Advertisement
বর্ণবৈষম্যের শিকার 'পঞ্চায়েত' খ্যাত বিনোদ, ঢুকতে বাধা মন্দিরেও, নিজের গ্রামেই কোণঠাসা অভিনেতা!
নিজের গ্রাম কর্ণাটকে এখনও জাতিভেদের বিভাজন বিদ্যমান আর সেই কঠোর বাস্তবকে সঙ্গী করেই ছোট থেকে বড় হয়েছেন বিনোদ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জীবনের আর কোন কঠিন বাস্তব তুলে ধরলেন নতুন সচিবজি?
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইমের জনপ্রিয় সিরিজের মধ্যে অন্যতম 'পঞ্চায়েত'। চারটি পর্বই দর্শকমহলে দারুণ সাড়া ফেলেছে। পঞ্চম ভাগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষারত এই সিরিজের দর্শক। 'পঞ্চায়েত ৩'এ অভিনয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন অভিনেতা বিনোদ সূর্যবংশী। নতুন সচিবজির ভূমিকায় বিনোদে মজে দর্শক।
কর্ণাটকে শৈশবের চরম দারিদ্র এবং জাতিগত বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন বিনোদ। সেখানেই ছেলেবেলার সেই 'অভিশপ্ত' দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে যেন শব্দগুলো গলার কাছে দলা পাকিয়ে আসছিল। নিজের গ্রাম কর্ণাটকে এখনও জাতিভেদের বিভাজন বিদ্যমান এবং সেই কঠোর বাস্তবকে সঙ্গী করেই ছোট থেকে বড় হয়েছেন বিনোদ।
বিনোদ বলেন, "কর্ণাটকে আমার গ্রাম আর সেখানে এখনও জাতি বৈষম্য বিদ্যামান। গ্রামটি দ্বিধাবিভক্ত, একটি অংশ উচ্চবর্ণের আরেকটি নিম্নবর্ণের জন্য। দলিতরা থাকত সম্পূর্ণ অন্য একটি জায়গায়, যেটা গ্রাম থেকে একদম আলাদা। বাবার হাত ধরে সেই গ্রামে পৌঁছানোর পর কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল নতুন সচিবজির?
পুরনো দিনগুলোতে ফিরে গিয়ে বলেন, "একবার আমি বাবার সঙ্গে গ্রামে গিয়েছিলাম তখন আমার বয়স মাত্র বারো বছর। আমরা যে হোটেলে খেয়েছিলাম সেখানে নিজের খাওয়ার প্লেট নিজেকেই ধুতে হয়েছিল। তবুও খাবারের দামে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। এখনও এমন একটি মন্দির আছে যেখানে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয় না।"
অর্থকষ্টের কথা বলতেও বিন্দুমাত্র সংকোচবোধ করেননি বিনোদ। উৎসবের মরশুমে সকলে যখন আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠত তখন তাঁর পরিবারের সদস্যরা ডুকরে কাঁদতেন। নতুন সচিবজি বলেন, "আমি প্রায়ই আমার বাবা-মাকে কাঁদতে দেখেছি। উৎসব এলে আমি ভাবতাম কেন এই দিনগুলো আসে! দীপাবলি কেন আসে!"
বিনোদ কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে আরও বলেন, "উৎসবের দিনগুলো আমাদের জন্য ছিল আরও কষ্টকর। অন্যদের মতো উদযাপন করতে পারতাম না। আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, অন্যের দয়াতেই আমাদের উদযাপন নির্ভর করত।"
জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে কীভাবে দিন গুজরান করতেন বিনোদ সূর্যবংশী? ছোটখাটো কাজ করেই কোনওক্রমে দিন কাটাতেন অভিনেতা। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম কাজ করতেন। বাদ যায়নি প্রহরীর কাজও। কঠোর পরিশ্রমের ফলে পায়ে ফোসকা পর্যন্ত পড়ে যেত বিনোদের।
বিনোদের সংযোজন, "এই অভিজ্ঞতাই শিখিয়েছে কাজের ভিত্তিতেই মানুষের সম্মানের বিচার করা হয়। সকলের একটা বদ্ধপরিকর ধারণা আছে, যত বড় কাজ তত বেশি সম্মান।" 'পঞ্চায়েত' সিরিজ বিনোদকে সম্মানের উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে তা বললে অত্যুক্তি হবে না।
বিনোদের অভিনয় কেরিয়ার শুরু হয়েছিল 'পরী' আর 'সত্যমেব জয়তে'-এর মতো ছবিতে ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। ২০২৪ সালে তিনি 'পঞ্চায়েত' সিরিজে নতুন সচিবজির চরিত্রে অভিনয়ে দর্শকমহলে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। সেই বছরই 'ইয়ে কালি কালি আঁখে' সিরিজে পুলিশ অফিসারের চরিত্রেও নজর কাড়েন।
সিরিজের পাশাপাশি সিনেমাতেও বিনোদ সূর্যবংশীর অভিনয় প্রশংসিত। 'জলি এলএলবি ৩' ও 'থাম্মা'র মতো সফল ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেন। এক্ষেত্রে একটা কথা না বললেই নয়, 'পঞ্চায়েত' সিরিজেই ভাগ্যবদল বিনোদের। অভিনয় জীবনের শুরুতেও বহুবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। কালো চামড়ার জন্য বহু অডিশন থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। চেহারার কারণে একটি চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পরেও শেষ মুহূর্তে ছিটকে গিয়েছিলেন বিনোদ সূর্যবংশী।
Published By: Kasturi KunduPosted: 05:42 PM Apr 26, 2026Updated: 06:01 PM Apr 26, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
