Advertisement
গ্রামের পর গ্রাম শ্মশান, 'বাংলা বলায়' খুন হাজার হাজার নিরীহ নাগরিক! চর্চায় ইন্দিরা জমানার 'নৃশংসতম' গণহত্যা
কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বেশ কয়েকটি গ্রাম। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল শ'য়ে শ'য়ে ঘরবাড়ি। তৎকালীন সময়ে স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে বড় গণহত্যা ছিল এটি।
অসমের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নেলি গণহত্যা। অভিযোগ, স্রেফ বাংলা বলার 'অপরাধে' মাত্র কয়েক ঘণ্টায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় হাজার হাজার বাঙালিকে। অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের।
অসমের মাটি থেকে বাঙালিদের তাড়াতে ৮০-র দশকে ফুঁসে উঠেছিল অসমের বাসিন্দারা। বাঙালি অধ্যুষিত নেলি-সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে অভিযান চালিয়ে একরাতে ২০০০ থেকে ৩০০০ বাঙালিকে হত্যা করেছিল দুষ্কৃতীরা।
আসামের তৎকালীন নগাঁও জেলার (বর্তমানে মরিগাঁও) নেলি অঞ্চলে ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ সালে ঘটে গিয়েছিল এক 'পরিকল্পিত গণহত্যা' । একবেলার মধ্যে গুলি করে, কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল তিন হাজারেরও বেশি বাংলাভাষী মুসলমানকে। বেসরকারি মতে মৃতের সংখ্যা অবশ্য ১০ হাজারেরও বেশি।
কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বেশ কয়েকটি গ্রাম। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল শ'য়ে শ'য়ে ঘরবাড়ি। যত্রতত্র ছড়িয়ে দেহাংশ। অবশিষ্ট ছিল না সৎকার করার লোকও। সেই সময়ের ইতিহাসে নেলিই ছিল স্বাধীন ভারতের জঘন্যতম নরসংহারের ঘটনা।
৪৩ বছর পর অবশেষে সেই গণহত্যার রিপোর্ট পেশ করার উদ্যোগ নেয় অসম সরকার। সবটাই অবশ্য রাজনীতির স্বার্থে। ভাষার জন্য বাঙালি মুসলিমদের গণহত্যা। সেই নারকীয় রিপোর্ট আজকের বিজেপিকে সুবিধা দিতে পারে বলেই মনে করছে গেরুয়া শিবির।
অসমের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নেলি গণহত্যা। ইতিহাস বলে, আহম রাজবংশের পর ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে আসে অসম। সেই সময় বাংলা ও বিহার থেকে চা শ্রমিকদের এনে এখানে নিয়োগ করেছিল ব্রিটিশরা। অসম সীমান্তবর্তী বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাঁরা ভোটাধিকারও পান। ১৯৮৩ সালে অসমে বিতর্কিত নির্বাচনের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ৪০ লক্ষ বাংলাভাষী মুসলিমকে ভোটাধিকার দেওয়ার পর স্থানীয় বাংলাভাষী মুসলিমদের উপর চরম ক্ষোভ তৈরি হয় অহমীয়া ভূমিপুত্রদের।
আসলে আটেরর দশকে এই বাঙালিদের রাজ্যছাড়া করতে সার্বিকভাবেই অসমজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন। যার পোশাকি নাম 'বঙ্গাল খেদাও'। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (AASU)। দাবি ছিল, এই বাঙালিদের অসমের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এই দাবিতে নির্বাচন বয়কট করে AASU। কিন্তু সেসব উপেক্ষা করেই মুসলিমদের ভোটাধিকার দেন ইন্দিরা গান্ধী
সেটারই ফলশ্রুতি ওই নেলি গণহত্যা। ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতের অন্ধকারে হামলা চালায় আততায়ীরা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। কার্যত শ্মশানে পরিণত হয় একাধিক গ্রাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে নির্মম গণহত্যারও তকমা পেয়েছিল নেলি গণহত্যাকাণ্ড। দেশভাগ-পরবর্তী ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে মারাত্মক গণহত্যা হিসাবেও বিবেচিত হয় সেই ঘটনা।
Published By: Subhajit MandalPosted: 05:07 PM Feb 22, 2026Updated: 05:10 PM Feb 22, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
