Advertisement
গোয়েঙ্কার লখনউ এবারও 'মাথা ভারী', দলের সঙ্গে কেরিয়ার বাঁচাতেও নামবেন পন্থ-শামিরা!
হিন্দু পুরাণের উপর ভিত্তি করে হাতি ও গরুড়ের আদলে তৈরি নতুন লোগো ও নতুন জার্সিতে মাঠে নামবেন পন্থরা।
আইপিএলের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। ২৮ মার্চ থেকে শুরু কোটি টাকার লিগ। নিলাম-রিটেনশনের পর কেমন হল কোন দল? কারা বেশি শক্তিশালী? একনজরে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির শক্তি বা দুর্বলতা? আজজ লখনউ সুপার জায়ান্টস।
সূচি: নিলামে দলে অদলবদল করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বদল এসেছে লোগোতে। হিন্দু পুরাণের উপর ভিত্তি করে হাতি ও গরুড়ের আদলে লোগো তৈরি হয়েছে। দিন কয়েক আগে কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, অধিনায়ক ঋষভ পন্থ-সহ অনেকে রামমন্দিরে গিয়েছিলেন। লখনউয়ের ম্যাচ দিল্লি- ১ এপ্রিল। সানরাইজার্স- ৫ এপ্রিল। ৯ এপ্রিল- কেকেআর। ১২ এপ্রিল- গুজরাট।
স্কোয়াড: ঋষভ পন্থ (অধিনায়ক), এইডেন মার্করাম, হিম্মত সিং, ম্যাথু ব্রিটজকে, মুকুল চৌধুরী, অক্ষত রঘুবংশী, জশ ইংলিশ, নিকোলাস পুরান, মিচেল মার্শ, আবদুল সামাদ, শাহবাজ আহমাদ, আরশিন কুলকার্নি, ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গা, আয়ুষ বাদোনি, মহম্মদ শামি, আভেশ খান, এম. সিদ্ধার্থ, আকাশ সিং, দিগ্বেশ রাঠি, প্রিন্স যাদব, অর্জুন তেণ্ডুলকর, আনরিখ নখিয়া, নমন তিওয়ারি, ময়ঙ্ক যাদব, মহসিন খান।
শক্তি ১: দলকে সাফল্য পেতে হলে পন্থকে দায়িত্ব নিতে হবে। টি-টোয়েন্টি ফর্ম ফেরাতে যুবরাজ সিংয়ের থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নিকোলাস পুরানের কাছে প্রত্যাশা থাকবে। তিনি গত দুই বছর ধরে যা করে আসছেন, তাই করলেই যথেষ্ট। ধারাবাহিকতা আশা করা যায় মিচেল মার্শের থেকে। অন্যদিকে, শামি যদি টুর্নামেন্টের শুরুতেই ছন্দে ফিরতে পারেন, তবে লখনউ বাড়তি অ্যাডভান্টেজ পাবে।
শক্তি ২: এলএসজি স্কোয়াডের দিকে তাকালে স্বীকার করতেই হবে যে, দলটির বিদেশি ব্যাটিং অন্যতম সেরা। তাদের দলে আছেন এইডেন মার্করাম, জশ ইংলিস, নিকোলাস পুরান, মিচেল মার্শ। তাঁরা শুধু তাঁদের পাওয়ার-হিটিংয়ের জন্যই পরিচিত নন, বরং ধারাবাহিকও বটে। গত দুই মরশুমে পুরান যথাক্রমে ৪৯৯ এবং ৫২৪ রান সংগ্রহ করেছেন। সঙ্গে আছেন ঋষভ পন্থ। এঁদের কোনও একজনের ব্যাট চললেই প্রতিপক্ষের ঘুম ছুটবে।
