Advertisement
‘আজি এ বসন্তে’ পলাশ থেকে সূর্যমুখী, উইকেন্ডে ঘুরে আসুন বাংলার ৫ মায়াবী ফুলের স্বর্গরাজ্যে
'আহা আজি এ বসন্তে, কত ফুল ফোটে'। রবি ঠাকুকের এ গান যেন বসন্ত রাঙিয়ে দেয়। আর বসন্ত মানেই এ বঙ্গে নানা ফুলের সমাহার। সাত রঙের মিলন। পলাশের আগুন থেকে সূর্যমুখীর হাসি। উত্তরের পাহাড় থেকে দক্ষিণের রাঙামাটি। সর্বত্রই বসন্তের জয়গান। ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। এই অপার নিসর্গকে হৃদয় দিয়ে স্পর্শ করতে চান? তাহলে আর দেরি নয়।
'আহা আজি এ বসন্তে, কত ফুল ফোটে'। রবি ঠাকুকের এ গান যেন বসন্ত রাঙিয়ে দেয়। আর বসন্ত মানেই এ বঙ্গে নানা ফুলের সমাহার। সাত রঙের মিলন। পলাশের আগুন থেকে সূর্যমুখীর হাসি। উত্তরের পাহাড় থেকে দক্ষিণের রাঙামাটি। সর্বত্রই বসন্তের জয়গান। ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। এই অপার নিসর্গকে হৃদয় দিয়ে স্পর্শ করতে চান? তাহলে আর দেরি নয়।
ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এপ্রিলের গোড়া পর্যন্ত ফুলে ফুলে ভরে থাকে বঙ্গ। নাগরিক কোলাহল ছেড়ে দু-দণ্ড শান্তি পেতে চান? তাহলে এখনই বেরিয়ে পড়ুন। প্রকৃতির ক্ষণস্থায়ী রূপ লেন্সবন্দি করার এটাই সুবর্ণ সুযোগ। কোথায় যাবেন? নাহ, খুব বেশি দূরে নয়। কলকাতার কাছেই রয়েছে এমন কিছু স্বর্গীয় স্থান। জেনে নিন কোথায় যাবেন?
পূর্ব মেদিনীপুরের ক্ষীরাই এখন বাংলার 'ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স'। পাঁশকুড়ার এই নিভৃত গ্রামটি গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা আর গ্ল্যাডিওলাসের চাদরে ঢাকা। রেললাইনের ধার ঘেঁষে দিগন্তবিস্তৃত ফুলের খেত এক মায়াবী জগৎ তৈরি করে। ট্রেনের জানলা দিয়ে হোক বা পায়ে হেঁটে, ক্ষীরাইয়ের এই রঙিন আল্পনা আপনার মন ভালো করে দেবেই। ইনস্টাগ্রাম রিলসের জন্য এটি আদর্শ জায়গা।
ক্ষীরাইয়ের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে, তাই নিরিবিলি চাইলে ঘুরে আসুন এখানকার ফুলের খেত থেকে। থরে থরে সাজানো রজনীগন্ধা আর চন্দ্রমল্লিকার সুবাসে ম ম করছে চারপাশ। রেললাইনের সমান্তরালে চলা এই রঙের মেলা যেন এক জীবন্ত সিনেমাটোগ্রাফি। খুব অল্প খরচে এবং কম সময়ে কলকাতার কাছাকাছির মধ্যে এমন প্রাকৃতিক শোভা সত্যিই বিরল। একই সঙ্গে মনোরম।
নদিয়া জেলার চাপড়া যেন এক শিল্পীর ক্যানভাস। গোলাপ, জারবেরা আর মরশুমি ফুলের সমারোহে এখানে তৈরি হয় রঙের মোজাইক। পর্যটকদের ভিড় এখানে তুলনামূলক কম। তাই শান্তির খোঁজ মেলে সহজেই। যারা ভিড় এড়িয়ে নির্জনে প্রকৃতির রূপ উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য চাপড়া একটি চমৎকার গন্তব্য হতে পারে। এই বসন্তেই ঘুরে আসুন এই অদেখা স্বর্গে।
