Advertisement
পিছনে ইন্দিরা গান্ধী-জ্যোতি বসুরা, সরকারের প্রধান পদে নয়া রেকর্ড মোদির, কবে ছুঁতে পারবেন নেহরুকে?
মোদি ফের প্রধানমন্ত্রীর কুরসিতে বসলে নেহেরুর রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ থাকবে তাঁর কাছে। সবটাই অবশ্য এখন কালের গর্ভে।
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইতিমধ্যেই একাধিক নজির গড়েছেন নরেন্দ্র মোদি। ভারতের স্বাধীনতার পর জন্মগ্রহণ করা প্রথম প্রধানমন্ত্রী তিনি। প্রথম অকংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে কুরসিতে থাকার নজিরও রয়েছে। এছাড়াও অহিন্দিভাষী রাজ্য থেকে আসা নেতা হিসাবেও দীর্ঘতম সময় প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়েছেন তিনি।
একমাত্র অকংগ্রেসি নেতা হিসাবে টানা দুই দফা প্রধানমন্ত্রিত্ব পূর্ণ করেছেন। লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া একমাত্র অকংগ্রেসি হিসাবেও নজির গড়েছেন মোদি। এখন নিজের প্রধানমন্ত্রিত্বের তৃতীয় মেয়াদে তিনি। আর তৃতীয় কার্যকালের মাঝেই এক অভাবনীয় রেকর্ড গড়ে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী।
সবচেয়ে বেশিদিন কোনও নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসাবে রেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ২৪ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় আসীন মোদি। তিনি পিছনে ফেললেন সিকিমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিংকে। এই তালিকায় তৃতীয় ওড়িশার নবীন পট্টনায়েক, চতুর্থ বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু।
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোদি। ২০১৪ সালের ২১ মে পর্যন্ত ওই পদে আসীন ছিলেন তিনি। এর পর, ২০১৪ সালের ২৬ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। তারপর থেকে এখনও প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন মোদি। প্রায় ১৩ বছর তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এদিকে প্রায় ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে। সব মিলিয়ে ৮ হাজার ৯৩১ নির্বাচিত সরকারের প্রধান পদে কাটিয়ে ফেলেছেন মোদি।
নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসাবে মোদি টপকে গেলেন সিকিমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিংকে। তিনি পরপর পাঁচবার সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৯৪-এর ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯-এর ২৭ মে, টানা ২৪ বছরের বেশি সময় রাজ্যের ক্ষমতায় ছিলেন চামলিং। নির্বাচিত সরকারের প্রধান পদে তিনি ছিলেন ৮ হাজার ৯৩০ দিন।
নির্বাচিত সরকারের প্রধান পদে থাকার নিরিখে দেশে তৃতীয় স্থানে নবীন পট্টনায়েক। তিনিও প্রায় ২৪ বছর ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এই তালিকায় চতুর্থ স্থানে বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। নির্বাচিত সরকারের প্রধান পদে ২৩ বছর ১৩৭ দিন ছিলেন তিনি। জ্যোতিবাবু ১৯৭৭-এর ২১ জুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। ২০০০ সালে তিনি স্বেচ্ছায় কুরসি ছেড়ে দেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জন্য। প্রধানমন্ত্রী হওয়ারও সুযোগ ছিল জ্যোতিবাবুর সামনে।
এ তো গেল নির্বাচিত সরকারের প্রধানের হিসাবে। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইতিমধ্যেই একাধিক রেকর্ড ভেঙে ফেলেছেন মোদি। একটানা প্রধানমন্ত্রী থাকার নিরিখে মোদি এখন দ্বিতীয় স্থানে। তাঁর সামনে শুধু জওহরলাল নেহেরু। ইতিমধ্যেই টানা প্রধানমন্ত্রী থাকার নিরিখে ইন্দিরা গান্ধী, মনমোহন সিং, অটলবিহারী বাজপেয়ীদের মতো বিশ্ববরেণ্য নেতাদের টপকে গিয়েছেন তিনি। মোদি ১২ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে। ইন্দিরা ওই পদে টানা ছিলেন ১১ বছর ৫৯ দিন।
টানা প্রধানমন্ত্রী থাকার নিরিখে এখনও মোদির সামনে নেহেরু। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৬৪ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওহরলাল নেহরু। একটানা ১৬ বছর ২৮৬ দিন প্রধানমন্ত্রীর পদে ছিলেন তিনি। নেহরুর পর দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির ইন্দিরা গান্ধীর দখলে। দু'দফায় ১৫ বছর ৩৫০ দিন প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন ইন্দিরা। মোদি তালিকায় তৃতীয় স্থানে।
দেশের সবচেয়ে বেশিদিন কুরসিতে থাকা প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইন্দিরা বা নেহেরুর রেকর্ড ভাঙাটা অবশ্য এখনও অনেকটা সময়ের অপেক্ষা। সেজন্য ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনে জিতে ফের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে মোদিকে। নেহরুকে ছাপিয়ে যেতে হলে ২০৩১ সালের মে মাস পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে হবে তাঁকে। ততদিনে মোদির বয়সও আশি পেরোবে। যদিও ২০২৯ সালে বিজেপি জিতলেও মোদিকে আর প্রধানমন্ত্রী করা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবেও সবচেয়ে বেশিদিন পদে ছিলেন মোদি। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ১২ বছর ২২৭ দিন কাজ করেছেন মোদি। গুজরাটের আর কোনও মুখ্যমন্ত্রী টানা ৬ বছরও পদে থাকতে পারেননি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে মোদির এই কৃতিত্ব সত্যিই বিরল। আসলে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিজের রাজ্যকে মডেল করেই কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হন প্রধানমন্ত্রী।
এখন জনপ্রিয়তার নিরিখে গোটা বিশ্বের অন্যতম প্রথম সারির নেতা মোদি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের মতো সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলির নিরিখে বিচার করলে এই মুহূর্তে তিনিই সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রনেতা। তবে মাঝে তাঁর অবসর নিয়েও গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। আরএসএসের অঘোষিত নীতি অনুযায়ী ৭৫ বছর বয়স পেরোলেই সেই নেতাকে অবসরে পাঠানো হয়। যদিও মোদির ক্ষেত্রে সেই নিয়ম শেষমেশ কার্যকর হয়নি।
Published By: Subhajit MandalPosted: 04:48 PM Mar 22, 2026Updated: 04:48 PM Mar 22, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
