Advertisement
জুতো কেনার টাকা ছিল না! ঈশানের উপহারেই আইপিএলে বাজিমাত বিহারি পেসারের
এবারের আইপিএল থেকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ছিটকে গেলেও তাঁর নাম আলোকিত।
আইপিএলে বিহারের ক্রিকেটার বললে প্রথমে কার কথা মনে আসে? বৈভব সুর্যবংশী। তাই তো? এবার তাতে নাম জুড়ে নিন সাকিব হুসেনের (Sakib Hussain)। আইপিএল থেকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ছিটকে গেলেও তাঁর নাম আলোকিত। ২২ বছর বয়সি ডানহাতি পেসার এই সাকিব হুসেন। এবারের মরশুমেই তাঁর আইপিএল অভিষেক হয়েছে। আর প্রথম বছরেই নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেছেন তিনি।
২০২৪-র আইপিএলে ২০ লক্ষ টাকায় তরুণ তুর্কিকে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু কোনও ম্যাচ খেলায়নি। গতবছর নিলাম থেকে সানরাইজার্স তাঁকে কিনে নেয় ৩০ লক্ষ টাকায়। আস্থার মর্যাদা রেখে ১১টি ম্যাচে ১৫টি উইকেট তুলে নিয়েছেন এই পেসার। শুধু উইকেট সংখ্যাই নয়, তাঁর বোলিং আলাদা করে নজর কেড়েছে। তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কঠিন সংগ্রাম এবং ঈশান কিষানের অবদান।
সাকিব (Sakib Hussain) নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর এই যাত্রাপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন ঈশান কিষান (Ishan Kishan)। এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার আর্থিক অবস্থার কথা শুনে ঈশান ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি কোন জুতো পরে খেলতে চাই।”
তাঁর সংযোজন, “আমি বলেছিলাম, অ্যাডিডাস অ্যাডিপাওয়ার স্পাইক পরতে চাই। যার দাম প্রায় ১২-১৫ হাজার টাকা। নাম শুনেই ঈশান ভাই আমাকে ছয় জোড়া স্পাইক কিনে দেয়। এর আগে এত দামের জুতো কেনা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।” ছবি এআই দ্বারা নির্মিত।
এবারের আইপিএলের আগে সাকিবের জীবন মোটেও সহজ ছিল না। বিহারের গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এই তরুণ ক্রিকেটার একসময় দিনে দু’বেলা খাবারও জুটত না। নিজের সেই দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে সাকিব বলেন, “আমার কাছে হারানোর কিছু নেই। শুধু পাওয়ার আছে। তাই যা করার, এখানেই করব এবং নিজের সেরাটা দেব।”
ক্রিকেট খেলার জন্য প্রয়োজনীয় স্পাইক জুতো কেনাও ছিল তাঁর কাছে একপ্রকার দুঃসাধ্য ব্যাপার। সাকিব বলেন, “ক্রিকেটের স্পাইক জুতোর দাম ১০-১৫ হাজার টাকা। জুতো কিনলে খাব কী?” এহেন সাকিবের প্রথম ভালোবাসা ক্রিকেট ছিল না। তাঁর লক্ষ্য ছিল সৈনিক হওয়া। সেই জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দৌড়তেন।
হঠাৎ বাড়িতে অর্থাভাব নেমে আসে। কাজ হারান শ্রমিক বাবা। পরিবারকে সাহায্যের জন্য টেনিস বলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলা শুরু করেন। ম্যাচ প্রতি ৫০০-১০০০ টাকা করে পেতেন। ছেলের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে ত্যাগ স্বীকার করেন মা সুবুক্তারা খাতুন। তিনি বলেন, “একদিন সাকিব এসে বলল, 'মা, আমার তো স্পাইক জুতো নেই। কীভাবে খেলব?' আমার কাছে টাকা ছিল না। গয়না বিক্রি করে দিই।”
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 07:09 PM May 29, 2026Updated: 07:28 PM May 29, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
