Advertisement
আচমকা অসুস্থ বোধ করছেন? আপনার ভয়ংকর রোগ আগেভাগেই শনাক্ত করতে পারে পোষ্য!
কোন কোন রোগ টের পায় ওরা?
ক্লান্তি দূর করতে চারপেয়েদের ভালোবাসার যে কোনও বিকল্প নেই, তা তো সকলেরই জানা। ১০ মিনিট ওদের সঙ্গ যে কারও মন ভালো করে দিতে অব্যর্থ। কিন্তু শুধু ভালোবাসা দেওয়া বা ক্লান্তি দূর করাই নয়, আরও বেশ কিছুক্ষেত্রে গুণ রয়েছে সারমেয়দের। যেমন, স্রেফ গন্ধ শুঁকে বেশ কিছু বড় অসুখ শনাক্ত করতে পারে এরা।
নিশ্চয়ই ভাবছেন এটা কী করে সম্ভব? কুকুরদের ঘ্রাণশক্তি যে প্রবল তা সকলেরই জানান। আর সেই ক্ষমতার প্রয়োগ করেই মানুষের শরীরের সুক্ষ্ম রাসায়নিক পরিবর্তনগুলো বুঝতে পারে ওরা।
এই তালিকায় প্রথম হচ্ছে মারণ রোগ ক্যানসার। যা ধরতে একাধিক বড় পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয়, স্রেফ গন্ধ শুঁকে তা বুঝে যায় সারমেয়রা। আসলেও ক্যানসারের কোষের গন্ধ বুঝতে পারে ওরা। গবেষণা বলছে, ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই তাঁদের অনুমান সঠিক হয়। ৮৮ শতাংশ ক্ষেত্রে সফলভাবে স্তন ক্যানসার ধরতে পারে ওরা। ফুসফুসে ক্যানসারের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৯৯ শতাংশ।
মনিবের লো ব্লাড সুগার হলেও কিন্তু তা সবার আগে টেয় পায় চারপেয়ে সন্তান। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে শ্বাস-প্রশ্বাস দেখে তা বুঝে যায় কুকুর। এছাড়া শারীরিক পরিবর্তনও বুঝতে পারে ওরা। নিজেদের মতো করে বোঝানোর চেষ্টাও করে। তা বুঝে যদি তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া যায়, তাহলে বড় সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
মৃগীর মতো ভয়ংকর রোগও শনাক্ত করতে পারে কুকুর। মৃগী রোগীদের হঠাৎ করে খিঁচুনি শুরু হয়। মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের কারণে হঠাৎ শরীরের পেশি শক্ত হয়ে যায়। ফলে জ্ঞান হারানো, চোখের অস্বাভাবিক নড়াচড়া, এবং হাত-পা ঝাঁকুনির মত লক্ষণ দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার স্বাভাবিক হয়ে যান রোগী।
দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ুর সমস্যা নারকোলেপসিও শনাক্ত করতে পারে কুকুর। মস্তিষ্কে 'হিপোক্রেটিন' নামক কেমিক্যালের অভাবে এই রোগ হয়। এরা যে কোনও সময় কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়তে পারে। এর দীর্ঘস্থায়ী কোনও প্রতিকার নেই। তবে ওষুধ ও নিয়ম মেনে জীবনযাপন করলে পরিস্থিতি আয়ত্তে থাকে।
মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন বহু মানুষ। এটি মূলত স্নায়ুঘটিত ব্যধি। এতে মাথার একপাশে তীব্র যন্ত্রণা হয়। সেই সঙ্গে থাকে বমি ভাব। আলো ও শব্দে সমস্যা বাড়ে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর নিজে থেকেই কমে যায় যন্ত্রণা। গবেষণা বলছে, মাইগ্রেনের সমস্যাও আগে থেকে বুঝতে পারে কুকুরেরা।
মালিক কোনও কারণে উদ্বিগ্ন বা মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে তাও কিন্তু সহজেই বুঝতে পারে সারমেয়। আসলে ওরা প্রতিমুহূর্তে শরীরী ভাষার পরিবর্তন নজরে রাখে। আর যে কেউ উদ্বিগ্ন থাকলে তা সহজেই তার আচরণ, কথা বলার ধরণে ফুটে ওঠে। ফলে সহজেই মনের কথা বুঝে নেয় ওরা। তবে নিজে বুঝলেও সবটা বোঝাতে পারে না চারপেয়েরা। তার জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 07:49 PM Apr 06, 2026Updated: 07:49 PM Apr 06, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
