Advertisement
ফুটবলই দেয় জীবনের পাঠ, রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখার আবহে এই সিনেমাগুলি না দেখলেই মিস!
ফুটবলের পাশাপাশি আপনি কি সিনেমাপ্রেমী? তাহলে হলিউড, বলিউড, টলিউড মিলিয়ে দেখে ফেলুন এই ছবিগুলি। চর্চা হলেও সময়ের অতলে তলিয়ে গিয়েছে যে ছবিগুলির নাম।
ফুটবলের পাশাপাশি সিনেমাপ্রেমী হলে ফুটবল নিয়ে তৈরি এই ছবিগুলি আপনার জন্য। বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত 'ধন ধনা ধন গোল' লন্ডনের এক ধুঁকতে থাকা ফুটবল ক্লাবের গল্প। ক্লাবের অস্তিত্ব রক্ষার্থে কীভাবে লড়াই চালায় টিমের সদস্যরা? সেই কাহিনিই ফুটে উঠেছিল জন আব্রাহাম, আরশাদ ওয়ারসি, বোমান ইরানি অভিনীত স্পোর্টস ড্রামায়। বন্ধুত্ব, টিম স্পিরিটের মতো উপকরণকে সঙ্গী করে ক্লাব টিকিয়ে রাখার নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ফুটে উঠেছে।
ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন দেখে নিতে পারেন 'ময়দান'। অজয় দেবগন অভিনীত এই বায়োপিক ভারতীয় ফুটবলের 'স্বর্ণ যুগ' (১৯৫২-১৯৬২)-এর কিংবদন্তি কোচ সৈয়দ আবদুল রহিমের জীবন অবলম্বনে তৈরি। তাঁর তত্ত্বাবধানেই ভারত ১৯৫১ সালের এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয় করে, ১৯৫৬ সালের মেলবোর্ন অলিম্পিকের সেমিফাইনালে পৌঁছয়, এমনকী ১৯৬২ সালের এশিয়ান গেমসে আবারও স্বর্ণপদক জেতে। 'ময়দান'-এ সেই কাহিনিই ফুটে উঠেছে। রুদ্রনীল ঘোষ, অমর্ত্য রায়রাও রয়েছেন ছবিতে।
১৯৮১ সালের স্পোর্টস ওয়ার ড্রামা 'এস্কেপ টু ভিক্টরি' এই তালিকার অন্যতম। ১৯৮১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিতে ববি ম্যুর, অসভাল্দো আর্দিলেস, কাজিমিয়ারজ দেনা, পল ভ্যান হিমস্ট, মাইক সামারবি, হলভার থোরসেন, ওয়ার্নার রথ, পেলেও অভিনয় করেছিলেন। সিলভেস্টার স্ট্যালোন, মাইকেল কেইনরা ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জার্মান যুদ্ধবন্দিদের জন্য এক প্রদর্শনী ম্যাচ নিয়েই এই সিনেমার গল্প এগোয়। বিশ্বকাপ জ্বরে না দেখলেই মিস!
১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভুটানি সিনেমা 'দ্য কাপ'-এর (ফোরপা) গল্প বড়ই মিষ্টি! ফুটবলপ্রেমী দুই শরণার্থী খুদে লামার ফুটবল উন্মাদনার গল্প। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ দেখতে হিমালয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মরিয়া হয়ে যারা টিভির খোঁজ চালায়। আবার মঠের কড়া শাসনের বাইরে বেরিয়ে। খিয়েনৎসে নরবু পরিচালিত কৌতুকপূর্ণ এই স্পোর্টস ড্রামা অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের 'সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র' বিভাগে ভুটানের তরফে পাঠানো প্রথম ছবি।
বিশ্বকাপ আবহে মানব কৌল, জিশান আয়ুব অভিনীত 'রিয়াল কাশ্মীর ফুটবল ক্লাব' সিরিজটি না দেখলেই নয়। কীভাবে দুই স্বপ্নদ্রষ্টা এবং কুড়ি জন অনামী খেলোয়াড় কাশ্মীরের প্রথম পেশাদার ফুটবল দল গড়েন, আট পর্বের সিরিজে সেই গল্পই ফুটে উঠেছে। যারা সামাজিক চাপ, পারিবারিক বাধা, ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা-সহ নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে স্থানীয় মাঠে খেলা এক সাধারণ দল ভারতের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস দেখিয়েছিল।
গুরিন্দর চাড্ডা পরিচালিত 'বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম'ও এই তালিকায়। পারমিন্দর নাগরা, কেইরা নাইটলি, জোনাথন রাইস মেয়ার্স, অনুপম খের, আর্চি পাঞ্জাবি, শাজনয় লুইস, ফ্রাঙ্ক হার্পার এবং জুলিয়েট স্টিভেনসনরা অভিনয় করেছেন। ছবির গল্পে জেসমিন্দর ভামরা এবং জুলস প্যাক্সটন উভয়েই মা-বাবার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে কেরিয়ার গড়ার পথে এগিয়ে যায়। সেই স্ট্রাগলের গল্পই বলে 'বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম'।
২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'লুকিং ফর এরিক' আদতে ফুটবলের প্রেক্ষাপটে এক স্পোর্টস ড্রামা। কেন লোচ পরিচালিত এই সিনেমায় পল ল্যাভার্টির চিত্রনাট্যে ফুটে উঠেছিল ম্যানচেস্টারের ছোট্ট এক পোস্টঅফিস কর্মীর করুণ কাহিনি। যিনি জীবনের এক ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। স্টিভ এভেটস, এরিক ক্যান্টোনা, জন হেনশ এবং স্টেফানি বিশপ অভিনীত এই ছবি বিশ্বকাপের আবহে দেখা মাস্ট!
ব্রিটিশ শাসিত ভারতে, ১৯১১ সালে মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব খালি পায়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইয়র্কশিয়ার রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। এটাই ছিল কোনও ভারতীয় ফুটবল দলের প্রথম আইএফএ শিল্ড জয়। ফুটবল পায়ে বাঙালিদের সেই সংগ্রামের কাহিনিই পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন পরিচালক অরুণ রায়। সেই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যের কারিগর শিবদাস ভাদুড়ি, গোষ্ঠ পাল, অভিলাষ ঘোষের মতো কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের চরিত্রগুলো ছবিতে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 04:42 PM Jul 11, 2026Updated: 04:59 PM Jul 11, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
