Advertisement
'বিশ্বাসঘাতকে'ই আস্থা! যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব পাকিস্তানকে দিল ইরান-আমেরিকা, নেপথ্যে কোন অঙ্ক?
যুদ্ধবিরতির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ এবং পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিফ মুনিরের নাম।
ভারতের পড়শি। বহুবার বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। বছরের পর বছর ভারতে জঙ্গি হামলার জন্যও তাদের দিকেই আঙুল উঠেছে। কিন্তু ৪০ দিন ধরে চলতে থাকা যুদ্ধ থামাতে সেই পাকিস্তানই ভরসা হয়ে উঠল ইরান এবং আমেরিকার জন্য।
বুধবার দু'পক্ষ জানিয়েছে, আপাতত ১৪ দিনের জন্য তারা সংঘর্ষবিরতিতে রাজি। সেই ঘোষণা করতে গিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি কৃতজ্ঞতায় ভরিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানকে। সাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ থামাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে শাহবাজ শরিফের দেশ।
আরাঘচির এই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ এবং পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিফ মুনিরের নাম। সেই একই বার্তা নিজের সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও। অর্থাৎ যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব পাকিস্তানকেই দিয়েছে যুদ্ধরত দুই দেশ।
যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন শাহবাজও। জানিয়েছেন, আমেরিকা ও তাদের সমস্ত সহযোগী এবং ইরানের মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। লেবাননেও থামবে হামলা। ইরান এবং আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধানদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন শাহবাজ।
পাক প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করবেন। আগামী দিনে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এই বৈঠকের ফলে, এমনটাই আশা পাক প্রধানমন্ত্রীর।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ট্রাম্পের দেওয়া ডেডলাইন পেরিয়ে যাওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে গিয়েছেন পাক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। মঙ্গলবার প্রায় সারাদিনই তিনি ইরান এবং আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন।
জানা গিয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সারারাত ধরে বারবার কথা বলেছেন মুনির। আলোচনা চালিয়েছেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং আরাঘচির সঙ্গেও।
কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, 'বিশ্বাসঘাতক' হিসাবে পরিচিত পাকিস্তানকে কী করে বিশ্বাস করল ইরান এবং আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশগুলো? পাক মধ্যস্থতায় রাজি হয়ে কী করে থেমে গেল ৪০ দিন ধরে চলা যুদ্ধ?
প্রথম কারণ হিসাবে মনে করা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার প্রতিবেশীদের উপর ভরসা হারিয়ে ফেলেছে ইরান। যেহেতু সৌদি আরব, কাতারের মতো দেশগুলির সঙ্গে মার্কিন সখ্য বাড়ছে, তাই মুসলিমপ্রধান দেশগুলিকেও আর বন্ধু বলে ভাবতে পারছে না তেহরান। বরং প্রতিবেশী পাকিস্তানকে অনেক বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে তাদের।
দ্বিতীয়ত, গত বছর অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বেশ কয়েকবার মার্কিন সফরে গিয়েছেন শাহবাজ-মুনির। ট্রাম্প নিজেও তাঁদের প্রশংসা করেছেন। যেহেতু পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরব-সহ আমেরিকার 'বন্ধু' দেশগুলির সম্পর্ক ভালো, তাই ইসলামাবাদে ভরসা রেখেছেন ট্রাম্পও।
বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, অপারেশন সিঁদুরের পর ট্রাম্প যখন বারবার ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতির কৃতিত্ব দাবি করছেন, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিকে মান্যতা দিয়ে এসেছে ইসলামাবাদ। ফলে ট্রাম্পের কাছে শাহবাজ-মুনির জুটির গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তাই মুসলিম রাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করতে ইসলামাবাদকে বেছে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 12:31 PM Apr 08, 2026Updated: 02:12 PM Apr 08, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
