Advertisement
তোলার টাকায় 'গ্যালাক্সি', বাড়িতে চিড়িয়াখানা! তৃণমূল নেতাদের 'প্রাসাদ' দেখে চক্ষু চড়কগাছ রাজ্যবাসীর
রাজ্যে পালাবদল হতেই একে একে সামনে আসছে নেতাদের 'কালো টাকার পাহাড়'!
তোলাবাজি থেকে শুরু করে একাধিক দুর্নীতি, দেদার কালো টাকা। আর তার উপরই দাঁড়িয়ে প্রাসাদোপম সব অট্টালিকা। বদলের বাংলায় তৃণমূল নেতাদের সেসব চোখধাঁধানো বাসভবন দেখে তাক লাগেছে পুলিশেরও! এ হল তেমন একটি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বাসভবন। অন্দরমহল ঘুরলে বিস্ময়ের শেষ থাকবে না। বিলাসবহুল রিসর্ট, পাঁচতারা হোটেলের সঙ্গেই তুলনীয় এই অট্টালিকা। ছবি: সংগৃহীত
আসুন, এ বাড়ির একটু ভিতরে ঢোকা যাক। বিষ্ণুপুরের ৫ বারের বিধায়ক হলেও দিলীপ মণ্ডলের এই বাড়িটি পৈলানে। বিশাল জায়গা নিয়ে সুইমিং পুল, বাগান তো আছেই। রুচির তারিফ করতেই হয়! তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ এ বাড়ির অন্দরে ছোটখাটো চিড়িয়াখানাটি! হরিণ থেকে শুরু করে নানা ধরনের প্রাণী আছে, সকলেই দিলীপবাবুর পোষ্যসম। তাদের ভরণপোষণের তো কম খরচ নয়। তাতে অবশ্য 'কুছ পরোয়া নহি' তাঁর। লাগে টাকা, আছে তোলাবাজি!
রাজ্যে পালাবদল হতেই অবশ্য দিলীপবাবুর এত কিছু ভোগ করার 'সৌভাগ্য' আর হয়নি। কালো টাকায় বেআইনি সম্পত্তির অভিযোগে পুলিশ তাঁর প্রাসাদে হানা দেয়। তখনকার মতো পালিয়ে বাঁচেন তৃণমূল বিধায়ক। কিন্তু পুলিশের নজর এড়ানো এত সোজা নয়, তা ভুলে গিয়েছিলেন বোধহয়। রাজ্য পুলিশের এসটিএফ দিলীপবাবুকে পুরীর হোটেল থেকে পাকড়াও করে। আদালতে তাঁর উদ্দেশে সরকারি আইনজীবীর কড়া আক্রমণ - 'নটোরিয়াস ক্রিমিনাল'।
বেআইনিভাবে ফুলেফেঁপে ওঠা আরেক সম্পদশালী তৃণমূল নেতার বাড়িও নজরকাড়া। তিনি অবশ্য দিলীপ মণ্ডলের উলটোদিকের বাসিন্দা। উত্তর ২৪ পরগনার বন্দিপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রসেনজিৎ সাহা। এলাকার সলমন খান যেন! তোলাবাজির টাকায় ঝাঁ-চকচকে বাড়ি বানিয়ে তার নাম রেখেছেন 'গ্যালাক্সি'। তবে এ গ্যালাক্সির মালিক যে তিনি, তা বোঝাতে গোটা নাম দিয়েছেন 'পি গ্যালাক্সি হাউস'। প্রাসাদ, বিলাসবহুল হোটেলের সঙ্গে তুলনা করলেও কম হয়।
প্রসেনজিৎ সাহার গ্যালাক্সির প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে অন্দরমহল, সাত তারা হোটেলকেও হার মানায়! কাঠের দামি দামি আসবাব, তুলতুলে গদির বিছানা, জানলা-দরজার পর্দা রীতিমতোয় শৌখিনতার পরিচয় দেয়। দীর্ঘ প্রবেশপথ পেরিয়ে ঘরে ঢুকলে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার উপক্রম! কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি এর অন্দরে। প্রতিবেশীরা পর্যন্ত ফিসফিস করতেন - এত টাকা পেল কোথায়?
পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পদের ক্ষমতা দেখিয়ে লাগাতার তোলাবাজি, হুমকির মতো কাজে প্রসেনজিৎ লিপ্ত ছিলই। এছাড়া কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দু'ধারে বিস্তৃত জলাজমি ভরাট করে তা চড়া দামে বিক্রির গুরুতর অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এলাকায় প্রসেনজিতের দাপট দিনদিন বাড়তে থাকে। শেষমেশ এই বাড়বাড়ন্তে লাগাম পড়ল রাজ্যে সরকার বদলের পর। রহড়া থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়ায় বিলাসবহুল বাড়ির আরাম ছেড়ে তীব্র গরমে জেলেই থাকতে হচ্ছে 'তোলাবাজ' নেতাকে।
ভাগচাষি থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্যের অধিপতি! আরেক প্রাসাদের মালিক বীরভূমের ইলামবাজারে তৃণমূল নেতা রবি মুর্মু। রাজ্যে পালাবদলের পর চর্চায় তাঁর অট্টালিকাও। বীরভূম জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ তথা জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য রবি মুর্মু। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তাঁর সম্পত্তির বহর যেভাবে বেড়েছে, তা নিয়েই দীর্ঘদিন ধরেই চর্চা রয়েছে গুঞ্জন এলাকায়।
সবশেষে একজনের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। দলের নেতা না হলেও তৃণমূলেরই 'আশীর্বাদী হাত' মাথায় নিয়ে দেদার দুর্নীতিতে আপাতত জেলে। তিনি হলেন কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। মুর্শিদাবাদের বাড়ি থেকে তাল তাল সোনা, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উদ্ধার করেছে ইডি। শান্তিনিকেতনেও কম দামে জমি কিনে তৈরি আবাসন কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন। এ তো কুবের ধন!
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 11:57 PM May 29, 2026Updated: 11:57 PM May 29, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
