Advertisement
পাহাড় ভ্রমণের রোমাঞ্চ এবার জমবে ধোঁয়া ওঠা ম্যাগির টানেই, রইল ভারতের সেরা ৬ ম্যাগিস্পট
গাড়িতে দীর্ঘক্ষণ। পাহাড়ি পথে চিঁচিঁ করছে পেট। সঙ্গে থাকা খাবারও শেষ। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে শুধুই বরফ। আর তীব্র কাঁপুনি। কিছু দূরে হঠাৎই ড্রাইভার গাড়ি থামালেন। মেলার মতো ভিড় জমেছে। গাড়ি থেকে নেমে অবাক হলেন আপনি। তারপর?
ছোট্ট কাঠের কুঠুরি। চৌকিতে বসে রয়েছেন। ভিতর থেকে একজন গরম একবাটি ম্যাগি দিয়ে গেল আপনাকে। সেই পাহাড়ি মানুষটার মুখ আজ আর মনে নেই। কিন্তু গরম ম্যাগির সেই স্বাদ আজও আপনার জিভে। আজ্ঞে হ্যাঁ, পাহাড়ি ভ্রমণের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এই ম্যাগি। ভারতের বেশ কিছু পাহাড়ি ম্যাগিস্পট খিদের চেয়েও বেশি খোরাক জোগায় মনের। প্রত্যেকটির রয়েছে নিজস্ব আখ্যান। রইল এমন ৬টি স্থানের গল্প।
ত্রিয়ুন্দ, হিমাচল প্রদেশ: ম্যাকলিওডগঞ্জের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ট্রেকারদের ক্লান্তি মেটানোর একমাত্র ঠিকানা এখানকার পাহাড়ি ম্যাগির দোকানগুলি। ধৌলাধর পর্বতের কোলে মেঘেদের আনাগোনার মাঝে এখানে জমে ওঠে আড্ডা। শুধু গরম নুডলস আর এক কাপ চা স্বাদ বদলে দেয় দীর্ঘ যাত্রাপথের। আজ এই চেনা স্বাদই ত্রিয়ুন্দ ভ্রমণের এক অনন্য ও জনপ্রিয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।
মুসৌরি, উত্তরাখণ্ড: পাহাড়ে সন্ধে নেমে আসলে, মুসৌরির পথের ধারের দোকানগুলিই ভরসা। একসময় যা ছিল নিতান্তই অস্থায়ী আস্তানা, আজ তা পর্যটকদের প্রিয় ডেস্টিনেশন। ঝিরঝিরে বৃষ্টি আর কুয়াশার চাদরে মোড়া এই পাহাড়ে ধোঁয়া ওঠা এক বাটি ম্যাগি যেন স্বর্গের প্রাসাদ। এখানকার ঘরোয়া পরিবেশ মন কাড়ে পর্যটকদের।
কাঠগোদাম, উত্তরাখণ্ড: কুমায়ুন পাহাড়ের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই পথেই লুকিয়ে রয়েছে ম্যাগির আসল স্বাদ। নৈনিতাল বা অন্য পাহাড়ি চত্বরে যাওয়ার আগে পর্যটকরা এখানেই রসনাতৃপ্তি সারেন। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ দিয়ে দীর্ঘ সফরের আগে এই গরম খাবার দারুণ এনার্জি জোগায়। বছরের পর বছর ধরে পর্যটকদের কাছে এটি এক বিশ্বস্ত বিরতিস্থল হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
শিমলা, হিমাচল প্রদেশ: শিমলার বরফঠান্ডা আবহাওয়ায় সস্তায় পুষ্টিকর এবং চটজলদি খাবারের বিকল্প মেলা ভার। ভিউ পয়েন্টের কাছাকাছি ছোট ছোট ক্যাফেগুলিতে ম্যাগির গন্ধেই মজে থাকেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। কনকনে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে এখানে এক বাটি ম্যাগি খাওয়া এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শৈলশহরের অলিতেগলিতে এই স্বাদ এখন এক নতুন রিচুয়াল।
মানালি, হিমাচল প্রদেশ: রোহতাং পাস বা লাদাখগামী বাইকার ও ব্যাকপ্যাকারদের কাছে মানালির এই ছোট দোকানগুলি লাইফলাইন। কনকনে ঠান্ডায় পাহাড়ি রাস্তায় বাইক চালানোর পর গরম নুডলস যেন ম্যাজিকের মতো কাজ করে। রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের কাছে এই ঠিকানাগুলি এখন এক একটি ল্যান্ডমার্ক। অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গে ম্যাগির এই যুগলবন্দি সত্যিই অনবদ্য ও দারুণ আকর্ষণীয়।
খারদুংলা পাস, লাদাখ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এই ক্যাফে ইতিহাস তৈরি করেছে। বিশ্বের উচ্চতম এই ক্যাফেতে বসে ম্যাগি খাওয়ার অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে রাখার মতো। তীব্র ঠান্ডা আর অক্সিজেনের ঘাটতির মাঝেও এখানকার গরম নুডলস শরীরে উষ্ণতা এনে দেয়। পৃথিবীর ছাদে বসে এমন স্বাদ পাওয়ার অভিজ্ঞতা ক'জনেরই বা হয়?
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 08:10 PM May 28, 2026Updated: 08:10 PM May 28, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