শক্তি ৩: দলের বড় তারকাদের মধ্যে অনেকেই অলরাউন্ডার। যাঁরা প্রয়োজনে ব্যাট বা বল হাতে অবদান রাখতে পারেন। মার্শের সঙ্গে মিডিয়াম পেস করতে পারেন অর্জুন তেণ্ডুলকর। হাসরাঙ্গা ফিট হলে ব্যাটিং-বোলিং দুটোই সামলাতে পারবেন। আয়ুষ বাদোনি ও শাহবাজ আহমেদের উপর অনেকটাই নির্ভর করবেন পন্থ। বিশেষ করে বাংলার অলরাউন্ডার শাহবাজকে ফিনিশিংয়ের দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে।
দুর্বলতা ১: আইপিএলে কমবেশি সব দলই চোট-আঘাতে জর্জরিত। লখনউ এমন একটা দল, যারা ভবিষ্যতে কে চোট পাবে সেই নিয়ে চিন্তিত। শ্রীলঙ্কার স্পিনার ওয়াদিন্দু হাসরাঙ্গার ফিটনেস নিয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে মূল সমস্যা হল দলের বাকি বোলাররা চোটপ্রবণ। নখিয়া, শামি বা আভেশ খানের চোটের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। ময়ঙ্ক যাদব আপাতত ফিট। বোলিংয়ের গতির কী অবস্থা সেটা বল গড়ালেই জানা যাবে।
দুর্বলতা ২: বড় নাম থাকা সত্ত্বেও পেস বোলিং আক্রমণ দুর্বল। মহম্মদ শামির কামব্যাকের লড়াইয়ে চোখ থাকবে। কিন্তু আভেশ খান বা মহসিন খানের কি সেই ভেদশক্তি আছে? একমাত্র বিদেশি পেসার নখিয়া আর যাই হোক গেমচেঞ্জার নন। সবচেয়ে বড় কথা, একটি মাত্র চোট পুরো দলকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। গত দুই মরশুমে তাদের যেরকম আত্মবিশ্বাসহীন দল বলে মনে হয়েছে, তা এবছরও চলতে পারে।
দুর্বলতা ৩: মাঠের বাইরের চাপ। লখনউয়ের ম্যাচ থাকলেই এখন নজরে থাকে মাঠের বাইরে কী চলছে? দু'বছর আগে তৎকালীন অধিনায়ক কেএল রাহুলের সঙ্গে মালিক সঞ্জীব কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কার বচসা নিয়ে বিতর্ক হয়। তারপর থেকে লখনউয়ের দলীয় সংস্কৃতি প্রশ্নের মুখে। এখন ম্যাচ হারলে পন্থ-গোয়েঙ্কার মধ্যে কী কথা হয়, সেটাও বেশ মুচমুচে বিষয়।
এইডেন মার্করাম, মিচেল মার্শ, ঋষভ পন্থ (অধিনায়ক/উইকেটকিপার), নিকোলাস পুরান, আয়ুষ বাদোনি, আবদুল সামাদ, শাহবাজ আহমেদ, দিগ্বেশ রাঠি, ময়ঙ্ক যাদব, মহম্মদ শামি, আনরিখ নখিয়া। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার: ময়ঙ্ক যাদব/ মুকুল চৌধুরী
এক্স ফ্যাক্টর: দিগ্বেশ রাঠী। গতবার উল্কার গতিতে উত্থান রহস্য স্পিনারের। ১৩ ম্যাচে ১৪ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি নোটবুক সেলিব্রেশনে বিতর্ক বাঁধিয়েছেন। বেতনের থেকে বেশি টাকা জরিমানা দিয়েছেন। তবু 'দুর্বল' বোলিং বিভাগে ভরসা জোগাতে পারেন রহস্য স্পিনার। নজর রাখতে হবে ময়ঙ্ক যাদবের দিকেও। ১৫৭ কিমি প্রতি ঘণ্টায় বল করা পেসারের ফিটনেস ও ফর্মের দিকে তাকিয়ে আছে ভারতীয় ক্রিকেটমহল।
Published By: Arpan DasPosted: 04:05 PM Mar 25, 2026Updated: 04:05 PM Mar 25, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
