Advertisement
প্রকৃতির অপার বিস্ময়! গাছের পেটের ভিতরে আস্ত জলাধার, রয়েছে এদেশেও
পত্রহীন ডালপালা দেখে বাইরে থেকে বোঝার কোনও উপায় নেই যে ভেতরে রয়েছে লিটার লিটার পানযোগ্য জল।
প্রকৃতি বিস্ময়ের অপার খনি। মানুষ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের মেলবন্ধনে অনেক অসাধ্য সাধন করেছে। কিন্তু আজও প্রকৃতির নানা লীলা তাকে বিস্ময়ে বিমূঢ় করে দেয়। তেমনই এক আশ্চর্য প্রাকৃতিক 'ম্যাজিক' হল গাছের শরীরে জল সংরক্ষণ! থর মরুভূমি থেকে তামিলনাড়ু, এদেশের প্রখর গ্রীষ্মেও নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সক্ষম এই সব গাছ। যাদের পেটের ভিতরে আস্ত জলাধার।
সম্প্রতি এক ভাইরাল ভিডিও নতুন করে এই বিচিত্র গাছেদের কথা ভাসিয়ে তুলেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গাছের পেট কেটে ফেলতেই ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে জল! অমসৃণ ছাল, পত্রহীন ডালপালা দেখে বাইরে থেকে বোঝার কোনও উপায় নেই যে এর ভেতরে রয়েছে লিটার লিটার পানযোগ্য জল। এই প্রজাতির নাম 'টার্মিনালিয়া টোমেনটোসা'।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর নানা নাম। যথা- সাজ, আসান, মারুথাম, আইন। এ এমন এক বৃক্ষগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত যারা তাদের কাণ্ড, শিকড় বা কলার ভিতরে জল সঞ্চয় করে খরার মধ্যেও টিকে থাকে। ভারতের শুষ্ক পর্ণমোচী বনভূমি, পাথুরে পাহাড়ের ঢাল এবং মরু অঞ্চলজুড়ে এমন বেশ কিছু প্রজাতির গাছ দেখা যায় যারা টিকে থাকার জন্য একই কৌশল অবলম্বন করে।
বর্ষাকালে জল সঞ্চয় করে এরা। এবং তীব্র দাবদাহের সময় তা ধীরে ধীরে খরচ করে। কোনও কোনও গাছের কাণ্ড বোতলের মতো আকৃতি ধারণ করে ফুলে ওঠে। আবার কোনও কোনও গাছ তাদের সঞ্চিত জল নরম কাঠের ভেতরে লুকিয়ে রাখে। গ্রীষ্মের প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে এই অসামান্য কৌশলে লুকিয়ে অদম্য বিস্ময়।
এপ্রসঙ্গে বলা যায় সেমাল বা রেড সিল্ক কটনের কথায়। এদের বিজ্ঞানসম্মত নাম বম্বাক্স সেইবা। শুষ্ক বনাঞ্চলে এই গাছের মতো খুব কম গাছই এমন আধিপত্য বিস্তার করতে পারে! শীতের শেষে, যখন চারপাশের অধিকাংশ গাছপালাকেই নিষ্প্রাণ ও ক্লান্ত দেখায়, তখন পত্রহীন ডালপালা জুড়ে বিশাল সব গাঢ় লাল ফুলে ভরে ওঠা এই বিশাল বৃক্ষ যেন এক অপূর্ব রূপ নিয়ে জেগে ওঠে।
এই ধরনের গাছগুলির মধ্যে অন্যতম 'জিভোটিয়া রটলেরিফর্মিস'। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র ও ওড়িশায় এদের দেখা মেলে। স্থানীয় এই গাছটির কাণ্ড ফ্যাকাশে রঙের। শুষ্ক শরীরের অভ্যন্তরে এরা জল জমিয়ে রাখে। কাণ্ড একবার ধারালো অস্ত্র দিতে কেটে ফেললেই বেরিয়ে আসে পানীয় জল। তবে এই বাণিজ্যিক চাহিদার কারণেই বিভিন্ন অঞ্চলে গাছটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছে।
এই সব গাছকে যা একসূত্রে বেঁধে রাখে, সেটা ‘অভিসারী বিবর্তন’। অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির গাছ যখন একই সমস্যার সমাধানে একই কৌশল অবলম্বন করে। যেসব অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ক্ষণস্থায়ী, সেখানে টিকে থাকার মূল শর্তই হল যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে জল ধরে রাখা। আর সেই কাজটাই অনায়াসে করতে পারে এই গাছেরা। তীব্রতম গ্রীষ্মের দিনেও হয়ে ওঠে বাস্তুতন্ত্রের প্রাণরেখা।
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:03 PM Jun 16, 2026Updated: 08:04 PM Jun 16, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
