Advertisement
মোদি জমানার প্রথম বড় কেলেঙ্কারি! ২৫১ টাকার ফাঁদে পা দিয়ে কীভাবে প্রতারিত ৭ কোটি দেশবাসী?
এত বড় কেলেঙ্কারির ১০ বছর পরও সেভাবে শাস্তি পেতে হয়নি বিতর্কিত সংস্থার কর্ণধারকে।
ফ্রিডম ২৫১। ঠিক ১০ বছর আগে এই একটা নাম ব্যতিব্যস্ত করে দিয়েছিল গোটা দেশকে। মোদি জমানায় প্রথম বড় কেলেঙ্কারিও এই ফ্রিডম ২৫১ নামটিকে ঘিরে। একলপ্তে প্রতারিত হন ৭ কোটি মানুষ। কেন্দ্রের শাসকদলকেও এই দুর্নীতির জন্য কাঠগড়ায় তোলা হয়।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রিংগিং বেলস নামের নয়ডার এক স্টার্টআপ সংস্থা একটি স্মার্টফোন বাজারে আনে। যার নাম দেওয়া হয় ফ্রিডম ২৫১! সংস্থাটি দাবি করে মাত্র ২৫১ টাকাতে ৩জি স্মার্টফোন দেবে তাঁরা। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই শুরু হয়ে যায় প্রি বুকিং।
মোটে ২৫১ টাকায় স্মার্টফোন! তাও আবার হয় নাকি? রিংগিং বেলস বলল, হয়। অর্ডার দিলেই ঘরে পৌঁছে যাবে সবথেকে সস্তার স্মার্টফোন। অমনি রে রে করে বুক করা শুরু হয়ে গেল। মাত্র দু'দিনে ৭ কোটি মানুষ বুক করেন বিতর্কিত ওই স্মার্টফোন। যদিও সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, তাঁরা মাত্র ৩০ হাজার ফোনের অর্ডার নিয়েছে। এবং হাজার পাঁচেক ফোনের ডেলিভারিও দিয়েছে।
আসলে ফ্রিডম ২৫১ নামের ওই স্মার্টফোনের একটি মডেল বাজারে প্রকাশ করা হয়। তাতে সেসময়ের হিসাবে অত্যাধুনিক সমস্ত ফিচার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। ১.৩ গিগাহার্ৎজ কোয়াড কোর প্রসেসর, সঙ্গে ১ জিবি র্যাম। অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ আপডেট, ৩২ জিবি পর্যন্ত এক্সপ্যান্ডেবল মেমোরি। ডুয়াল সিমের এই মোবাইল থ্রি-জি সাপোর্টেড।
রিংগিং বেলের তরফে দাবি করা হয়, বেশ কিছু প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ থাকবে ওই ফোনে। রিয়ার ক্যামেরা ৩.২ এমপি, ফ্রন্ট ০.৩ এমপি। ব্যাটারি ১৪৫০ এমএএইচ। প্রস্তুতকারক সংস্থার দাবি ছিল, একবার চার্জ দিলে দিনভর ব্যবহার করা যাবে ফোনটি। স্লিক ও স্লিম। পিছনে প্লাস্টিকের রিমুভেবল ব্যাক কভার। গ্রিপিং যথেষ্ট ভাল। ডান দিকে পাওয়ার বোতাম, বাঁ দিকে ভলিউম বাড়ানো-কমানোর বোতাম। ফোনটির পিছনে নিচের দিকে থাকবে লাউডস্পিকার। ৪ ইঞ্চির কিউ এইচ ডি ৯৬০x৫৪০ মেগাপিক্সেল রেজোলিউশনের ডিসপ্লে।
মাত্র ২৫১ টাকায় এত কিছু! প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত মানুষরা ভাবতে বসলেন, এত সস্তা, সত্যি৷ এত কম টাকায় স্মার্টফোন দেওয়া আদৌ সম্ভব কি? প্রশ্ন অনেকের মনেই উঁকি দিয়েছিল। কিন্তু ফ্রিডম ২৫১-এর মার্কেটিং টিম এমনভাবে প্রচার করলেন যে একলপ্তে বহু মানুষ তাঁদের বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিলেন।
আসলে প্রচারের সময় সুকৌশলে কেন্দ্রের শাসকদলের নাম জুড়ে দিয়েছিল প্রস্তুতকারী সংস্থা। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি তখন সদ্য ক্ষমতায় এসেছেন। মেক ইন ইন্ডিয়া প্রজেক্ট ঘোষণা করেছেন। দেশবাসীকে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন দেখানো শুরু করেছেন মোদি। রিংগিং বেল সেই সুযোগ নিয়ে নিজেদের মেক ইন ইন্ডিয়ার অধীন সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থা হিসাবে প্রচার শুরু করল। ফোনের বিজ্ঞাপনে মেক ইন ইন্ডিয়ার লোগো এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার শুরু হল। ফলে সেই বিজ্ঞাপন অনেক বিশ্বাসযোগ্য হল।
স্মার্টফোনটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সেসময়ের শীর্ষ নেতা মুরলী মনোহর জোশী। একাধিক বিজেপি নেতা প্রকাশ্যেই ফোনটির বিজ্ঞাপন করেন। তাঁরা বলে শুরু করেন, এই ফ্রিডমের হাত ধরেই প্রযুক্তি ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পেতে চলেছে দেশ। ফলে দুয়ে দুয়ে চার করে নিতে অসুবিধা হয়নি সাধারণ মানুষের। আরও বিশ্বাসযোগ্য হয় ফ্রিডম ২৫১-এর দাবি।
এসব দেখে সংসদে বিরোধীরাও কিঞ্চিত হট্টগোল করেছিলেন। তাঁরা প্রশ্ন করা শুরু করেন, যেখানে সমসাময়িক, একই ধরনের ফিচারের অন্য স্মার্টফোনের দাম ২০-৩০ হাজার টাকা। সেখানে মাত্র ২৫১ টাকায় স্মার্টফোন কীভাবে দেওয়া সম্ভব। কংগ্রেস বলা শুরু করে, এটা বিরাট বড় দুর্নীতি। কংগ্রেস নেতাদের কেউ কেউ বলা শুরু করেন, এটা শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। কারণ এতে কোটি কোটি মানুষ প্রতারিত হয়েছেন।
ঝুলি থেকে বেড়াল বেরল আরও কটাদিন পরে। যখন, যে স্মার্টফোন আসার কথা সে আর এল না। প্রায় সাত কোটি মানুষ সংস্থার সবচেয়ে সস্তা স্মার্টফোন কিনতে চেয়ে ‘রিংগিং বেলস’-এর ওয়েবসাইটে নাম নথিভুক্ত করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মোতাবেক হ্যান্ডসেটগুলি গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয় সংস্থা। সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
Published By: Subhajit MandalPosted: 05:25 PM Feb 19, 2026Updated: 06:02 PM Feb 19, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