চাপড়ার ফুলের খামারগুলোতে পা রাখলে মনে হবে কোনও রূপকথার দেশে চলে এসেছেন। চারদিকের উজ্জ্বল রঙের মেলা চোখের আরাম দেয়। এখানকার শান্ত পরিবেশ আর গ্রামীণ স্নিগ্ধতা আপনাকে মুগ্ধ করবে। বড় কোনও ট্যুর প্ল্যান না করেও একদিনের ছুটিতেই এই জায়গার মায়ায় জড়িয়ে পড়া সম্ভব। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ রূপ চাক্ষুষ করতে দেরি করবেন না।
বসন্ত মানেই পুরুলিয়ার রাঙামাটির পথে পলাশের আগুন। দিগন্ত জোড়া লাল পলাশের মেলা বসন্তের আসল রূপকে ফুটিয়ে তোলে। অযোধ্যা পাহাড়ের পাদদেশে যেন প্রকৃতির উৎসব শুরু হয়। পলাশ ফুলের এই জাদুকরি ছোঁয়া দেখতে প্রতি বছর বহু পর্যটক ভিড় জমান এখানে। রুক্ষ মাটির বুকে আগুনের মতো লাল ফুলগুলো যেন এক জীবন্ত কবিতা।
পুরুলিয়ার গ্রামে গ্রামে এখন পলাশের ছোঁয়া। গাছের ডালে ডালে ফুটে থাকা এই ফুল বাংলার বসন্তের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। পলাশের জঙ্গলে হাঁটতে হাঁটতে আদিবাসী জীবনের স্বাদ নেওয়া যায় খুব কাছ থেকে। পাহাড় আর জঙ্গলের মাঝে এই লাল রঙের খেলা আপনাকে জাগতিক সব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবে। বসন্তের পূর্ণিমায় পুরুলিয়া হয়ে ওঠে আরও বেশি মায়াবী।
দক্ষিণ ২৪ পরগণার দেউলা এখন সূর্যমুখীর হাসিতে উজ্জ্বল। বিশাল এলাকা জুড়ে ফুটে থাকা হলুদ সূর্যমুখী ফুলগুলো যেন ভ্যান গঘের ছবির কথা মনে করিয়ে দেয়। রোদ ঝলমলে দিনে এই ফুলের খেতে ঘুরে বেড়ানো এক অনন্য অভিজ্ঞতা। শহরের কংক্রিটের জঙ্গল থেকে দূরে এই সোনালি স্বপ্নভূমি আপনার উইকেন্ডকে সার্থক করে তুলবে। এর গ্রাম্য পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে।
বসন্ত শুধু সমতলে নয়, পাহাড়েও ছড়ায় নতুন সাজে। সান্দাকফুর চড়াই-উতরাই এখন লাল ও গোলাপি রডোডেনড্রনে ঢাকা। দূরে বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা আর সামনে ফুলের গালিচা— এই দৃশ্য স্বর্গের চেয়ে কম কিছু নয়। ট্রেকিংপ্রেমীদের কাছে এই সময়টা সবথেকে প্রিয়। পাহাড়ের এই দুর্লভ রূপ দেখতে হলে আপনাকে একটু কষ্ট করে উঠতেই হবে এই উচ্চতায়।
সময় কম বা পকেটে টান থাকলেও এই জায়গাগুলো ঘুরে দেখা সম্ভব। বাংলার এই রূপ উপভোগ করতে খুব বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র একটি ব্যাগ আর মনের ইচ্ছে থাকলেই আপনি হয়ে উঠতে পারেন নিঃসঙ্গ সম্রাট। প্রকৃতি নিজেই এখানে আপনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। দেরি না করে আজই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন প্রকৃতির এই বর্ণিল উৎসবে।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 07:37 PM Mar 25, 2026Updated: 07:37 PM Mar 25, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
