানার গ্যালারিতে পৌঁছাল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোনও সমর্থক হয়তো নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে সেটি স্টেডিয়ামের ভিতরে নিয়ে আসেন। ম্যাচ শেষে তা মাঠে ছুড়ে দেন। ফুটবলাররা সেটি হাতে তুলে নেওয়াতেই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ে। ফিফা যদি মনে করে ফুটবলারদের আচরণ শৃঙ্খলাভঙ্গের মধ্যে পড়ে, তবে বড়সড় জরিমানা বা অন্য শাস্তি দেওয়া হতে পারে। তাই ফাইনালের আগে শাস্তির ভ্রূকুটি আর্জেন্টিনা শিবিরে।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 08:45 PM Jul 17, 2026Updated: 08:50 PM Jul 17, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
