Advertisement
আইপিএল যেন ‘টাকার ডিম পাড়া হাঁস’! ট্রফির মুখ না দেখেও কীভাবে ধনকুবের দিল্লি-পাঞ্জাব?
আইপিএলের ব্যবসায়িক মডেল এমনভাবে সাজানো, যেখানে ট্রফি না জিতেও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বিপুল মুনাফা লাভ করতে পারে।
বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী। এই প্রবাদ যেন হুবহু মিলে যায় আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির ক্ষেত্রে। মাঠে সাফল্য-ব্যর্থতার আলাদা গল্প হতে পারে। কিন্তু ব্যবসার অঙ্কে প্রায় সব দলই সমান শক্তিশালী। কেউ পাঁচটি ট্রফি জিতেছে। কেউ এখনও শিরোপার স্বাদ পায়নি। আবার কেউ টানা কয়েক মরশুম হতাশ করেছে সমর্থকদের। তবু একটি জায়গায় মিল, তাদের ব্যবসায় কখনও মন্দা পড়ে না।
প্রতিটি দলের বাজারমূল্যই এখন প্রায় ৫০০ কোটির আশপাশে। কোথাও আরও বেশি। প্রশ্ন উঠতেই পারে, মাঠে ফল ভালো না হলেও কীভাবে এমন আর্থিক সাফল্য সম্ভব? উত্তর লুকিয়ে আছে আইপিএলের বিশাল ব্র্যান্ড ভ্যালু, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি, মার্চেন্ডাইজিং এবং বিশ্বজোড়া দর্শকপ্রিয়তায়। তাই এখানে শুধু ট্রফি নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজির আসল জয় অনেক সময় ঘটে বাণিজ্যের মঞ্চেই।
১৮টি আসর পেরিয়ে গিয়েছে। একবারও ট্রফি জেতা হয়নি পাঞ্জাব কিংস এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের। প্রথমে আসা যাক প্রীতি জিন্টার ফ্র্যাঞ্চাইজির কথায়। গতবছর ফাইনালে উঠেও হারতে হয়েছিল তাদের। তা সত্ত্বেও পাঞ্জাবের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯,৫৬১ কোটি টাকা। দিল্লি ক্যাপিটালসও শিরোপাহীন। তবু বাজারমূল্যে তারা পিছিয়ে নেই। প্রায় ৪৯২০ কোটি।
বিশ্বের অধিকাংশ লিগের ক্ষেত্রে শিরোপা না জেতার অর্থ তাদের কদর কমে যাওয়া। কিন্তু আইপিএলের ক্ষেত্রে তা ব্যতিক্রম। এই লিগের ব্যবসায়িক মডেল এমনভাবে সাজানো, যেখানে ট্রফি না জিতেও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বিপুল মুনাফা লাভ করতে পারে।
প্রত্যেক ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য রয়েছে নিশ্চিত আয়ের ব্যবস্থা। প্রতি বছর আনুমানিক ৪৮৪ কোটি টাকা পায় দলগুলি। যে দল পয়েন্ট তালিকার একেবারে তলানিতে, সেও পায়। এর মূল কারণ, বিসিসিআই ২০২৩ থেকে ২০২৭ সালের জন্য ডিজনি স্টার ও ভায়াকম১৮-র সঙ্গে ৪৮,৩৯০ কোটি টাকার বিশাল মিডিয়া রাইটস ডিল করেছে। সেই অর্থের বড় একটা অংশ সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয় দলগুলির মধ্যে।
আইপিএলের ব্যবসায়িক মডেলের অন্যতম বড় শক্তি হল ব্যয়ের নির্দিষ্ট সীমা। যেখানে লোকসানের সুযোগ প্রায় নেই। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এক মরশুমে ক্রিকেটারদের বেতনের জন্য সর্বোচ্চ ১২০ কোটি টাকা খরচ করতে পারে। এর সঙ্গে যাতায়াত, হোটেল, সাপোর্ট স্টাফ-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়বাবদ ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা যোগ করুন। মোট খরচ সাধারণত ১৫০ থেকে ১৭০ কোটি টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
শুধু বিসিসিআইয়ের সেন্ট্রাল পুল থেকেই প্রতিটি দল প্রায় ৪৮৪ কোটি টাকা পায়। অর্থাৎ টিকিট বিক্রি, স্পনসরশিপ, মার্চেন্ডাইজ বা অন্য কোনও বাণিজ্যিক আয় ধরা ছাড়াই বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি মরশুম শুরুর আগেই বিশাল অঙ্কের লাভের জায়গায় চলে যায়। এই ‘স্যালারি ক্যাপে'র ফলে লোকসান হওয়ার সুযোগ খুবই কম।
স্পনসররা কেবল ট্রফির জন্য নয়, তারা টাকা ঢালে দর্শকদের মনোরঞ্জিত করার জন্য। এই জায়গাতেই আইপিএলের শক্তি সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালে সিএসকে'র অফিসিয়াল স্পন্সর হয়েছে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। ২০২৫ সালে তাদের জার্সির সামনে এই সংস্থার লোগো জায়গা পায়। চলতি মরশুমে ইতিহাদের পাশাপাশি অশোক লেল্যান্ড অফিসিয়াল জার্সি স্পনসর হিসেবে দলে যোগ দেয়।
শুধু শীর্ষ দলই নয়, পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা দলগুলোর জার্সিতেও দেখা যায় ১০ থেকে ১২টি ব্র্যান্ড লোগো। যার প্রতিটির মূল্যই কোটি টাকার সমান। গত আইপিএলে বিজ্ঞাপন থেকেই আয় পৌঁছেছিল আনুমানিক ৪,৫০০ কোটি টাকায়। স্কোরবোর্ডে জয়-পরাজয়ের অঙ্ক যেমনই লেখা থাক, আইপিএলের প্রতিটি ম্যাচই যেন বাণিজ্যিক মহোৎসব। পরাজিত দলের জার্সিতে জায়গা পাওয়া কোনও ব্র্যান্ডও অন্তত ৫০ কোটি দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়।
টানা ১৭ বছর শিরোপাহীন ছিল আরসিবি। তা সত্ত্বেও ব্যবসায়িক সাফল্যে শীর্ষে ছিল তারা। ২০২৫ সালে প্রথম ট্রফি জয়ের আগেই ২০২৪ সালে তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল্য পৌঁছায় ১২,৬০০ কোটি টাকায়। বেঙ্গালুরুর বিশাল বাজার, বিরাট কোহলির ব্র্যান্ড ইমেজ, স্পনসরশিপ, সোশাল মিডিয়ায় চার কোটি অনুসারী, সেন্ট্রাল পুল পেমেন্টের জোরেই তারা প্রমাণ করেছে ট্রফি না এলেও কীভাবে লক্ষ্মীলাভ করা সম্ভব।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 04:03 PM Apr 29, 2026Updated: 04:04 PM Apr 29, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
