Advertisement
ব্যাংককেই ৬ একরের 'নকল' করাচি! 'ধুরন্ধর'-এর পাকিস্তান আর কোথায় কোথায় গড়ে উঠেছে?
পটভূমি পাকিস্তানে হলেও, বলাই বাহুল্য কোনও দৃশ্যই পড়শি দেশের নয়!
প্রত্যাশামতোই বিজয়রথ ছুটিয়েছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। ‘ধুরন্ধর’-এর পারফরম্যান্স পরখ করে সিনেবাণিজ্য বিশ্লেষকরা আগেই জানিয়েছিলেন যে, সিক্যুয়েলও দৌড়বে। তা অক্ষরে অক্ষরে ফলেও গিয়েছে। বিশ্বজুড়ে রীতিমতো ঝড় তুলে দিয়েছে আদিত্য ধর পরিচালিত তথা রণবীর সিং অভিনীত সিনেমা। এই ছবি যেন স্রেফ ছবি, একটা আলাদা ভুবন গড়ে তুলেছেন ছবির কলাকুশলীরা। পটভূমি পাকিস্তানে হলেও, বলাই বাহুল্য কোনও দৃশ্যই পাকিস্তানের নয়!
এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেটটি গড়ে উঠেছিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। ৬ একর জায়গার উপরে গড়ে উঠেছিল 'নকল' করাচি। তৈরি করা হয়েছিল করাচির ঐতিহাসিক শহর ল্যারি। সেখানকার দেওয়ালের নকশা থেকে খবরের কাগজের ক্লিপিং- বিশ্বাসযোগ্যতা আনতে সবই ব্যবহার করা হয়েছে। পাঁচশোর বেশি ভারতীয় ও থাইল্যান্ডের শিল্পী মিলে এখানে গড়ে তুলেছেন অবিকল করাচি।
কেবল ব্যাংকক নয়, এদেশেও হয়েছে ছবির শুটিং। লুধিয়ানার গ্রাম খেরার মানুষেরা একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আবিষ্কার করেন চারপাশে ঝুলছে পাকিস্তানি পতাকা! ব্যাপারটা কী? জানা যায়, রাতারাতি ওই গ্রামেই তৈরি হয়ে গিয়েছে পাকিস্তান! শুটিং চলছে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বাড়ির ছাদ- খেরার সঙ্গে নাকি আশ্চর্য সাদৃশ্য রয়েছে পাকিস্তানের শহরগুলির।
মনে পড়ে ছবির প্রথম ভাগের সেই অনবদ্য চেজিংয়ের দৃশ্য? নায়িকাকে বাইকে বসিয়ে হামজার বাইক আঁকাবাঁকা দ্রুতগতির সাপ হয়ে ছুটে যাচ্ছে। তাদের পিছনে নাছোড়বান্দা পুলিশের গাড়ি! নেপথ্যে বাজছে 'মনিকা ও মাই ডার্লিং!' এই জমজমাট দৃশ্যের শুটিং হয়েছে চণ্ডীগড়ের সেক্টর-১৭-র ভূগর্ভপথে।
ছবির দৃশ্যায়ন হয়েছে মুম্বইয়েও। ফিল্মিস্তানের স্টুডিও তো আছেই। এর পাশাপাশি মাধ আইল্যান্ড, ডম্বিভলি-মানকোলি সেতু, গোল্ডেন টোব্যাকো ফ্যাক্টররির মতো নানা স্থানে। এছাড়াও দক্ষিণ মুম্বইয়েও তোলা হয়েছে ছবির নানা দৃশ্য। সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপালকে দেখা গিয়েছিল শুটিং চলাকালীন।
ছবির শুটিং হয়েছে লাদাখেও। এর মধ্যে লেহতে অবস্থিত গুরুদ্বারা পাত্থর সাহিবেও তোলা হয় ছবির নানা দৃশ্য। ছবির মতো রাস্তা, উঁচু উঁচু পাহাড়ের অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রেক্ষাপটে হামজার সংগ্রাম দেখাতে চেয়েছেন পরিচালক। নিঃসন্দেহে বড়পর্দায় তা এক আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
হিমাচলপ্রদেশের ছোট্ট শহর কাসাউলির লরেন্স স্কুলেও তোলা হয়েছে ছবির দৃশ্য। শিমলার পার্বত্য এলাকায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ওই স্কুল ১৭০ বছরের প্রাচীন। সেখানেই হয়েছে শুটিং।
পাঞ্জাবের লুধিয়ানা ছাড়া ছবির শুটিং হয়েছে অমৃতসরেও। বিশ্বখ্যাত স্বর্ণমন্দিরে তোলা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য। পাশাপাশি অমৃতসরের বাস স্ট্যান্ডেও হয়েছে শুটিং। আশপাশের এলাকাতেও ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা হয়েছে হামজার পদচারণা। 'ধুরন্ধর' ছবির নানা দৃশ্যে এভাবেই ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন শহরের নানা মুহূর্ত।
দেশজুড়ে মোট ২১ হাজার ৭২৮টি স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। আর মাত্র একদিনেই ভারতে ১০২.৫৫ কোটির ব্যবসা করে বলিউড তো বটেই, এমনকী একাধিক মেগাবাজেট এবং আন্তর্জাতিক আঙিনায় ঝড় তোলা দক্ষিণী সিনেমার রেকর্ড ভেঙে সর্বকালের সেরা ব্যবসা করা হিন্দি ছবির খেতাব জিতে নিয়েছে।
তবে ছবি ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিখ্যাত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির দাবি, ''অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জেরে নির্লজ্জের মতো প্রোপাগান্ডা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবিতে।'' এহেন মন্তব্যের পরই নেটভুবনে শোরগোল! নেটবাসিন্দাদের একাংশ যেমন পয়লা দিনেই ব্লকবাস্টার হওয়া সিনেমার সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে ইউটিউবারকে কটাক্ষ করেছেন। আরেকাংশ আবার ধ্রুব রাঠির কথায় ‘বেদবাক্য’ খুঁজে পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে বিনোদুনিয়ায় ধুরন্ধর ঝড়!
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:44 PM Mar 20, 2026Updated: 08:44 PM Mar 20, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
