Advertisement
বর্ষায় অফিসই কি সংক্রমণের 'হটস্পট'? সুস্থ থাকতে কী করবেন?
অফিসে পৌঁছেই যদি বারবার হাঁচি-কাশির শব্দ কানে আসে, অবাক হওয়ার কিছু নেই। বর্ষায় ভিড়েঠাসা ট্রেন-বাস বা লিফট, সারাক্ষণ এসি ঘরে কাজ, শেয়ার করা ডেস্ক, কিবোর্ড, মাউস ও প্যান্ট্রি—সবই জীবাণু ছড়ানোর আদর্শ জায়গা হয়ে উঠতে পারে। একজন সহকর্মীর সর্দি-কাশি বা অন্য সংক্রমণ অল্প সময়েই ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো টিমে। তার উপর ভেজা জামাকাপড়, আর্দ্র আবহাওয়া ও কম বাতাস চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তাই এই সময়ে অফিসকর্মীদের বাড়তি সতর্ক থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
হঠাৎ জ্বর, গায়ে ব্যথা? বর্ষায় সবচেয়ে বেশি ছড়ানো ভাইরালগুলির একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা। কাশি, হাঁচি, কাছাকাছি বসে কাজ করা বা বন্ধ মিটিং রুমে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। হঠাৎ জ্বর, শরীর ও গলা ব্যথা, কাশি ও তীব্র ক্লান্তি এর প্রধান লক্ষণ। নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস, অসুস্থ হলে অফিসে না যাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ফ্লু টিকা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।
কোভিড এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা বা ক্লান্তি দেখা দিলে সতর্ক থাকুন। পাশাপাশি ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠাও অফিসে দ্রুত ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি ব্যবহৃত জিনিস ছুঁয়ে, পরে চোখে হাত দিলেই সংক্রমণ হতে পারে। চোখ লাল হওয়া, জল পড়া, জ্বালা—এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং অন্যদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
অফিস ক্যান্টিন, শেয়ার করা খাবার বা দূষিত জল থেকেও পেটের সংক্রমণ হতে পারে। ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথা, জ্বর এবং শরীরে জলের ঘাটতি এই রোগের সাধারণ লক্ষণ। খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধোয়া, বাসি খাবার এড়ানো, নিরাপদ জল পান করা এবং অফিসের রান্নাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসাবধানতাও কয়েক দিনের ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
অনেকে সাধারণ সর্দিকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং অফিসে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শেয়ার করা কিবোর্ড, ফোন, দরজার হাতল বা কাছাকাছি বসে কাজ করার মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, নাক বন্ধ ও হালকা কাশি এর লক্ষণ। কাশি-হাঁচির সময় মুখ ঢাকুন, খাবার আগে হাত ধুয়ে নিন এবং নিজের ডেস্ক পরিষ্কার রাখুন।
বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়া ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য আদর্শ। দীর্ঘক্ষণ ভেজা জুতো বা মোজা পরে থাকলে পায়ের ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে। চুলকানি, লালচে দাগ, চামড়া ওঠা বা গোলাকার র্যাশ দেখা দিতে পারে। অফিসে পৌঁছেই ভেজা মোজা বদলে ফেলুন, পা শুকনো রাখুন এবং অন্যের তোয়ালে বা ব্যক্তিগত জিনিস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ। শুধু শিশু নয়, প্রাপ্তবয়স্করাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে বাড়িতে ছোট শিশু থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। জ্বর, মুখে ঘা এবং হাত-পায়ে ছোট ছোট র্যাশ এই রোগের প্রধান লক্ষণ। হাত ধোয়া, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানো এবং অফিসে ব্যবহার করা জিনিসপত্র জীবাণুমুক্ত রাখা সংক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
বর্ষায় জল জমা রাস্তা পেরিয়ে অফিসে যাওয়ার সময় লেপ্টোস্পাইরোসিসের ঝুঁকি থাকে। ইঁদুরের মূত্রে দূষিত জলের সংস্পর্শে এলে এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ হতে পারে। জ্বর, মাথাব্যথা, চোখ লাল হওয়া এবং বিশেষ করে পায়ের পেশিতে তীব্র ব্যথা এর লক্ষণ। জল জমা রাস্তা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন এবং এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বর্ষায় অফিসে সুস্থ থাকতে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নিজের ডেস্ক ও মোবাইল পরিষ্কার রাখা, ভেজা জুতো-মোজা দ্রুত বদলে ফেলা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস ও জল পান এবং ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া বা অন্য কোনও সংক্রামক উপসর্গ থাকলে অফিসে না গিয়ে বাড়িতে বিশ্রাম নিন। আপনার সচেতনতাই সহকর্মীদেরও নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 05:10 PM Aug 05, 2026Updated: 05:10 PM Aug 05, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
