Advertisement
ইতিহাস সাক্ষী, বারবার ঘুরে দাঁড়াতে জানে ইস্টবেঙ্গল! ক্লাবের গরিমা ফিরিয়ে গর্বিত অস্কার-ইউসেফরা
অগণিত সমর্থকদেরই যেন বারবার কুর্নিশ জানালেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার থেকে কোচেরা।
তারে ধরি ধরি মনে করি...। কিন্তু সেই বহু কাঙ্ক্ষিত ট্রফির থেকে দূরত্ব ঘুচছিল না কিছুতেই। কখনও স্পনসর সমস্যা। তো কখনও টিমের দুর্বল পারফরম্যান্স। 'আইএসএল' সুন্দরীকে যেন দূর থেকে দেখাই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু অদম্য জেদ, হার না মানা মনোভাব আর পরিশ্রমের ফল যে কতখানি মধুর হতে পারে, তা আজ বুঝিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল।
এই জয় আজ সেই আট থেকে আশির, যাঁরা প্রবল হতাশা ও ব্যর্থতাতেও লাল-হলুদ জার্সিটা গা থেকে নামিয়ে রাখেনি। আজ সেই অগণিত সমর্থকদেরই যেন বারবার কুর্নিশ জানালেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার থেকে কোচেরা। জয়ের পর মাঠের পরিবেশ দেখে উচ্ছ্বসিত দলের জয়সূচক গোল করা রশিদ। বলেন, "দারুণ পরিবেশ। সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। সবকিছুই আজ ওদের জন্যই।"
পদ্মাপাড়ের ট্রফিজয়ের স্বপ্ন পূরণ করার জাদুকর অস্কার ব্রজো এদিন আবেগে ভাসলেন। লাল-হলুদের ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে কোচ বলেন, "ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিলাম। তবে কঠিন সময়ে জয়ের মানসিকতা, দৃঢ়তা আর প্রতিরোধের মধ্যে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। ইস্টবেঙ্গলের তো এটাই ইতিহাস। বারবার ঘুরে দাঁড়াতে জানে তারা। এটাই ইস্টবেঙ্গলের ঐতিহ্য। আজ আবারও ইতিহাস তৈরি করলাম আমরা।"
লিগের প্রথম থেকে নজর কেড়েছিলেন ইউসেফ এজ্জেজারি। ১১টি গোল করে জিতে নিয়েছেন সোনার বুট। আবেগাপ্লুত স্প্যানিশ-মরোক্কান ফরোয়ার্ড বলেন, "চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। সোনার বুট পেয়েছি। এর থেকে ভালো মুহূর্ত আর কী হতে পারে। দারুণ লাগছে। ২২ বছর পর আমরা এটা করে দেখালাম। আমার উপর আস্থা রাখার জন্য দলকে ধন্য়বাদ।"
উচ্ছ্বাস প্রকাশের ভাষা হারিয়েছেন মহেশ সিং নাওরেম। সতীর্থ, সমর্থকদের সঙ্গে সেলিব্রেশনের মাঝেই বলেন, "অনেক বছরের পরিশ্রমের পর এই জয়। আগামী বছরও ভালো খেলার চেষ্টা করব।" বহু ঝড়ঝাপ্টা পেরিয়ে ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন আনোয়ার আলি। চ্যাম্পিয়ন হয়ে চোখের কোণ যেন চিকচিক করছে তাঁর। বলে দিচ্ছেন, "জীবনে এমন মুহূর্তের সাক্ষী হইনি। ইস্টবেঙ্গল আমার পরিবার। এই দলের হয়ে খেলতে পারায় আমি গর্বিত।"
দেশের সেরা লিগ জয়ের থেকে ২২ বছর বঞ্চিত ছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রতি মরশুমে একবুক প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে গিয়ে দলের জন্য গলা ফাটিয়েছেন সমর্থকরা। কিন্তু মরশুম শেষে জুটেছে কেবলই প্রতিপক্ষের কটাক্ষ। অবশেষে পালাবদল। ইস্টবেঙ্গলে এল আইএল ট্রফি। সমর্থকরা পাশে ছিল বলেই সবটা সম্ভব হয়েছে। বলছেন সৌভিক।
লাল-হলুদ তারকা বলে দিচ্ছেন, "ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা এতদিন অপেক্ষা করেছিল। অনেক লাঞ্ছনা সহ্য করেছে ইস্টবেঙ্গল। যেগুলো হয়তো প্রাপ্যও ছিল না। তবে এই জয় সমর্থকদেরই। আমরা শুধু নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি যে আমরা এই ট্রফি ক্লাবকে এনে দিতে সাহায্য করতে পেরেছি। আশা করছি আগামীতেও ইস্টবেঙ্গল নিজের গরিমা ধরে রাখবে।"
কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে ফুটবলারদের হাতে ট্রফি তুলে দেন ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। উপস্থিত ছিলেন আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। স্টেডিয়াম থেকে ট্রফি পৌঁছে যাবে ক্লাবে। শুক্রবার বিকেলে সকলের জন্য খুলে দেওয়া হবে লাল-হলুদ গেট। সমর্থকদের সঙ্গে মশাল জ্বালিয়ে সেলিব্রেট করার জন্য হাজির হবেন ফুটবলার-কোচ-সহ গোটা ক্লাব।
Published By: Sulaya SinghaPosted: 12:37 AM May 22, 2026Updated: 01:09 AM May 22, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
