Advertisement
অনলাইন গেম থেকে খাবার, টিভি শো, কোন মোহে কোরিয়ান সংস্কৃতির খপ্পরে জেন জি?
কলকাতার কোরিয়ান রেস্তরাঁয় ক্রমশ বাড়ছে ভিড়।
কোরিয়ান লাভ গেমে বুঁদ হয়ে গিয়েছিল তিন বোন। মানসিকভাবে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে ভারতের কথাও সহ্য করতে পারছিল না। দশতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারিয়েছে গাজিয়াবাদের তিন কিশোরী বোন।
যা নিয়ে সর্বত্র চলছে জোর আলোচনা। তবে শুধু এই তিন বোনই নয়। কোরিয়ান সংস্কৃতি যেন গিলে খাচ্ছে গোটা জেন জি-কে। ট্রেন, বাস, মেট্রোয় ইতিউতি তাকালেই দেখা যাচ্ছে মোবাইলে চলা কোরিয়ান ড্রামা। গল্পগুজবের ফাঁকেও বারবার উঠে আসছে কোরিয়ান খাবার, রূপটান সামগ্রী থেকে ত্বক পরিচর্যার কথা।
অনেকেই বলছেন, বিটিএস দিয়ে মূলত কোরিয়ান সংস্কৃতি যেন জায়গা দখল করতে শুরু করে। সারা বিশ্বে তাদের লক্ষ লক্ষ অনুরাগী। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতও। অনুপাতের নিরিখে ধরতে গেলে মহিলা ভক্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি বিটিএসের। আর প্রত্যেক অনুরাগীই হলেন 'বিটিএস আর্মি'।
কিন্তু বিটিএসের কেন এত জনপ্রিয়তা? কারও কারও মতে, বিটিএসের সদস্যরা অত্যন্ত প্রাণচঞ্চল। গান, নাচে সকলের মন জয় সহজেই করতে পারে তাঁরা। তাই স্বাভাবিকভাবেই সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। আবার বিটিএসের গানের প্রতিটি লাইনে থাকে নিজের প্রতি ভালোবাসা, স্বাধীনতার কথা। সেই শব্দও বেশিরভাগ তরুণ তুর্কি মন ছুঁয়ে যেতে বাধ্য। সবমিলিয়ে সহজেই মন দখল করতে সক্ষম বিটিএস।
এবার আসা যাক খাবারের কথায়। সেখানেও নাকি কোরিয়ান খাবারের দাপট ক্রমশ বাড়ছে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে গুগলে নাকি সবচেয়ে বেশি যে খাবারটি সার্চ করা হয়েছে সেটি বিবিমবাপ। আর এই সার্চ তালিকায় একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছে কলকাতা। অর্থাৎ তিলোত্তমার বাসিন্দারা যে কে পপ, কোরিয়ান ড্রামার মতো কোরিয়ান কুইজিনে মজেছে সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।
শুধু ২০২৩ সাল নয়, ২০২১ সালে ভারতের বাজার কাঁপিয়েছে কোরিয়ান নুডলস। হিসাব বলছে সে বছর আনুমানিক ২ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে নুডলস। মাত্র বছর দুয়েকের মধ্যে সে অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি।
এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে কলকাতায় একাধিক কোরিয়ান রেস্তরাঁ তৈরি হয়েছে। যেখানে বহু মানুষ ভিড় জমান। রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের দাবি, যাঁরা খাবার খেতে আসেন, তাঁদের মধ্যেই বেশিরভাগই অল্পবয়সি। মূলত ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সিরা এই খাবারের প্রেমে মজে।
কে বিউটি এবং কে ফ্যাশনের শব্দগুলির সঙ্গেও আজকাল অনেকেই অভ্যস্ত। রূপটান শিল্পীদের অনেকেই বলছেন, কে বিউটি অর্থাৎ রূপটান সামগ্রীগুলি বহু অল্পবয়সি ব্যবহার করেন। এভাবেই নাকি আরও সুন্দর হয়ে উঠবেন, এই আশায় এসব সামগ্রী কিনছেন।
কে বিউটির কথা বললেই 'গ্লাস স্কিনে'র কথা মাথায় আসে সকলের। মূলত বিটিএস তারকাদের দেখেই 'গ্লাস স্কিনে'র প্রতি ঝোঁক বাড়ছে জেন জি-র। শারীরিক নানা খুঁত ঢাকতে এভাবে ত্বকের যত্ন করার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। যদিও রূপটান বিশেষজ্ঞদের মতে, তা সম্ভব নয়। কারণ, ভারতীয় এবং কোরিয়ানদের ত্বকের অনেক তফাৎ। তাই কোরিয়ানদের মতো ভারতীয়রা কিছুতেই 'গ্লাস স্কিন' পাওয়া সম্ভব নয়।
Published By: Sayani SenPosted: 08:57 PM Feb 05, 2026Updated: 08:58 PM Feb 05, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
