Advertisement
ছাঁটাই তালিকায় নির্মলা-পুরী, স্ক্যানারে রাজনাথও! মোদি মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ কারা?
বাংলা থেকে কেউ মন্ত্রী হচ্ছেন কি? কবে নতুন মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা?
সদ্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃতীয় মেয়াদের দু’বছর পূর্ণ করেছেন। বিজেপির অতীতের রীতি বলছে, মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দু’বছর পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়। তাছাড়া নীতীন নবীন বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর পাঁচমাস কেটে গেলেও তাঁর নতুন ‘টিম’ তৈরি হয়নি। বিজেপি সূত্র বলছে, এবার মন্ত্রিসভার রদবদল এবং বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল দুটো হবে একে অপরের সঙ্গে সাযুজ্য বজায় রেখে।
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু আগামী ২০ জুলাই থেকে। তার আগেই মন্ত্রিসভায় রদবদল চূড়ান্ত করে ফেলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শোনা যাচ্ছে, অন্তত ৭-৮ জন সাংসদ নতুন করে মন্ত্রী হতে পারেন। প্রত্যাশিতভাবেই মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের উপর ছাঁটাইয়ের খাঁড়া ঝুলছে। সেই তালিকায় একেবারে শীর্ষস্তরের বিজেপি নেতারাও রয়েছেন। এমনকী প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজনদের নামও শোনা যাচ্ছে।
কাদের উপর ছাঁটাইয়ের খড়্গ? এই তালিকায় সবার প্রথম নাম হরদীপ সিং পুরীর। শোনা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ওই সদস্যের উপর আস্থা হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বয়স হয়েছে। কেন্দ্র চাইছে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের আরও বেশি করে তুলে আনতে। তাছাড়া পুরীর নামের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে এপস্টিন ফাইলস বিতর্ক। যদিও বিজেপির দাবি পুরীর ছাঁটাইয়ের সঙ্গে এপস্টিনের কোনও সম্পর্ক নেই। তরুণ নেতাদের সুযোগ দিতেই তাঁকে ছাঁটাই করা হতে পারে।
ছাঁটাই তালিকায় নাম রয়েছে নির্মলা সীতারমণের। এমনিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আস্থাভাজন। কিন্তু সরকার মনে করছে আগামী দিনে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে অর্থনীতি। তাই অর্থমন্ত্রক সামলাতে কোনও বিশেষজ্ঞকে আনা হতে পারে। নির্মলাকে অর্থমন্ত্রক থেকে সরিয়ে শিক্ষামন্ত্রী করা হতে পারে বলে একটি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। আবার কোনও কোনও সূত্রে বলা হচ্ছে, অর্থমন্ত্রীকে দক্ষিণ ভারতে বড় কোনও সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
অর্থমন্ত্রকে 'বিশেষজ্ঞ' মন্ত্রী হিসাবে ভেসে আসছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের নাম। আপাতত তিনি প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করছেন। শক্তিকান্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আস্থাভাজন। অতীতে জয়শঙ্করের মতো আমলাকে বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই পথে হেঁটেই শক্তিকান্ত দাসকে আনা হতে পারে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ছাঁটাই তালিকায় নাম রয়েছে রাজনাথ সিংয়েরও। আসলে রাজনাথ সেই ২০১৪ থেকে মন্ত্রী। তার আগে বিজেপির সভাপতি ছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছে। তাছাড়া তাঁর দুই সন্তানই এখন বিজেপির রাজনীতিতে সক্রিয়। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির অভিযোগ তোলারও জায়গা পাচ্ছে বিরোধীরা। যদিও রাজনাথকে সরানোটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ সেটা জানেন মোদি-শাহ। সেক্ষেত্রে তাঁকে কোনও রাজ্যের রাজ্যপাল করা হতে পারে।
এর বাইরে ছাঁটাইয়ের খাঁড়া ঝুলছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের উপরও। তবে তিনি সংঘের পছন্দের লোক। মোদি-শাহেরও ঘনিষ্ঠ। নিতান্তই যদি তাঁকে সরানো হয় তাহলে অন্য কোনও মন্ত্রকে পাঠানো হতে পারে। বা বিজেপির সংগঠনে বড় কোনও পদ দেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই কেরলের জর্জ কুরিয়েন, পাঞ্জাবের রবনীত সিং বিট্টুর মন্ত্রিত্ব যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
নতুন যারা মন্ত্রী হতে পারেন, তাঁদের মধ্যে নাম শোনা যাচ্ছে অভিনেতা সাংসদ অরুণ গোভিলের। পর্দায় দীর্ঘদিন রামের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। মন্ত্রিসভায় ঢুকে যেতে পারেন, বাংলায় তৃণমূল শিবিরে ভাঙন ধরানো কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। শিব সেনার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাউকে মন্ত্রী করা হবে বলেও খবর। পাঞ্জাবে আপে ভাঙন ধরানো রাঘব চাড্ডার নামও শোনা যাচ্ছে।
Published By: Subhajit MandalPosted: 07:56 PM Jul 08, 2026Updated: 07:56 PM Jul 08, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
