Advertisement
সপ্তাহান্তের লোভনীয় খাবারের ফাঁদেই বাড়ছে পেটের মেদ! ব্যালেন্স করবেন কীভাবে?
অনেকেই মনে করেন সপ্তাহের পাঁচদিন নিয়ন্ত্রিত খাবার আর শরীরচর্চা করলেই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন। সপ্তাহের শেষে একটু বেশি খাওয়া, দেরিতে রাতের খাবার, বাইরে খাওয়া বা কম শারীরিক পরিশ্রম—এই ছোট ছোট পরিবর্তনই ধীরে ধীরে ওজন বাড়ার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সপ্তাহের দিন আর সপ্তাহান্তের এই জীবনযাত্রার পার্থক্যই এখন নগর জীবনে ওজন বৃদ্ধির একটি নীরব কারণ হয়ে উঠছে।
শহুরে জীবনে অনেকের সপ্তাহ শুরু হয় একটি নির্দিষ্ট রুটিন দিয়ে। সকালবেলা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়া, সময়মতো অফিস যাওয়া এবং সন্ধ্যায় কিছুটা শরীরচর্চা—এই সবই একটি নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের অংশ। এই অভ্যাস অনেকের কাছে স্বাস্থ্যকর জীবনের প্রতীক বলেই মনে হয়। ফলে সপ্তাহের পাঁচদিন তারা মনে করেন সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।
কিন্তু সপ্তাহান্ত এলেই সেই নিয়ম অনেক সময় ভেঙে যায়। বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে বাইরে খাওয়া, দেরি করে রাতের খাবার, ফাস্ট ফুড বা মিষ্টি পানীয়—এসব যেন সপ্তাহান্তের আনন্দের অংশ হয়ে ওঠে। অনেকেই ভাবেন দুদিন একটু বেশি খাওয়ায় তেমন সমস্যা নেই। কিন্তু শরীরের ক্যালরির হিসাব এত সহজভাবে কাজ করে না।
ওজন নিয়ন্ত্রণের মূল বিষয় হল মোট ক্যালরির ভারসাম্য। অর্থাৎ, পুরো সপ্তাহে শরীর যত ক্যালরি গ্রহণ করছে এবং যত ক্যালরি খরচ করছে তার মধ্যে ভারসাম্য থাকা দরকার। যদি সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করা হয়, তাহলে সপ্তাহের দিনগুলোর সংযম অনেক সময় সেই অতিরিক্ত ক্যালরিকে সামাল দিতে পারে না।
অনেকেই মনে করেন সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই ওজন কমার পথে এগোনো যায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সপ্তাহান্তের দু-দিনেই অনেক সময় এত বেশি ক্যালরি গ্রহণ হয় যে পুরো সপ্তাহের হিসাব বদলে যায়। বিশেষ করে বাইরে খাওয়ার ক্ষেত্রে খাবারে লুকিয়ে থাকা অতিরিক্ত তেল, চিনি ও নুনের পরিমাণ বেশ বেশি থাকে।
রেস্তোরাঁর খাবারের আরেকটি বড় সমস্যা হল পরিমাণ। অনেক সময় একটি ডিশই একজন মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ক্যালরি সরবরাহ করে। তার সঙ্গে যদি সফট ড্রিঙ্ক, মিষ্টি পানীয় বা অ্যালকোহল যুক্ত হয়, তাহলে ক্যালরির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। এই বাড়তি ক্যালরির হিসেবটা আমরা বুঝতেই পারি না।
খাবারের পাশাপাশি জীবনযাত্রার আরেকটি পরিবর্তনও সপ্তাহান্তে দেখা যায়—শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাওয়া। অনেকেই সপ্তাহের দিনগুলোতে হাঁটা বা জিমে যাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখলেও সপ্তাহান্তে সেই রুটিন ভেঙে যায়। দীর্ঘ সময় টিভি দেখা, মোবাইল ব্যবহার করা বা বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
যখন বেশি ক্যালরি গ্রহণের সঙ্গে কম শারীরিক পরিশ্রম যুক্ত হয়, তখন শরীর অতিরিক্ত শক্তিকে চর্বি হিসেবে জমা করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই জমে থাকা চর্বি বিশেষ করে পেটের আশপাশে জমতে থাকে। পেটের মেদ শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, এটি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও অন্যান্য বিপাকীয় রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়।
মানবদেহের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম নিয়মিত অভ্যাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। অনিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া, দেরি করে রাতের খাবার খাওয়া বা ঘুমের সময়ের পরিবর্তন শরীরের বিভিন্ন হরমোনকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে খিদে নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন দেখা দেয়।
বিশেষ করে দেরি করে রাতের খাবার খাওয়া শরীরের গ্লুকোজ বিপাকের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের শক্তির ব্যবহার ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়াও বদলে যায়। এর ফলে মানুষ বেশি খিদে অনুভব করেন এবং পরের দিন অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 08:48 PM Mar 08, 2026Updated: 08:48 PM Mar 08, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
